তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধাতুর ওপর সুবিধামতো অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে।
প্রয়োজন বা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন অনেক কম হলে, সব এলাকাতেই পর্যায়ক্রমে বিদ্যুতের সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনাকেই বলা হয় লোডশেডিং। লোডশেডিং-এর কারণগুলো হলো:
i. চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের স্বল্প উৎপাদন;
ii. বিদ্যুতের সিস্টেম লস;
iii. বিদ্যুতের অপচয়;
iv. বিদ্যুতের যান্ত্রিক ত্রুটি।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত প্রতীকগুলো ব্যবহার করে মনোয়ারের আঁকা বাসাবাড়িতে ব্যবহার উপযোগী বর্তনীটির চিত্র নিম্নরূপ-

উদ্দীপকে প্রদর্শিত (iv) উপাদানটি দ্বারা বাল্ব বোঝানো হয়েছে অর্থাৎ মনোয়ারদের বাড়িতে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ বান্ধে একটি ধাতব ফিলামেন্টকে উত্তপ্ত করে আলো তৈরি হয় বলে প্রচুর তাপ শক্তির প্রয়োজন হয়। প্রযুক্তির কারণে এখন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করার জন্য এনার্জি সেভিং বাল্ব সহজলভ্য হয়ে গেছে। এই এনার্জি সেভিং বাল্বে বিদ্যুৎ ২০-৮০% সাশ্রয় হতে পারে এবং সাধারণ বান্ধের তুলনায় এটি ৩ থেকে ২৫ গুণ বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতি পরিবারে যদি একটি করে সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করে, তবে যে পরিমাণ শক্তি বাঁচে তা দিয়ে প্রতিবছরে ৩০ লক্ষ পরিবারে তড়িৎ সংযোজন দেওয়া সম্ভব।
আমরা যদি এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করে, শক্তির অপচয় কমাতে পারি, তবে জ্বালানির ওপরও আমাদের নির্ভরতা কমাতে পারি। কারণ, জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে তড়িৎ উৎপাদনের ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে।
এনার্জি সেভিং বাল্ব সাধারণ বাল্বের চেয়ে বেশি দিন টিকে। ফলে কমসংখ্যক বাল্ব পরিত্যক্ত হয়। যার কারণে ময়লা আবর্জনা ব্যবস্থাপনায়ও সুবিধা হয় পরিবেশের উপর চাপও কম পড়ে।
অতএব, শক্তির অপচয় কমানো, বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহারে ব্যয় সাশ্রয় এবং পরিবেশের উপর জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারে বিরূপ প্রভাব হ্রাসের ক্ষেত্রে
মনোয়ারদের বাড়িতে এনার্জি সেভিং বাল্বের ব্যবহার অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি
Related Question
View Allকোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে বা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাই তড়িৎ ক্ষমতা।
একটি বান্ধের গায়ে ২২০ ভোল্ট- ৬০ ওয়াট লেখা আছে। এর অর্থ হলো, ২২০ ভোল্ট বিভব পার্থক্যে বান্ধটিকে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলো ও তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

আমরা জানি, সাধারণ বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে আলো তৈরি করে, যার ফলে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে, এনার্জি সেভিং বাল্ব, যেমন সি.এফ.এল বা এলইডি বাল্ব, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একই পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আলো দেয়।
এখন আমরা হিসাব করে দেখি মনসুরা খানম ঠিক কতটা লাভবান হলেন:
- আগের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি বাল্ব, প্রতিটি ১০০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×১০০=৫০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ৫০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৩০০০ ওয়াট-ঘণ্টা=৩ ইউনিট (কারণ ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ইউনিট)।
- বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহার:
- প্রতিদিন ৫টি এনার্জি সেভিং বাল্ব, প্রতিটি ২০ ওয়াট করে।
- মোট ওয়াট: ৫×২০=১০০ ওয়াট।
- প্রতিদিন মোট বিদ্যুৎ খরচ: ১০০ ওয়াট×৬ ঘণ্টা=৬০০ ওয়াট-ঘণ্টা=০.৬ ইউনিট।
দৈনিক সাশ্রয়: ৩ ইউনিট−০.৬ ইউনিট=২.৪ ইউনিট।
এই হিসাব থেকে বোঝা যায়, মনসুরা খানম প্রতিদিন ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। সাধারণ বাল্বের তুলনায় এনার্জি সেভিং বাল্ব ৮ থেকে ১৫ গুণ বেশি দিন টিকে থাকে। তাই মনসুরা খানমকে ঘন ঘন বাল্ব পরিবর্তন করতে হবে না, যা তাঁর অর্থ এবং সময় দুটোই বাঁচাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!