উত্তরঃ
খুলনায় বেহাল সড়ক: জনদুর্ভোগ চরমে, দেখার কেউ নেই
সৌরভ/সুরভি, খুলনা প্রতিনিধি
২৭ এপ্রিল, ২০২৬
খুলনা মহানগরীসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অধিকাংশেরই অবস্থা এখন বেহাল। দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে, যার ফলে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যাতায়াত এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক অসহনীয় দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, টুটপাড়া, খালিশপুর এবং জেলার রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কেরই কার্পেটিং উঠে গিয়ে নিচের ইটের খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে দেবে গেছে। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে গল্লামারী পর্যন্ত প্রধান সড়কটির অবস্থা খুবই শোচনীয়। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যানবাহন চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং ভাড়া বৃদ্ধি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সিএনজি চালক মো. রহিম বলেন, "রাস্তায় যে অবস্থা, গাড়ি চালানোই দায়। অল্প একটু বৃষ্টি হলেই গর্ত বোঝা যায় না, চাকা গর্তে পড়ে রিকশা-ভ্যান উল্টে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের।"
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী যাত্রীরা এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, "রাস্তার যে ধুলোবালি তাতে নিশ্বাস নেওয়া দায়, আর বৃষ্টির সময় কাদাপানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে দেখছি, রাস্তা মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী হয় না।"
খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সড়কগুলোর স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের গুণমান খারাপ হওয়ায় এবং সঠিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অল্প দিনেই রাস্তাগুলো পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
খুলনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে প্রধান সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।