'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি কামিনী রায়ের লেখা।
মহৎ উদ্দেশ্যে একসাথে মিলতে না পারার কারণ হলো স্থান-কাল-পাত্রের বিবেচনা করে সমালোচনার ভয়।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবি সমালোচনা উপেক্ষা করে মহৎ কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান করেছেন। সমালোচনার ভয়ে আমাদের অনেক মহৎ চিন্তা ও কল্যাণকর কাজ পিছিয়ে যায়। এমনকি তা আর কখনো করাই হয় না। কারণ মনের ভেতরে সংশয় কাজ করলে কোনো ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করা যায় না। নিন্দুকের নিন্দার ভয়ে মহৎ চিন্তা ও উদ্দেশ্যে একসাথে মিলতে পারে না। অনেকের মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের মহৎ ইচ্ছাও পেছনে পড়ে যায়।
উদ্দীপকের সাথে 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার সমালোচনার ভয়ে মহৎ ও কল্যাণকর কাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখার বিষয় বক্তব্যের সাদৃশ্য রয়েছে।
সাধারণত সমালোচনাকে মানুষ ভয় পায়। সমালোচনার ভয়ে মানুষ নিজের সংকল্প, স্বপ্ন, নিজের মধ্যেই আড়াল করে রাখে, প্রকাশ করে না। নিন্দুকেরা মানুষের ভালো-মন্দ সবরকম কাজেরই সমালোচনা করে। তাদের ভয়ে মহৎ কর্ম ও চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেলে জগতের কোনো মহৎ কাজই সম্পূর্ণ হয় না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে সমালোচনার ভয়ে মহৎ উদ্দেশ্য সাধন থেকে মানুষের দূরে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দেশের জন্য হিতকর কাজের চিন্তা মনে উদয় হলেও কবি তা সমালোচনার ভয়ে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না। সংকোচ ও ভয়ের কারণে তাঁর সমস্ত মহৎ চিন্তা দূরে চলে যায়। আর তিনি জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন না। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আলোচ্য কবিতায়ও কবি সমালোচনার ভয়ে মহৎ কল্যাণকর কাজ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এখানে লোকলজ্জার কারণে মানুষ কীভাবে মানব কল্যাণমূলক কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে তা বর্ণনা করা হয়েছে। সংশয়ের কারণে সমস্ত সংকল্প টলে যায়। উদ্দীপকের কবিতাংশে যেসব কারণে কবি জাতির সেবা করা থেকে বঞ্চিত হন, 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায়ও একই কারণে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন না।
না, 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার বিষয়বস্তুর সামগ্রিকতা উদ্দীপকে নেই।
নিন্দুকেরা মানুষের ভালো কাজ ও মন্দ কাজ নিয়ে সমালোচনা করে। তাদের সমালোচনার ভয়ে অনেকে মহৎ কাজ থেকে সরে যায়। পরিবার, সমাজ, জাতির প্রতি কর্তব্য পালনে আমাদেরকে সমালোচনার ভয়, সংকোচ, লোকলজ্জা পরিহার করে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় কবি সমালোচনা উপেক্ষা করে - পথ চলার কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকেই সমালোচনা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। সংকোচ ও সমালোচনার ভয়ে তাদের সংকল্প পূর্ণতা পায় না। কবিতার এই দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির মনের মধ্যে দেশের জন্য হিতকর কিছু করার বাসনা হয়। কিন্তু সমালোচনার ভয়ে তিনি কিছু করতে পারেন না। মানুষজন কে কী বলে সেই দিক চিন্তা করে তাঁর আর কিছু করার হয়ে ওঠে না। ফলে তাঁর সমস্ত কল্যাণ চিন্তা দূরে চলে যায়। তিনি আর জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন না। এই দিকটি কাটিয়ে ওঠার কোনো পরামর্শ উদ্দীপকে নেই। এক্ষেত্রে 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় ভয়, সংকোচ, সমালোচনা উপেক্ষা করে দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজ নিজ কাজে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।
'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতায় লোকের সমালোচনার ভয়ে দ্বিধাগ্রস্ত না হয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করতে বলা হয়েছে। কবিতায় মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করার জন্য লোকলজ্জা উপেক্ষা করে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কবিতা থেকে নিঃসংকোচ চিত্তে জীবনপথে পরিচালিত হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করা যায়। উদ্দীপকে এসব বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে কবিতার সামগ্রিক বিষয় প্রতিফলিত হয়নি।
