ভারতবাসীর হৃদয় জয় করাকে সম্রাট বাবুর আসল জয় মনে করলেন।
'পথ ছাড়ি সবে পলাইয়া গেল' মত্ত হাতির ভয়ে।
সম্রাট রাবুর প্রজাদের অবস্থা নিজের চোখে দেখার জন্য পর্যটকের ছদ্মবেশে পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন। একদিন তিনি দেখলেন, দিল্লির রাজপথে একটা মত্ত হাতি ছুটে আসছে আর লোকজন প্রাণের ভয়ে ছুটে পালাচ্ছে। একটি মেথর শিশু পড়ে ছিল রাজপথে। হাতির পায়ের নিচে পড়ে শিশুটির জীবন বিপন্ন হবে ভেবে বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তিনি ঐ শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের হাতে তুলে দিলেন।
উদ্দীপকের মহব্বত আলীর চরিত্রের সঙ্গে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের সাদৃশ্য আছে।
পরোপকারে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারলেই যথার্থ সুখ পাওয়া যায়। জগতে একমাত্র স্বার্থপর ব্যক্তিরাই পরোপকার থেকে বিরত থাকে। অনৈতিক ও অমানবিক কাজ করে নিজেদেরকে ক্ষমতাবান মনে করে। প্রকৃতপক্ষে তারা ভিতু এবং ক্ষমতাহীন।
উদ্দীপকের মহব্বত আলীর একজন মানবদরদি মানুষ। তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে রাস্তায় বাসের তলায় চাপা পড়তে যাওয়া ছয় বছরের এক শিশুকে বাঁচান। তিনি মহৎ চরিত্রের অধিকারী। 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় বাবুরের মধ্যেও অনুরূপ মহত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। একদিন তিনি দেখলেন, দিল্লির রাজপথে একটা মত্ত হাতি ছুটে আসছে আর লোকজন প্রাণের ভয়ে ছুটে পালাচ্ছে। একটি মেথর শিশু পড়ে ছিল রাজপথে। শিশুটির জীবন বিপন্ন হবে ভেবে বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এসব দিক বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকের মহব্বত আলীর সঙ্গে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের সাদৃশ্য আছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের মহব্বত আলীর মধ্যে মহৎ গুণাবলি থাকলেও পুরোপুরি বাবুরের মতো নয়।
মানব জীবনের সার্থকতা প্রকাশ পায় মানুষকে ভালোবাসার মধ্যে। মানব জীবনের পরিবেশের বাইরে মানুষের কিছু করণীয় আছে বলে মনে করার কারণ নেই। মানবকল্যাণ সাধনের মধ্যে মানব জীবনের সার্থকতা নিহিত।
উদ্দীপকের মহব্বত আলীর মধ্যে মহানুভবতার যে পরিচয় পাওয়া যায় তা 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের মহানুভবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তবে বাবুরের মহানুভবতা মহব্বত আলীর থেকে একটু ভিন্ন। কারণ বাবুরের ঐ গুণ ছাড়া আরও কিছু মহৎ গুণ রয়েছে। তিনি ছিলেন প্রজাদরদি শাসক ও সাহসী যোদ্ধা। প্রজাদের দুর্দশা নিজ চোখে দেখার জন্য ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন এবং যেখানে অসংগতি দেখতেন তা দূর করার চেষ্টা করতেন।
কবি কালিদাস রায়ের 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় মুঘল সম্রাট বাবুরের মহানুভবতা বর্ণিত হয়েছে। এতে তাঁর মহৎ আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবুর সাহসী যোদ্ধা এবং প্রজাদরদি। রাজ্য বিজয়ের পর তিনি প্রজাসাধারণের হৃদয় জয়ে মনোযোগী হয়েছেন। তিনি প্রজাদের কাছে এগিয়ে গেছেন তাদের দুদর্শা দূর করার জন্য। তিনি কেবল মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আর প্রতাপশালী শাসকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ক্ষমার আদর্শে মহীয়ান এক মহৎপ্রাণ ব্যক্তি। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা হয়েছে, উদ্দীপকের মহব্বত আলীর মধ্যে মহৎ গুণাবলি থাকলেও তিনি পুরোপুরি বাবুর চরিত্রের মতো নন।
Related Question
View Allরণবীর চৌহান হলেন স্বদেশপ্রেমিক রাজপুত যুবক।
