প্রুসিয়ান রঙের পেস্ট তৈরিতে বর্ষা ঋতুতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয় না।
বস্তুকে আকর্ষণীয় করার একটি পন্থা হলো প্রিন্টিং বা ছাপা। প্রিন্টিং এর মাধ্যমে একটি সাধারণ কাপড়কে আকর্ষণীয় করে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করা যায়। ব্লক, বাটিক, স্ক্রিন, স্টেনসিল, রোলার ইত্যাদি বিভিন্ন পদ্ধতিতে বস্ত্রে ছাপার কাজ করা হয়। বস্ত্র শিল্পে তাই প্রিন্টিং বা ছাপার ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
মলির কাপড়ে ব্লকের ছাপ না লাগার কারণ হলো সে সঠিকভাবে ব্লকের রং তৈরি করেনি।
বস্ত্র ছাপার ইতিহাসে সর্বপ্রথম যে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল তা হচ্ছে ব্লক। এর মাধ্যমে নকশানুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে ছাপা দিয়ে সাধারণ কাপড় অসাধারণ করে তোলা যায়।
মলি এক গামলা পানির মধ্যে রং গুলে ব্লকের ছাপ দিয়ে টপসটি ব্লক করে। এতে করে কাপড়ে ছাপ ঠিকমতো লাগেনি। কারণ কাপড়ে রং লাগানোর জন্য কাপড়টিতে যে রং ব্যবহার করা হবে তা ঠিকমতো তৈরি করে নিতে হবে। এজন্য ২৪ ঘণ্টা আগেই আধা লিটার পানিতে ১ তোলা ফাইন গাম মিশিয়ে রাখতে হবে। এরপর পরিষ্কার পাত্রে হালকা গরম পানিতে রং গুলে ইউরিয়া সার, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, রেজিস্ট সল্ট রঙের সাথে মিশিয়ে তৈরিকৃত গামের সাথে একত্র করে মেশাতে হবে। এ পদ্ধতিতে তৈরিকৃত রং কাপড়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করলে মলির কাপড়ে ঠিকমতো রং লাগতো। মলি ব্লক করার পরিমাণ ও উপকরণগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে কাজ করেনি বলেই তার কাপড়ে ব্লকের ছাপ লাগেনি।
আয়শা বেগমের উক্তিটি যথার্থ।
ব্লকের রং হলো এমন একটি রং যা বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। প্রুসিয়ান রং, ফুটন্ত গরম পানি, ইউরিয়া সার, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, গলানো গাম, রেজিস্ট সল্ট, গ্লিসারিন ইত্যাদি উপকরণ সঠিক পরিমাণে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা হয়। রং করার পূর্বে ছাঁকনির সাহায্যে হেঁকে গ্লিসারিন মিশিয়ে কাপড়ে প্রিন্ট করতে হয়। এর জন্য প্রিন্টিং টেবিল ও কালার ট্রে প্রস্তুত করে নিতে হয়। টেবিলের উপর কয়েক প্রস্থ কম্বল বিছিয়ে তার উপর কোরা কাপড় পিন দিয়ে আটকিয়ে টানটান করে ব্লকের সাহায্যে তা প্রিন্ট করতে হয়। ছাপা কাজের সময় ব্লকটি পশমি কাপড়ে ২/৩ বার লাগিয়ে প্রকৃত কাপড়ে ছাপ দেওয়া হয়।
Related Question
View Allকারখানায় প্রস্তুতকৃত বস্তুকে গ্রে ফেব্রিক বলে।
বস্ত্র রং করা ও ছাপার মধ্যে মূলগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। রং করা পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বস্তুটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে ও গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করে তোলা হয়। পক্ষান্তরে ছাপা পদ্ধতিতে বস্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এক বা একাধিক বর্ণের সমারোহ ঘটিয়ে বস্তুটিকে নকশানুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়। রংকরণের ক্ষেত্রে কম ঘনত্বের, আর ছাপার ক্ষেত্রে বেশি ঘনত্বের রং ব্যবহার করা হয়।
তরুর কাপড়গুলো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণ হলো সঠিক পদ্ধতিতে ব্লক না করা।
তরু প্রুসিয়ান রং দিয়ে কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করে। এ পদ্ধতিতে রং ভালোভাবে ব্লকে লাগিয়ে কাপড়ের উপর ছাপ দিলেই ছাপা হয়ে যায়। রঙের প্রস্তুত প্রণালি জানা থাকলে নিজের পছন্দমতো রং তৈরি করে ছাপ দেয়া যায়। তবে প্রিন্ট করার পর প্রুসিয়ান রঙের ক্ষেত্রে কাপড় স্টিম ও ধোলাই করতে হয়। স্টিমিং এর জন্য একটি হাঁড়িতে পানি ফুটাতে হয়। এরপর চট দিয়ে কাপড়টি ঢেকে হাঁড়ির উপর একটি চালনি বসিয়ে তার উপর কাপড়টি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে স্টিমিং করা হয়।
তরু এ সকল পর্যায়গুলো অতিক্রম না করে শুধু রং করেই তার দোকানে কাপড়গুলো নিয়ে যাওয়ায় এগুলো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
কাপড় ব্যবসায়ী তরু সচেতনতার অভাবে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। তাই তাকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তরু কাপড়ের ব্যবসা করলেও কোন কাপড় কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখেন না। ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান।
তরু প্রুসিয়ান রং দিয়ে ব্লক করা কাপড়গুলো স্টিম ও ধোলাই না করে সরাসরি দোকানে নিয়ে আসে। ফলে তার কাপড়গুলো অবিক্রিত অবস্থায় দোকানেই রয়ে যায়। তিনি যদি এ বিষয়ে সচেতন থাকতেন তবে কাপড়ে রং করার পর সেগুলো হাঁড়িতে পানি গরম করে চট দিয়ে ঢেকে হাঁড়ির উপর একটি চালনি বসিয়ে কাপড়টি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে স্টিমিং করতেন। তাহলে তার রং করা কাপড়গুলো ঠিক থাকত এবং দোকানে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকত না। তরু যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে আরও একটু সচেতন হয় তবেই সে তার এসকল ভুল সংশোধন করতে এবং ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
তাই বলা যায় ব্যবসায় সাফল্যের জন্য তরুকে আরো সচেতন হতে হবে- মন্তব্যটি যথার্থ।
কারখানায় প্রস্তুতকৃত বস্তুকে গ্রে ফেব্রিক বলে।
বস্ত্র রং করা ও ছাপার মধ্যে মূলগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। রং করা পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বস্তুটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে ও গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করে তোলা হয়। পক্ষান্তরে ছাপা পদ্ধতিতে বস্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এক বা একাধিক বর্ণের সমারোহ ঘটিয়ে বস্তুটিকে নকশানুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়। রংকরণের ক্ষেত্রে কম ঘনত্বের, আর ছাপার ক্ষেত্রে বেশি ঘনত্বের রং ব্যবহার করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!