যেসব শিশুর শারীরিক ক্ষমতা, মানসিক যোগ্যতা, সংবেদীয় ক্ষমতা, সামাজিক ও ভাব বিনিময় দক্ষতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম তাদের প্রতিবন্ধী শিশু বলে।
প্রতিবন্ধী শিশুকে ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। একীভূত শিক্ষাব্যবস্থায়, শিশুকে সাধারণ বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিশুর সাথে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তার সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। তাদেরও যে স্বাভাবিক শিশুদের মতো সকল অধিকার রয়েছে এসব বিষয়ে সচেতন হবে। নিজেকে অসহায় মনে করবে না। এভাবেই একীভূত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুরা এগিয়ে যাবে।
অমি অটিস্টিক শিশু। অটিজম নিরাময়ের জন্য কোনো ঔষধ নেই। বিশেষ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দ্বারা আচরণের কিছুটা উন্নয়ন করা যায় মাত্র। অমির শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজন তাদের মনোজগৎ সম্পর্কে ধারণা। ঠিকমতো শিক্ষা পেলে অমি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে।
অমির মতো শিশুদের শিক্ষা পদ্ধতি মূলত প্রশিক্ষণের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। নিম্নে এদের শিক্ষা পদ্ধতির স্বরূপ উল্লেখ করা হলো-
১. স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগাযোগের জন্য প্রশিক্ষণ।
২. সামাজিক শিক্ষা প্রদান।
৩. জ্ঞানীয় বিকাশ ও খেলাধুলায় দক্ষতা বৃদ্ধি।
৪. আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ।
৫. বৃত্তিমূলক দক্ষতা বৃদ্ধি।
৬. অবাঞ্ছিত আচরণ রোধ করা।
৭. আত্মপরিচর্যামূলক দক্ষতা অর্জন করা।
৮. ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
এভাবেই অমির মতো অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষাদান করা হয়।
ডাক্তার অমিকে অটিস্টিক বলে চিহ্নিত করেন। যে শিশু অটিজমে আক্রান্ত তাকে অটিস্টিক শিশু বলে। অটিজম মস্তিষ্কজাত একটি স্নায়বিক সমস্যা, যা মস্তিষ্কের সাধারণ কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করে।
অমি অন্যের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে না। নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না। তার ভাষার বিকাশ স্বাভাবিক নয়। এমনকি পরিচিত মুখ দেখলেও সে হাসে না। অন্যের সাথে সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না। অন্যের উপস্থিতি খেয়াল করে না। হঠাৎ সে অন্যকে আক্রমণ করে ওঠে ও নিজেকে গুটিয়ে রাখে। সে যেকোনো কাজ বা খেলা বারবার করে। বস্তুর প্রতি অত্যধিক মনোযোগী থাকে। অনেক খেলনা দিয়ে কীভাবে খেলে সেটা বোঝে না। কোনো বিশেষ শব্দ বা বস্তুর প্রতি বিশেষ আগ্রহ লক্ষ করা যায়। অন্য শিশুরা যেভাবে খেলে সেভাবে সে খেলে না। যেকোনো জিনিস মুখে দেয় ও গন্ধ শোঁকে। মাঝে মাঝে নিজেকে আঘাত করে। দেয়ালে মাথা ঠোকে। জোরে ব্যথা পেলেও সহজে ব্যথা অনুভব করে না। এ সকল বৈশিষ্ট্যগুলো একটি অটিস্টিক শিশুর মধ্যে থাকে বলেই ডাক্তার বলেন, অমির মধ্যে অটিস্টিক শিশুর সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
Related Question
View Allমানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা ০-২৬ ডেসিবল।
প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশুকে তার ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া আবশ্যক। তাই তাদের শিক্ষার বিকল্প নেই। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা, সুপ্ত ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখা।
ডাক্তার ইমনের মধ্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা খুঁজে পেলেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাদের বলা হয় যারা বধির এবং কানে শোনে না। কান ও শ্রবণ সংবেদন পরিবাহী অঙ্গের কোনো প্রকার ক্ষতির জন্য শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়।
শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রাভেদে কথা শোনা ও কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কোনো শিশুর ০ থেকে ২৬ ডেসিবল পর্যন্ত শ্রবণ অক্ষমতা থাকলে তাদের শ্রবণে সমস্যা হয় না বলে তাদের স্বাভাবিক শ্রবণক্ষমতা সম্পন্ন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ২৬ ডেসিবল এর চেয়ে তীব্র শব্দগুলো শুনতে সমস্যা হলে সে অবস্থাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। ইমনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাকে বার বার ডাকার পর সে সাড়া দেয়। অর্থাৎ সাধারণ ডেসিবলের শব্দ সে শুনতে পায় না। সে যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রার শব্দ শুনতে পায় না তাই জোরে বাড়িয়ে টিভি দেখে ও তার উচ্চারণের ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা দেখা যায়। এসকল বৈশিষ্ট্যই একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধীর মধ্যে লক্ষ করা যায়। তাই বলা যায়, ইমন একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী।
ইমন যেহেতু শ্রবণ প্রতিবন্ধী তাই তাকে শ্রবণ প্রতিবন্ধিতার মাত্রা অনুসারে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
ইমনের মতো শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষকের দরকার। শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে বা না করে কেবল কানের সাহায্যে যারা অন্যের কথা শুনতে পায় না, তাদের শ্রবণ প্রতিবন্ধী বলে।
শিক্ষক যদি ধীরে ও উচ্চ স্বরে প্রতিবন্ধী শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করে কথা বলেন তবে তা শিশুর শিক্ষা গ্রহণের পক্ষে সহায়ক হবে। গুরুতর ও মধ্যম মাত্রার শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা শিক্ষা দিতে হবে। এছাড়াও সকল ধরনের শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুকে ওষ্ঠপাঠ বিষয়ে শিক্ষা দিলে তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সহজ হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির শ্রবণ সহায়ক বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়। শিশুর প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী এ রকম যন্ত্র ব্যবহার করতে দেয়া যায়। তবে শ্রবণ যন্ত্র দেয়া হলে তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়াও জরুরি।
উপরিউক্ত শিক্ষা পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাদান করা যাবে।
অটিজমের ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে শিশুর অনুপাত প্রায় ১ : ৪।
প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের মতো হয় না। সমাজের মানুষের শিক্ষা সচেতনতার অভাবের কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অভিভাবকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতার কারণে এসব শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের রাস্তাঘাটে চলাচলে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কিংবা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!