মাথাপিছু আয় হলো একটি দেশের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক হলো মাথাপিছু GDP। তাই, কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান জানার জন্য মাথাপিছু GDP জানা প্রয়োজন।
যদি মাথাপিছু GDP একটি নির্দিষ্ট স্তরের বেশি হয়, তবে দেশটি উন্নত দেশ হবে এবং মাথাপিছু GDP কম হলে দেশটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল। কাজেই, মাথাপিছু GDP ব্যতীত দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া কঠিন।
উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্যের আলোকে 'X' ও 'Y' দেশের মাথাপিছু GDP নির্ণয় করা যায়।
সাধারণত, মাথাপিছু GDP বলতে জনপ্রতি বার্ষিক GDP কে বোঝায়। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষত আর্থিক বছরে কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু GDP পাওয়া যায়
উদ্দীপক হতে পাই,
X' দেশের ২০১৪ সালের GDP = ৭,৯০,৫০,০০০ টাকা
এবং জনসংখ্যা = ১,৫৫,০০০ জন।
সুতরাং, 'X' দেশটির মাথাপিছু GDP = ৭,৯০,৫০,০০
=১,৫৫,০০০
= ৫১০ টাকা
আবার, 'Y' দেশের ২০১৪ সালের GDP = ৭,২৮,০০,০০০ টাকা
এবং জনসংখ্যা = ১,৬০,০০০ জন।
সুতরাং, 'Y' দেশটির মাথাপিছু GDP = ৭,২৮,০০,০০০
১,৬০,০০০
= ৪৫৫ টাকা
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' এবং 'Y' দেশের মধ্যে 'X' দেশ তুলনামূলক উন্নত। কারণ 'Y' দেশের মাথাপিছু GDP অপেক্ষা 'X' দেশের মাথাপিছু GDP বেশি।
কোনো দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত কি না তা ঐ দেশের মাথাপিছু GDP থেকে জানা যায়। যেমন কোনো দেশের মাথাপিছু GDP একটি নির্দিষ্ট স্তর হতে বেশি হলে ঐ দেশ উন্নত বলে বিবেচিত হবে।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে ২০১৪ সালে 'X' ও 'Y' দেশের নির্ণীত মাথাপিছু GDP। ('গ' নং হতে পাই) যথাক্রমে ৫১০ টাকা এবং ৪৫৫ টাকা। স্পষ্টভাবেই বোঝা যায়, 'X' দেশে মাথাপিছু GDP, 'Y' দেশের মাথাপিছু GDP এর তুলনায় (৫১০-৪৫৫) বা, ৫৫ টাকা বেশি। তাছাড়া লক্ষ করা যায়, 'X' দেশের জনসংখ্যাও 'Y' দেশের জনসংখ্যার চেয়ে কম। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু GDP বেশি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় জনসংখ্যা কম থাকে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাথাপিছু GDP কম এবং জীবনযাত্রার মান নিম্ন হওয়ায় জনসংখ্যার বেশি থাকে।
'X' দেশের মাথাপিছু জিডিপি 'Y' দেশের তুলনায় বেশি। আর মাথাপিছু জিডিপি হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানের প্রধান সূচক। এ সূচক দ্বারা বোঝা যায় একটি দেশ উন্নত, অনুন্নত না উন্নয়নশীল হবে। যেহেতু 'Y' দেশের তুলনায় 'X' দেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি সেহেতু 'X' দেশটি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত।
Related Question
View Allকোনো দেশের মোট জাতীয় আয় থেকে মূলধন ব্যবহারজনিত অবচয় ব্যয় (Capital Consumption Allowance) বাদ দিলে যা থাকে, তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।
আয় পদ্ধতি অনুযায়ী সাধারণত একটি আর্থিক বছরে একটি দেশের উৎপাদন কাজে নিয়োজিত উপাদানসমূহের পারিতোষিক বা আয় যোগ করলে মোট জাতীয় আয় পাওয়া যায়।
উৎপাদনের মৌলিক উপাদান হলো ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এই উপাদানগুলো থেকে প্রাপ্ত আয় হলো যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। সুতরাং, আয় পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মোট খাজনা, মোট মজুরি, মোট সুদ ও মোট মুনাফার যোগফলকে জাতীয় আয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তার উপার্জন রেমিটেন্স হিসেবে এদেশের মোট জাতীয় আয়ের (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের নাগরিক কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় বলে। GNI হিসাব করার সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) সাথে নিট উপাদান আয় যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে নিট উপাদান আয় বলতে একটি দেশের নাগরিকগণ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এবং বিদেশি নাগরিকগণ আলোচ্য দেশে বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে যে আয় করে এ দু'য়ের বিয়োগফলকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিহাব বাংলাদেশের নাগরিক। সে উপার্জনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে থাকে। সে তার উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ দেশে প্রেরণ করে, যা মূলত রেমিটেন্স হিসেবে আমাদের দেশের জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হয়। কাজেই বলা যায়, শিহাবের প্রেরিত অর্থ এদেশের জাতীয় আয় পরিমাপ করার সময় রেমিটেন্স হিসেবে যোগ হয়।
মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক হওয়ায় তার আয় বাংলাদেশের জিডিপি (Gross Domestic Product বা GDP)-তে অন্তর্ভুক্ত হলেও মোট জাতীয় আয়ে (Gross National Income বা GNI) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
মোট জাতীয় আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য এবং বিদেশে কর্মরত তথা প্রবাসীদের আয়ের সমষ্টি থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্য। সুতরাং মোট জাতীয় আয়=কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্য + বিদেশে কর্মরত দেশীয়দের আয়- দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ব্রাউনি ব্রিটেনের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি তার আয়ের কিছু অংশ ব্রিটেনে পাঠান। এ কারণে তার আয় বাংলাদেশের GNI তে অন্তর্ভুক্ত হয় না
বরং ব্রিটেনের GNI তে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তার আয় এদেশের জাতীয় আয়কে
প্রভাবিত করে না।
তবে, বিদেশিদের আয় '(বিনিয়োগ ও শ্রম থেকে আয়) বিবেচ্য দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। যা পরবর্তীতে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশীয়দের আয় বৃদ্ধি করে। কাজেই বলা যায়, মিসেস ব্রাউনির আয় বাংলাদেশের জাতীয় আয়কে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত না করলেও পরোক্ষভাবে কিছুটা প্রভাবিত করে।
CCA-এর পূর্ণরূপ হলো Capital Consumption Allowance.
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত একটি আর্থিক বছরে) কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার অর্থমূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বলে।
মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উৎপাদিত হয়। যেমন- ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০টি জামা এবং ১০০০টি কলম উৎপাদিত হয়। এক্ষেত্রে, জিডিপি ১০০ কুইন্টাল ধান ধানের বাজার দাম + ১০০০টি জামা জামার বাজার দাম ১০০০টি কলম কলমের বাজার দাম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!