প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্রাট বাবুর রণবীরর চৌহানকে বলেছেন।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ডারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবুরের মহৎ আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে। রাজপুত-বীর তরুণ রণবীর চৌহান বাবুরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে রাজপথে ঘুরছিল। এমন সময় বাবুর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মত্ত হাতির কবল থেকে রাজপথে পড়ে থাকা একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেন। রণবীর চৌহান বাবুরের এমন মহানুভবতা দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়। সে বাবুরের পায়ে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি পেতে চায়। তখন বাবুর রণবীর চৌহানকে বলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়া সহজ কিন্তু ক্ষমা করে জীবন দান দেওয়া কঠিন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বড় মিয়ার আচরণে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি হলো- সম্রাট বাবুবের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতা।
পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই একে অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে এসে মানবিকতার পরিচয় দেয়। কোনো কোনো সময় নিজের জীবন দিয়ে হলেও অন্যের মঙ্গল সাধন করে। কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ মানুষের জন্য।
উদ্দীপকে বড় মিয়া নামের এক যুবক নিজের জীবন দিয়ে একটি ডুবন্ত শিশুর জীবন বাঁচান। বন্যায় প্রচণ্ড স্রোতের টানে নৌকা উল্টে ডুবে যাওয়া একটি শিশু উদ্ধার করতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন বড় মিয়া। অল্পক্ষণের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে তিনি পাড়ে ওঠেন। তিনি তখন প্রচন্ড ক্লান্ত। তার দেহ নেতিয়ে পড়ে। ডাক্তার এসে পরীক্ষার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই। তিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন একটি মানবশিশুকে বাঁচাতে গিয়ে। উদ্দীপকে তার যে মানবতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তা 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় বাবুরের মানবিক মূল্যবোধ ও মহানুভবতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ বাবুর নিজে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। একদিন মত্ত হাতির সামনে থেকে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতির শুঁড়ের ঘঁষা সহ্য করে একটি মেথর শিশুকে উদ্ধার করেছেন। তাকে হত্যা করতে রণবীর চৌহান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে জেনেও তাকে ক্ষমা করেছেন।
উদ্দীপকটিতে 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন ঘটলেও সমভাব ধারণ করে না- মন্তব্যটি যথার্থ।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। ধনী-দরিদ্রের যে বৈষম্য আমাদের সমাজে বিদ্যমান তা মানুষের সুখ-শান্তির অন্তরায়। 'মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য'- এই সত্যকে সামনে রেখে মানুষ কাজ করলে পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে।
উদ্দীপকে দুর্ঘটনা কবলিত একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বড় মিয়া নামের এক মহানুভব যুবকের জীবন বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। এই ব্যক্তির মানবতাবোধ 'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতার বাবুরের মানবতাবোধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বাবুর যেভাবে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং রাজ্যবিস্তারে যুদ্ধ পরিচালনায় সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, সে ধরনের ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই।
'বাবুরের মহত্ত্ব' কবিতায় কবি দুটি দিক তুলে ধরেছেন। এক বাবুরের যুদ্ধবিগ্রহ, রাজ্য জয় ও রাজ্য বিস্তার এবং দুই রাজ্যের প্রজাদের মন জয় করার জন্য তাদের প্রতি মহানুভবতা ও সেবা প্রদান। এ দুটির মধ্যে প্রথম বিষয়টি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকটি কেবল দ্বিতীয় বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
বাবুরের আসল নাম জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ।
সঁপিনু জীবন, করুন এখন দণ্ডবিধান মোর। - রাজপুত বীর রনবীর চৌহান সম্রাট বাবুরের মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে উক্তিটি করেছে।
রাজপুত বীর রণবীর চৌহান প্রতিশোধ নেবার জন্য সম্রাট বাবুরকে হত্যা করার সুযোগ খোঁজেন। একদিন দেখেন বাবুর মত্ত হাতির কবল থেকে এক মেথর শিশুকে বাঁচান আপন জীবন বিপন্ন করে। তার মহানুভবতার পরিচয় পেয়ে রণবীর বাবুরের কাছে তার উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!