শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতকগুলো সামাজিক আদর্শ শেখে।
যে সমস্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সমাজের বিভিন্ন রীতিনীতি ও শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একজন প্রকৃত সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তাকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া বলা হয়। সমাজে আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠি। সমাজ থেকে আমরা যা শিখি সেটা আমাদের সামাজিক শিক্ষা। এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে- সমাজের নিয়মনীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আদর্শ ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মনিরের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার অভাব ফুটে উঠেছে।
পরিবার সামাজিকীকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ হলো পিতামাতা। পিতামাতার স্বতন্ত্র আচরণ ও মূল্যবোধ শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। শিশু তার বাবা-মার কাছ থেকে নৈতিকতা, খাদ্যাভ্যাস, সুশিক্ষা, আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাব প্রভৃতি পেয়ে থাকে। কিন্তু শিশু যখন পরিবারে তার বাবা-মার সঙ্গ পায় না তখনই সে অসামাজিক হয়ে ওঠে। উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে সে হয়ে ওঠে অনৈতিক।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মনিরের বাবা মা তার তেমন খোঁজখবর না রাখায় সে অনৈতিক হয়ে ওঠে। বখাটেদের সাথে মেলামেশা ঝগড়া বিবাদ প্রভৃতিতে জড়িয়ে পড়ে। যা পরিবারের ভূমিকার অভাবকেই নির্দেশ করে। অতএব মনিরের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা ইতিবাচক হওয়া উচিত।
মনিরের সামাজিকীকরণে খেলা ও পড়ার সাথীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, শিশুর সামাজিকীকরণে খেলা ও পড়ার সাথীর ভূমিকা কম নয়। শিশু খেলা ও পড়ার সাথীর সাথে মেলামেশা করে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। ভালোমন্দ গুণাবলির সমালোচনা শুনে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে শেখে।
উদ্দীপকে মনির খেলা ও পড়ার সাথীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করবে এবং ভালোমন্দের গুণাবলির সমালোচনা শুনে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে শিখবে। তবে খেলা ও পড়ার সাথী অনেক সময় শিশুকে বিপথগামী করতে পারে, যা উদ্দীপকের মনিরের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে পরিবারের বাবা-মা ও অন্যান্য সদস্যদের সহানুভূতি এবং সৎ সঙ্গ মনিরকে সামাজিকভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে ভবিষ্যতে মনিরকে খেলা ও পড়ার সাথী নির্বাচনে সচেতন হতে হবে।
Related Question
View Allভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য মা-বাবার বা পরিবারের সদস্যদের কোনো কাজে সহায়তা করা শিশুদের জন্য উপযোগী।
প্রতিবন্ধকতা শিশুর জন্য কাম্য নয়। কারণ প্রতিবন্ধকতা শিশুর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিশুর প্রতি নির্দয় আচরণ শিশুর শারীরিক-মানসিক-নৈতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় মা-বাবার অত্যধিক প্রত্যাশাও শিশুর ওপর এক ধরনের মানসিক পীড়ন তৈরি করে যা শিশুমনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে করে শিশু ক্ষীণ স্বাস্থ্যের অধিকারী ও খিটখিটে মেজাজের হয়।
উদ্দীপকে মোহনের কাজ শিশুশ্রম ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
সাধারণত দরিদ্রতা বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি কোনো শিশু যদি উপার্জন করার জন্য কাজ করতে গিয়ে বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। উদ্দীপকের মোহন তেরো বছর বয়সে জুতার কারখানায় কাজ করে। তার এ শ্রম স্পষ্টতই শিশুশ্রম। আমাদের দেশের শিশুরা বাসাবাড়ির বাইরে বিভিন্ন কলকারখানায় যেমন- চুড়ি, বিড়ি, ব্যাটারি ও জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কারখানায়, লেদ ও ওয়েল্ডিং মেশিনেও কাজ করছে। গাড়ি বা টেম্পুর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে। উদ্দীপকে মোহন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অতএব মোহনের কাজ শিশুশ্রমের ধারণাকে প্রতিফলিঅন্তরে করে ।
উদ্দীপকে মলির কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি যে আচরণ করা হয় তা শিশুশ্রমের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো খাবার, পোশাক ইত্যাদি দিতে হবে যাতে এসব শিশু ভালো পরিবেশে বেড়ে উঠে পরিবার ও সমাজের প্রতি তারা দায়িত্বশীল হয়ে উঠে।
উদ্দীপকে মলির কাজ শিশুশ্রমের পর্যায়ে পড়ে। সাধারণত শিশুরা যেখানে শ্রমিক হয়ে কাজ করে সেসব জায়গায় তারা নানারকম বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু উদ্দীপকের মলি তার কর্মক্ষেত্রে ভালো খাবার খেতে পায়, বেড়াতে যেতে পারে, ঈদের সময় পছন্দের জামা পায়। এসব কর্মকাণ্ড একজন শিশু শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া মলি কাজের অবসরে লেখাপড়ারও সুযোগ পায়। এতে তার মানসিক বিকাশ ঘটে। মলির প্রতি ভালো আচরণের কারণে সে মানবিক গুণসম্পন্ন একজন নাগরিক হয়ে উঠবে। অতএব বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে মলির প্রতি আচরণ প্রশংসনীয়। এরূপ আচরণ প্রতিটি কর্মজীবী শিশুর প্রতি কাম্য। এরূপ আচরণই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শিক্ষা আয়ত্ত করে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাই সামাজিকীকরণ।
ব্যক্তির সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে আদর্শ সামাজিক মানুষে পরিণত করবে। ওর দ্বারা ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ইত্যাদি আয়ত্ত করবে। এতে করে ব্যক্তি যেমন আদর্শ মানুষে পরিণত হবে তেমনি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও তার ভূমিকা সহায়ক হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
