সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাহিত্য রচনার মাধ্যমে আনন্দ লাভ ও আনন্দ দানের বিষয়টির প্রেক্ষিতে বলা যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সাহিত্যজগতে যাঁদের খেলা করবার প্রবৃত্তি আছে, মানুষের নয়নমন আকর্ষণ করার সুযোগ কেবল তাদের কপালেই ঘটে। কারণ সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দেওয়া, কাউকে শিক্ষা দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কথা বলা হয়েছে। তিনি নিজ মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করেন। চারপাশের যেসব মানুষ বা ঘটনা তিনি দেখেছেন, যেসব তাঁকে আনন্দ দিয়েছে সেসবই তিনি সাহিত্যে তুলে ধরেছেন। ফলে তাঁর সৃষ্ট অমর চরিত্রগুলো পেয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা।
উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধ উভয় জায়গায় মনের আনন্দে সাহিত্য রচনার-এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। মনের আনন্দে সাহিত্য রচনা করলে সাহিত্যে যে আনন্দরস সৃষ্টি হয় তা পাঠক-হৃদয়ে সাড়া জাগায়। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্য রচনার মাধ্যমে আনন্দলাভ ও আনন্দ দানের বিষয়টির প্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allরামায়ণ' বাল্মীকি রচনা করেছেন।
সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে 'অতি সস্তা খেলনা' বলতে সেই সাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অতি সহজেই পাঠকের মনোরঞ্জন করে।
লেখকের মতে, সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দ দেওয়া, কারো মনোরঞ্জন করা নয়। সাহিত্য যখন কারো মনোরঞ্জন করে তখন তার মধ্যে আর কোনো আদর্শ থাকে না। তা পরিণত হয় একটি সস্তা খেলনায়। প্রকৃত সাহিত্যিকদের কাছ থেকে এ রকম 'সস্তা খেলনা' জাতীয় সৃষ্টিকর্ম প্রাবন্ধিক প্রত্যাশা করেন না।
উপরের অনুচ্ছেদে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, খেলাধুলার যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, সাহিত্যেরও পিছনে তেমনই আনন্দদান ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়। লেখকের ব্যক্তি-মননের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটবে সাহিত্যে। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যে যখন তত্ত্ব-উপদেশ প্রকাশ পায় বা সাহিত্য যখন জনসাধারণের মনোরঞ্জনের জন্য রচিত হয় তখন তা স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জ্ঞানের কথা আমাদের মনে কোনো আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। যেমন, সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে- এ তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্যোদয়ের যে সৌন্দর্য তা আমাদের মনে আনন্দের জন্ম দেয়। এই আনন্দ সৃষ্টি করা অর্থাৎ সৌন্দর্যলোকের সন্ধান দেওয়াই সাহিত্যের কাজ। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিতার্থে ও সন্তুষ্টির জন্য প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে। উল্লিখিত অনুচ্ছেদে এ বিষয়ই উপস্থাপিত হয়েছে। সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অনুচ্ছেদটিতে যথাযথভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।'
উপরের অনুচ্ছেদে শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের 'শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী' বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়েছে।
সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ অনুযায়ী সাহিত্যের কাজ মানুষের মনকে জাগানো। সেখানে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। অন্যদিকে, শিক্ষা হলো সেই জিনিস যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও মানুষ গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। সেখানে আনন্দ থাকে না, থাকে বাস্তবতার কৌশল। সাহিত্যে থাকে রসের আবেগ ও ব্যক্তি-মনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ। লেখকের এ বক্তব্য প্রমাণ করে, শিক্ষা ও সাহিত্য এক জিনিস নয়। উভয়ের উদ্দেশ্যও ভিন্ন।
উদ্দীপকের অনুচ্ছেদটিতে শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্যকে স্বতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের মর্মার্থ হচ্ছে, শিক্ষণীয়। বিষয় অর্থাৎ জ্ঞানের কথা একবার জানা হয়ে গেলে তা আর জানতে ইচ্ছা করে না বা তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। কিন্তু-সাহিত্য সৃষ্টিকাল থেকে আজও পাঠক-হৃদয়ে সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি জাগিয়ে রেখেছে।
আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করা যায়, শিক্ষা মানুষকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে রাখে এবং তা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকেই বাস্তবায়ন করে। কিন্তু সাহিত্য মানুষের মনের প্রসার ঘটায় ও পাঠককে নির্মল আনন্দদান করে। শুধু লোকহিতার্থে বা পাঠকের সন্তুষ্টির জন্য সাহিত্য রচনার প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে। সাহিত্যিক তখন শিক্ষকে রূপান্তরিত হন। বস্তুত, মানুষের বিবেক ও বিবেকতাড়িত বিষয়ের সমষ্টিগত দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ ছাড়া আর কোনো মাধ্যম দিয়ে সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বলা যায়, শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে ভিন্নধর্মী তা উল্লিখিত অনুচ্ছেদে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম হলো 'নরকের দুয়ার'।
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা-তা উদ্দেশ্যহীন বা নিষ্কাম কর্ম।
প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণত মানুষ যখন খেলা করে তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর আকাঙ্ক্ষা রাখে না। নিষ্কাম আনন্দই তার একমাত্র প্রত্যাশা। মানুষ খেলা করে শুধু সেসময়ের কাঙ্ক্ষিত আনন্দের জন্য, অন্য কোনোকিছু পাওয়ার ইচ্ছা তার থাকে না। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন, এ কথাটির পিছনে ব্যক্তির কামনা-বাসনা বা অভিসন্ধির মতো কোনো হীন প্রবৃত্তি কাজ করে না। ক্রীড়াকে তাই তিনি শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!