Related Question
View All'প্রশমিতে' শব্দটির অর্থ উপশম ঘটাতে।
"সংশয়ে সংকল্প সদা টলে" বলতে কবি বুঝিয়েছেন কোনো কাজ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে সেই কাজের সংকল্প বা ইচ্ছা নষ্ট হয়।
মনের ভেতরে সংশয় কাজ করলে কোনো ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করা যায় না। কাজ করতে গিয়ে লজ্জার মুখে পড়তে হয় কিনা এ চিন্তা করলে মনের মধ্যে সংশয় দানা বাঁধে। তখন আর কাজটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। মন স্থির না থাকায় সব সময় দ্বিধা কাজ করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্য 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত ভাব ধারণ করেছে।
ভালো কাজ করতে আগ্রহী মানুষের কাজ কীভাবে প্রতিহত করা যায় নিন্দুকেরা সে চেস্টায় নিয়োজিত থাকে। তারা মানুষের হৃদয়ের শুভচিন্তা ও কল্যাণধর্মী কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে এবং কৌশলে সেগুলো নষ্ট করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকে কবি পরোপকারী মনোভাবসম্পন্ন নিঃস্বার্থ ব্যক্তির কথা বলেছেন। যে লোকটির মানসিকতা 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার চতুর্থ স্তবকের বিপরীত চেতনা প্রকাশ করে। কারণ আলোচ্য রচনার চতুর্থ স্তবকে মানব কল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছা পোষণকারীদের সমালোচনার ভয়ে কাজ না করে নিজেদের গুটিয়ে রাখার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে, এক শ্রেণির মানুষ মানুষের দুঃখে প্রাণ কাঁদলেও তারা চোখ শুকনো রাখে। ভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করলে লোকে কী বলবে। অন্যদিকে উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। সকলে সকলের জন্য। মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত মর্যাদা, প্রাপ্তি ও সার্থকতা নিহিত আছে বলে কবি মনে করেছেন। কারণ পৃথিবীতে একে অন্যের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ লাভ হয়; শুধু নিজেকে নিয়ে বিব্রত থাকায় কোনো আনন্দ নেই।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
জগতের বহু কল্যাণকর শুভচিন্তা আমাদের হৃদয়ে উদয় হয়। অথচ পেছনে কে কী বলে সেই দিক বিবেচনায় আমরা তা ফলপ্রসূ করতে পারি না। ফলে মনের সেই শুভ চিন্তাগুলো সমালোচনার ভয়ে মনেই মরে যায়। বাস্তব জগতে প্রকাশ করে কাজে লাগিয়ে জগতের কল্যাণ সাধন করা আর হয়ে ওঠে না।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে এবং 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতা উভয় জায়গায় নিন্দুকের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে উভয় জায়গার নিন্দুক ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব বিস্তার করেছে। উদ্দীপকের নিন্দুক নিন্দা করে ভুল ধরিয়ে দেয়। আর কবিতার যে নিন্দুকের কথা বলা হয়েছে সে সৎচিন্তা, সংকল্প ও মানব কল্যাণের সমস্ত চেষ্টা ও কাজের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তাদের ভয়ে মানুষ মনের ভাব-ভাবনা ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে জগতের কল্যাণ সাধনে ব্রতী হতে পারি না।
উদ্দীপকের নিন্দুককে কবি ভালোবাসতে বলেছেন। কারণ তারা জগতের অহিতকর চিন্তাকে সমালোচনা করে হিতকল্পের উপযোগী করতে সহায়তা করে। তাদের সমালোচনায় একজন তাঁর ভুল সংশোধন করে পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে। আর 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার নিন্দুক ভুল সংশোধন নয়, মানুষের শুভবোধ ও বুদ্ধির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে জগতে কল্যাণ সাধনকে ব্যাহত করে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের নিন্দুক ও আলোচ্য কবিতার নিন্দুকের প্রভাব এক নয়।
ম্রিয়মাণ শব্দের অর্থ- কাতর বা বিষাদগ্রস্ত।
'শক্তি মরে ভীতির কবলে, পাছে লোকে কিছু বলে'- বলতে কবি কোনো কাজ করার জন্য উদ্যোগী হয়েও অন্যের সমালোচনার ভয়ে সেই ইচ্ছাশক্তির বিনষ্ট হওয়াকে বুঝিয়েছেন।
অনেক আছে যারা অকারণে ভয় পায়। অন্যের সমালোচনার ভয়ে বিভিন্ন কাজ থেকে পিছিয়ে আসে। সেই ভয় পাওয়ার ফলে তারা অনেক সহজ ও কল্যাণকর কাজও করতে পারে না। কারণ কাজ করার আগ্রহ তাতে কমে যায়। ফলে তার ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যও বিনষ্ট হয়। এ কথা ভেবেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!