মহানবি (স)-এর হিজরতের কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 4 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের (দেশত্যাগ বা একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন) তিনটি কারণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নবুয়ত প্রাপ্তির ১২ বছর পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মূলত তিনি ইসলাম প্রচার এবং সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধনে মদিনাবাসীকে আবদ্ধ করতে হিজরত করেছিলেন। এছাড়াও মহানবি (স) এর হিজরতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ নিহিত ছিল, যার তিনটি কারণ উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত হিজরতের কারণসমূহের মধ্যে একটি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ। শুষ্ক জলবায়ু এবং উষ্ণ আবহাওয়ার জন্য মক্কাবাসীগণ ছিল রুক্ষ এবং বদমেজাজি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তা করতে পারত না। অপরদিকে, মদিনার সুশীতল স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া ও শস্য-শ্যামল ভূমির কারণে সেখানকার লোকজন সুবিবেচক, দয়ালু, শান্ত ও সরলমনা ছিল। তাই তারা ইসলামকে সাদরে গ্রহণ করে এবং মহানবি (স) কে মদিনায় হিজরতের আহ্বান জানায়। মহানবি (স)-এর হিজরতের আর একটি কারণ হলো তৎকালীন আরবে বিদ্যমান আভিজাত্য ও কৌলীন্যপ্রথা। মক্কার স্বার্থপর পুরোহিত শ্রেণি এবং রক্ষণশীল কুরাইশগণ ইসলাম প্রচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ পৌত্তলিকতার অবসান ঘটিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তারা মহানবি (স)-এর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হিজরত করতে বাধ্য করে। এছাড়া উদ্দীপকে হিজরতের আর যে কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি হলো মদিনাবাসীর মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ মীমাংসাকারী হিসেবে মহানবি (স)কে তাদের আমন্ত্রণ। মদিনার আওস ও খাযরাজ গোত্র দুটি তাদের মধ্যকার বুয়াস নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারীর সন্ধান করছিল। এ কারণে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবি (স)কে তারা আমন্ত্রণ জানায়। তিনি তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় পৌছান। মহানবি (স)-এর মদিনায় হিজরতের উল্লিখিত কারণগুলোই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে l

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
74

Related Question

View All
উত্তরঃ

সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।

আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
131
উত্তরঃ

মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।

১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
73
উত্তরঃ

উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
79
উত্তরঃ

হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।

মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
4 months ago
343
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews