বিংশ শতাব্দীর গল্পে নতুন শৈলীর জনক হুমায়ূন আহমেদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী। তাঁর কল্পনাপ্রতিভা ও প্রকাশভঙ্গির নৈপুণ্যে গল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন নিশানাথবাবুর নির্লোভ চরিত্র। যিনি আর্থিক কষ্টে থাকলেও থেকেছেন লোভহীন ও মহৎ।
নিশানাথবাবু একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষক। কষ্ট করে জীবনযাপন করেন। তার কোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। আকস্মিকভাবে আলাউদ্দিনের চেরাগ ও দৈত্য পেয়ে তার সব ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা ব্যবহার করেননি। পেরেক পোতা জুতা দৈত্যকে ঠিক করে দিতে বলেছেন। অথচ তিনি চাইলে দৈত্যকে বলে নতুন ভালো জুতা নিতে পারত।
নিশানাথবাবুর চিকিৎসার জন্য দৈত্য তাকে সোনা বানানো পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি নিতে চান না। অথচ তিনি পরশপাথর দিয়ে সোনা বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ-সম্পদ করে ধনী হতে পারতেন। নিশানাথবাবু একজন নির্লোভ মানুষ। সোনার বালতি পেয়েও তা স্কুলের জন্য দান করেন।
আত্মসম্মানবোধ ও মানবিকতার প্রবল জোর থাকায় তার চরিত্রে মহত্বের প্রকাশ ঘটেছে। তাই তিনি দরিদ্রতার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও অর্থ-সম্পদ পাওয়ার লোভ না করে মনুষ্যত্বের প্রবল শক্তিতে দারিদ্রকে পরাজিত করেছে।
Related Question
View Allনিশানাথবাবুর আর্থিক দুরাবস্থা ও নির্লোভ মানসিকতা দেখে দৈত্য তাকে পরশপাথর দিয়েছিল।
নিশানাথবাবু সাধারণভাবে জীবন-যাপন করেন। তিনি একজন সৎ, সরল ও নির্লোভ মানুষ। নিজের পরিশ্রমও সততার উপর বিশ্বাস রাখেন। আর্থিক দুরাবস্থা থাকলেও লোভ তাকে গ্রাস করে না। গল্পে নিশানাথবাবু দুঃখী ও অভাবী হলেও সহজ ও অলৌকিকভাবে দৈত্যের কাছ থেকে ধন-সম্পদ নিতে চান না। দৈত্য তার এই সততা ও দুরাবস্থা দেখে পরশপাথরের মতো মূল্যবান পাথর দিতে চায়। দৈত্য মনে করে পরশপাথরের মতো দুর্লভ ও মূল্যবান জিনিস একজন সৎ ও নির্লোভমানুষেরই প্রাপ্য। নিশানাথবাবু এমনই একজন মানুষ যিনি এটার সঠিক ব্যবহার করবেন অন্যের ক্ষতিতে নয়।
সততা, ন্যায়নিষ্ঠাবান হওয়ায় দৈত্য পরশপাথর দেওয়ার জন্য নিশানাথ বাবুকে সঠিক লোক মনে করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!