পরিবার হলো স্বামী-স্ত্রী দ্বারা সৃষ্ট মোটামুটি স্থায়ী একটি সংঘ, যেখানে সন্তান-সন্ততি থাকতে পারে আবার নাও পারে।
পরিবার হচ্ছে সমাজের মৌলিক ও ক্ষুদ্রতম সংগঠন। পরিবার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। দাম্পত্য জীবনের আকর্ষণ, সন্তান জন্মদান ও প্রতিপালন, নিরাপত্তা, সমাজবদ্ধ জীবনের সহজাত প্রবৃত্তি মানুষকে পরিবার গঠনে অনুপ্রাণিত করে। সমাজ গঠিত হয় অনেকগুলো পরিবারের সমন্বয়ে। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমষ্টিই হলো সমাজ। পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বসবাস করে মানুষ যে সংগঠনের আচরণবিধি মেনে চলে তখনই সমাজের সৃষ্টি হয়।
মাইশার আত্মবিশ্বাসী ও বন্ধুসুলভ হওয়ার কারণ হলো পারিবারিক বন্ধন।
পারিবারিক বন্ধন বলতে বোঝায় মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে আসক্তি। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস, আস্থা এই সম্পর্ককে দৃঢ় করে। ফলে পরিবারে সুখ-শান্তি ও সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করে।
পারিবারিক বন্ধন শিশুর জীবনবিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই উদ্দীপকে 'মাইশার ক্ষেত্রে। মাইশা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলেও তার সবসময় বাবা-মার কথা মনে পড়ে। এর জন্য সে ছুটির দিন গুনতে থাকে। কারণ ছুটি হলেই সে বাড়িতে যেয়ে সবার সাথে সময় কাটাতে পারবে। এ থেকে বোঝা যায়, মাইশাদের পরিবারে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ়। পারিবারিক বন্ধনের কারণে মাইশা তার বাবা-মার কাছ থেকে পর্যাপ্ত' স্নেহ ভালোবাসা পায়। এই স্নেহ ভালোবাসা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আবার ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাকে সুখী, সমৃদ্ধশালী এবং সাফল্যময় করে তোলে। এর ফলে সে সক্রিয়, উদ্যোগী ও মিশুক হয়ে উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে পারিবারিক বন্ধনের ভূমিকা অপরিসীম। তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সকলের প্রচেষ্টা, আগ্রহ ও সচেতনতা আবশ্যক।
'অর্থ উপার্জনই পরিবারের একমাত্র "কাজ নয়' রিতার এ বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
অর্থ উপার্জন পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরিবারই সদস্যদের সকল আর্থিক চাহিদা পূরণ করে থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিবারের আরো কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। যেগুলো ছাড়া পরিবারের ভূমিকা ব্যর্থ হয়ে যায়।
রিতার বাবা-মা তাদের পেশাগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। অর্থাৎ তারা পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ ভালোভাবে পূরণ করেন। কিন্তু তারা রিতাকে কোনো সময় দেন না। তার লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেন না। এর ফলে রিতা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এই মানসিক বিপর্যস্ততা প্রমাণ করে তাদের পরিবারে মনস্তাত্ত্বিক কাজের অপূর্ণতা রয়েছে। পরিবারে বাবা-মার কাছ থেকেই শিশু সামাজিকতার শিক্ষা লাভ করে। কিন্তু রিতার ভাইয়ের আচরণ সামাজিক নয়। অর্থাৎ রিতার বাবা-মা তাকে সঠিকভাবে সামাজিকতার শিক্ষা দিতে পারেনি। ফলে তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
পারিবারিক পরিমণ্ডলেই শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। সেক্ষেত্রে, বাবা-মাই শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ব্যস্ততার 'কারণে রিতার বাবা-মা তাদেরকে সময় দিতে পারেন না। যার কারণে তার ভাই ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। আর এ ব্যাপারে তাদের বাবা- মায়েরও কোনো খেয়াল নেই। এক্ষেত্রে রিতার পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের অপূর্ণতা লক্ষ করা যায়। পরিশেষে বলা যায়, অর্থ উপার্জন ছাড়া পরিবারের অন্যান্য কাজগুলো রিতাদের পরিবারের দেখা যায় না। এর ফলে রিতার পরিবারের সাথে তার বন্ধন দৃঢ় নয়।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!