গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল আইনকে যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রাচীন যুগের ও গ্রিসের মানুষ ছিলেন।
জন অস্টিনের মতে, আইনের উৎস হচ্ছে একটি এবং তা হচ্ছে সার্বভৌমের আদেশ। অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস হচ্ছে ছয়টি। যথা- ১. প্রথা, ২. ধর্ম, ৩. বিচারকের রায়, ৪. ন্যায়বিচার, ৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা এবং ৬. আইনসভা। এছাড়া আমরা আইনের আরও কয়েকটি উৎস দেখতে পাই। যেমন- জনমত, প্রশাসনিক ঘোষণা এবং সংবিধান।
উদ্দীপকে অধ্যাপকগণ মনে করেন, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রেই আইন আছে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন নেই।
অধ্যাপকগণের এ রকম উপলব্ধির পিছনে বেশকিছু কারণ বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করে; কিন্তু সরকারে অদক্ষতা ও অযোগ্যতা এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এখানে দলের নেতা বা নেত্রী যা বলেন অধস্তন কর্মীরা তাই মেনে নিতে বাধ্য হন। এভাবে সর্বময় ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। ফলে ক্ষমতায় যাওয়ার পরে দলের নেতা বা নেত্রী আইনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করেন। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন না থাকার কারণে অযোগ্য, অদক্ষ, অশিক্ষিত ও দুর্নীতিবাজ লোকেরা নির্বাচিত হন। তাছাড়া বিচার বিভাগ শাসন বিভাগের দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এজন্য দেশে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না।
উদ্দীপকে অধ্যাপকগণ মনে করেন, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাঁদের মতে, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিধি সম্প্রসারিত হয়। রাষ্ট্র আইনের দ্বারা সুন্দর, সভ্য জীবনযাপনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। রাষ্ট্র আইনের দ্বারা জনগণের স্বাধীনতাকে সংরক্ষণ করে। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। আইনের অবর্তমানে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বৃদ্ধি পায়, সমাজ জীবনে ভয়াবহ অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আইনের অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়। এজন্যই জন লক বলেছেন, "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।" আবার সাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া স্বাধীনতার অর্থ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে চাইলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেননা সাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়া একজনের স্বাধীনতা অন্যের স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হবে। সাম্যের মাধ্যমে উঁচু-নীচু ভেদাভেদ ও বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্য দূর হয়। এজন্যই কোল বলেছেন, "অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।" সুতরাং বলা যায়, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য এ প্রত্যয়গুলো একটি আরেকটির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
Related Question
View Allআইন হলো- সার্বভৌম শাসকের আদেশ"- কথাটি বলেছেন জন অস্টিন।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
আইনের শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
আইনের শাসন গণতন্ত্রের ভিত্তি। মমতাজ সাহেব গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় লেখনী ধারণ করেন।
তিনি আইনের শাসনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় মূল্যবোধের বিকাশের মূল হিসেবে দেখেছেন। যথাযথ আইনের শাসনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আইনের শাসনের মাধ্যমে 'সকল নাগরিক সমান' এ নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগে সমান সুযোগের ভিত্তিতে সবাই বিচার লাভ করবে। দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে সবাই নিরাপত্তা লাভ করবে। আইনের শাসনের এ বিষয়গুলো মূলত গণতন্ত্রের সাথে খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রধানত সংখ্যাগুরুর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। এতে সংখ্যালঘুরাও সমান সুযোগ পাবে, মত প্রকাশের সমান অধিকার থাকবে। আইনের শাসন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, গণতন্ত্র চর্চাকে পরিশীলিত করে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে।
প্রচলিত সাধারণ অর্থানুসারে আইন হলো কতকগুলো বিবিবিধান যা মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে মানতে বাধ্য থাকে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা বলতে যা খুশি তাই করার ক্ষমতাকে বোঝায়। আপাতদৃষ্টিতে আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয়। কিন্তু মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি আমাদেরকে বলতে চাচ্ছে যে, আইন স্বাধীনতার সহায়ক।
বস্তুত আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক। আইন না থাকলে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতাকে সম্প্রসারিত করে। উইলোবি এজন্যই বলেছেন যে, "আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।" অন্যদিকে, স্বাধীনতা না থাকলে আইন অর্থহীন হয়ে যায়। কেননা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকলে আইনের প্রয়োগ সম্ভব হয় না। আইন আছে বলেই কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের বলেই স্বাধীন বাংলার মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আইন না থাকলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার অর্থহীন হয়ে যায়। আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অধিকার দ্বারাই জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে স্বাধীনতা লাভ করে। আইন না থাকলে দুর্বলের স্বাধীনতা রক্ষা করা কতটা সম্ভব হতো তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ব্যাপার। এজন্যই বলা যায়, সাংবাদিক মমতাজ সাহেবের উত্থাপিত বিষয়টি যথার্থ।
আব্রাহাম লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মূল্যবোধ বলতে তুলনামূলক অর্থমূল্য বা অন্তর্নিহিত গুণাবলিকে বোঝানো হয়। আর সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ বলতে বোঝানো হয় এমন রীতিনীতি, আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং সমর্থিত। সমাজের বৃহত্তর অংশ দ্বারা মূল্যবোধ সমর্থিত হতে হবে। এটি কোনো স্থির বিষয় নয়। সমাজ-স্থান-কাল-পাত্রভেদে মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!