মাছ ব্যবসায়ী তার ঝুড়ির মাছগুলো বরফজাত করছেন। সাধারণত মাছ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রির পূর্বে পরিবহনের সময় বরফজাতকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। বরফজাতকরণ পদ্ধতিতে প্রথমে মাছকে সাধারণ পানিতে ধুয়ে নেওয়া
হয়। এক্ষেত্রে মাছের আঁইশ কিংবা নাড়িভুঁড়ি বের করা হয় না। অতঃপর টুকরি বা ঝুড়ি অর্থাৎ যে পাত্রে মাছ রাখা হবে সেটি পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিয়ে ঝুড়ির ভেতরের চারদিকে চটের একটি আস্তরণ দেওয়া হয়। টুকরি বা ঝুড়ির তলায় ১.৫-২ ইঞ্চি পুরু করে টুকরা করা বরফের স্তর দেওয়া হয়। এরপর একস্তর মাছের উপর একস্তর বরফ রেখে স্তরে স্তরে বরফ ও মাছ সাজিয়ে ঝুড়িটি ভর্তি করা হয়। এভাবে মাছের সর্বশেষ স্তরের উপরে একস্তর বরফ দিয়ে তার উপরে একটি চটের টুকরা দিয়ে ঢেকে সেলাই করে দেওয়া হয়। বরফের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ক্লোরোটেট্রাসাইক্লিন বা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন নামক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বরফ ও মাছের অনুপাত মাছের ওজন ও ঋতুর ওপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় মাছ ও বরফের অনুপাত গ্রীষ্মকালে ১:১ এবং শীতকালে ২: ১ রাখা হয়। সঠিক পরিচর্যা, বরফ ও মাছের সঠিক অনুপাত এবং সঠিক পাত্র ব্যবহার করা হলে এ পদ্ধতিতে মাছ ও চিংড়িকে ৭-১০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। উপরে উল্লিখিত পদ্ধতি অবলম্বন করে মাছ ব্যবসায়ী মাছ বরফজাত করেছিলেন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allকোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।
পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।
চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।
চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।
গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-
বৈশিষ্ট্য | গলদা চিংড়ি | বাগদা চিংড়ি |
|---|---|---|
| মাথা ও ক্যারাপেস | বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক | ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। |
| রোস্ট্রাম | লম্বা ও বাঁকানো | খাটো ও সোজা। |
| রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যা | উপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি। | উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি। |
| অ্যানটেনিউল | তিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত। | দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত। |
| শিরোবক্ষ | অন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত। | অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক। |
| প্লুরা | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে। | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে। |
| বক্ষোপাঙ্গ | প্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। | প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। |
| আবাসস্থল | প্রধানত স্বাদু পানি। | লোনা পানি। |
| বর্ণ | হালকা সবুজ বাদামি। | হালকা বাদামি। |
প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!