মহাত্মা গান্ধী অহিংস আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। জাত ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সব মানুষকে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন। মানুষকে তিনি সবার উপরে স্থান দিতেন। তাই তিনি মানবতাবাদী মহান নেতা।

Updated: 7 months ago
উত্তরঃ

জগৎজুড়ে লোকে জাত নিয়ে গৌরব করে।

উত্তরঃ

পৃথিবীর সব মানুষ একই রকম রক্ত-মাংসে গড়া বলে তসবি ও মালা দিয়ে জাত ভিন্ন করা যায় না।

'মানবধর্ম' কবিতায় কবি জাত-ধর্ম বৈষম্যের উর্ধ্বে মানবধর্মকেই স্থান দিয়েছেন। কারণ জন্ম-মৃত্যুর কালে মানুষের বিশেষ কোনো পরিচয় থাকে না। জগতে মানব জাতির মধ্যে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের যে পার্থক্য দেখা যায় তা নিতান্তই বাইরের পার্থক্য। ভিতরে সব মানুষ এক ও অভিন্ন। এই অভিন্ন সত্তাই হচ্ছে মানবধর্ম। মানুষের মধ্যে জাত-ধর্মের যে পার্থক্য দেখা যায় তা কৃত্রিম। এই পার্থক্যের কোনো ভিত্তি নেই। মানবধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। এ কারণেই তসবি বা মালা দিয়ে জাত ভিন্ন করা যায় না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে 'মানবধর্ম' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি।

পৃথিবীতে জাতি-ধর্ম, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় এবং উঁচু-নিচু শ্রেণির মধ্যে যে পার্থক্য ও বৈষম্য রয়েছে তা অর্থহীন। মানবতার চেতনায় উজ্জীবিত মানুষ কখনো জাত-ধর্ম বিচার করে না। তার কাছে সব মানুষই সমান।

উদ্দীপকে এক মানবতাবাদী মহান নেতার কথা বলা হয়েছে। ইনি ভারতের অহিংস আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মহাত্মা গান্ধী। তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করতেন। কার কী জাত-ধর্ম-বর্ণ তা তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত গৌণ বিষয়। মুখ্য ছিল মানবতাবোধ। উদ্দীপকে প্রতিফলিত মহাত্মা গান্ধীর অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি 'মানবধর্ম' কবিতায় প্রতিফলিত ফকির লালন শাহের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ফকির লালনও জাত-পাতের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি পৃথিবীর সব মানুষকে অভিন্ন এক মানবজাতি মনে করেছেন। তিনি পৃথিবীব্যাপী মানুষের জন্য অভিন্ন মানবধর্মের কথা বলেছেন।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর চেতনা যেন 'মানবধর্ম' কবিতার কবির চেতনারই অনুরূপ।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবীতে বিভিন্ন জাত-ধর্মের মানুষ বাস করে। তাদের সবার অভিন্ন এক পরিচয় মানুষ। কারণ জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ইত্যাদি মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়। সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কারণ সবাই একই রকম রক্ত-মাংসে গড়া।

উদ্দীপকে মানবতাবাদী মহাত্মা গান্ধীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ধর্ম-বর্ণের জাতের পার্থক্যকে অস্বীকার করে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তাঁর এই চেতনা 'মানবধর্ম' কবিতায় প্রতিফলিত চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় ফকির লালন শাহ্ও বিশেষ কোনো জাত-ধর্মের গুরুত্ব না দিয়ে কেবল মানবসত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ কবিতায় মানবতাকে সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরে ভেদাভেদহীন মানব সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। অসাম্প্রদায়িক মানবধর্মই তাঁর কাছে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

'মানবধর্ম' কবিতায় লালন শাহ্ মানবধর্মের জয়গান করেছেন। তাঁর মতে আপাতদৃষ্টিতে ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী যাই হোক, মানুষের মূল পরিচয় সে মানুষ। উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধীর চিন্তা ও কর্মেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

99

সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে। 

লালন কয়, জেতের কী রূপ, দেখলাম না এ নজরে ॥

 

কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়,

তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়, 

যাওয়া কিংবা আসার বেলায় 

        জেতের চিহ্ন রয় কার রে ॥

 

গর্তে গেলে কূপজল কয়, 

গঙ্গায় গেলে গঙ্গাজল হয়, 

মূলে এক ভাল, সে যে ভিন্ন নয়,

       ভিন্ন জানায় পাত্র-অনুসারে ॥

 

জগৎ বেড়ে জেতের কথা, 

লোকে গৌরব করে যথা তথা, 

লালন সে জেতের ফাতা 

       বিকিয়েছে সাধ বাজারে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

জাতিগত পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয়। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

এই পৃথিবীতে নানা জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা উচিত নয়।

মনুষ্যধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়। এই পৃথিবীতে সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।

699
উত্তরঃ

উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, এখানেই উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতার মিল পাওয়া যায়।

পৃথিবীতে মানুষের জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় কোনো আসল পরিচয় নয়; তারা সবাই এক ও অভিন্ন মানবজাতি। সব মানুষ রক্ত-মাংসের তৈরি।

উদ্দীপকে পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে দেখা হয়েছে। মানুষকে 'মানুষ জাতি' বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ একই চন্দ্র-সূর্যের তাপ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। বাইরে আলাদা হলেও ভেতরে সবার এক। সবার শরীরেই লাল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় সাধক লালন শাহ্ও পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে কোনো ভিন্ন ভিন্ন জাত খুঁজে পান না। তিনি সব মানুষকে 'অভিন্ন এক জাতি' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এভাবে উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

323
উত্তরঃ

উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় যে-ধর্মচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা হলো মনুষ্যধর্ম।

মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীর সব মানুষ অভিন্ন এক জাত। ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভেদে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়, তা মিথ্যা। জগতে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ।

উদ্দীপকের চরণগুলোতে মানুষ জাতির স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন, বাহ্যিক চেহারায় কিছু পার্থক্য থাকলেও শরীরে প্রবাহিত রক্তের রং সবারই এক, তা হলো লাল। এ বক্তব্যে অভিন্ন এক ধর্মের কথাই উঠে এসেছে। আর এ ধর্ম হলো মনুষ্যধর্ম। 'মানবধর্ম' কবিতায় কবি সব ধর্মকে পরিহার করে সেই মনুষ্যধর্ম চর্চার কথাই বলেছেন। কারণ মনুষ্যধর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

'মানবধর্ম' কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোন ধর্মের বা জাতের এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু লালন বলেছেন জাতকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্যধর্মই মূলকথা। উদ্দীপকেও সেই ধর্মের কথা উঠে এসেছে। কারণ এই ধর্মই মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।

97
উত্তরঃ

মানুষের জাত সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

মরমি সাধক লালন শাহ্'র মানবধর্মের প্রতি কর্মকাণ্ডে জগতের লোকের মনে প্রশ্ন জাগে। লালন শাহ্'র জাত কী? তিনি কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন জাতের, কোন গোত্রের লোক তা তারা জানতে চায়। কারণ লালন কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল মানবসত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। লালনসাধনার গভীরে যেতে পারে না বলেই মানুষ লালন শাহ্'র কাছে জাত সম্পর্কে জানতে চায়। লালন বলেন, জগতে জাতের কোনো রূপ তার চোখে পড়েনি। তিনি কেবল মানুষ চেনেন, মানুষের তৈরি জাত-ধর্ম তাঁর কাছে অর্থহীন।

112
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews