'মাঝি' কবিতার কিশোর খেয়াঘাটের মাঝি হতে চায় কারণ সে মাঝির স্বাধীন ও কর্মচঞ্চল জীবন দ্বারা ভীষণভাবে আকৃষ্ট। মাঝির কাজ তার কাছে অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ ও আনন্দময় মনে হয়। সে বইখাতা ও পড়ালেখার একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেয়ে নদীতে ঘুরে বেড়ানো, যাত্রীদের পারাপার করা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার রোমাঞ্চকর জীবন বেছে নিতে চায়। মাঝির মতো সেও মুক্ত বিহঙ্গের মতো জীবন যাপন করতে এবং মানুষের উপকারে আসতে চায়, যা তার কাছে অনেক বেশি আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর মনে হয়।
Related Question
View All'ময়নামতীর চর' কবিতাটি থেকে কিছু উদাহরণ দেওয়া হল:
বিহানে-সকালে
ধরি-ধরে
কবি এই উক্তির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বক পাখিরা সাধারণত জলাশয়ের আশেপাশে মাছ ধরে জীবনযাপন করে। কিন্তু পরিবেশের পরিবর্তন বা খাদ্যসংকটের কারণে অথবা প্রাকৃতিক সহাবস্থানের ফলে তারা এখন গোচারণ ভূমিতে বিচরণকারী অন্যান্য পাখির মতো মাঠের ঘাস বা শস্যক্ষেত্রে খাবার খুঁজছে অথবা তাদের সাথে একই স্থানে অবস্থান করছে।
এটি প্রকৃতির এক নতুন চিত্রায়ণ যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি একে অপরের আশ্রয় বা খাদ্যের ক্ষেত্র ভাগ করে নিচ্ছে, যা প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতা এবং প্রাণীদের অভিযোজন ক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে। এখানে বকদের খাদ্যাভ্যাস বা বিচরণক্ষেত্রে ভিন্নতা আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
'ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো' এই চরণটি বিখ্যাত ছড়াকার সুকুমার রায়ের 'বোম্বাগড়ের রাজা' নামক কবিতার অংশ। এই চরণের মাধ্যমে কবি হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন এবং প্রচলিত যুক্তির বাইরে গিয়ে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।
কবি এখানে একটি স্ববিরোধী চিত্র এঁকেছেন। তিনি বলছেন, ফুলের গন্ধ চাইলে হাত পাততে, কিন্তু গন্ধ তো কোনো বস্তু নয় যা হাত পেতে নেওয়া যায়। গন্ধ অনুভব করার জন্য শুঁকতে হয়, স্পর্শ করে নেওয়া যায় না। এই অবাস্তব নির্দেশনা দিয়ে কবি পাঠককে এক মজার ধাঁধায় ফেলে দেন।
মূলত, সুকুমার রায় তাঁর রচনায় এমন অযৌক্তিক ও হাস্যরসাত্মক বিষয়াবলি তুলে ধরে শিশুদের মন জয় করেছেন। এই চরণের মধ্য দিয়ে তিনি বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনাকে মিশিয়ে এক ভিন্ন জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে সাধারণ নিয়মকানুন খাটে না। এর উদ্দেশ্য হলো পাঠকের মনে কৌতুক ও আনন্দ জাগানো এবং চিরাচরিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুনভাবে ভাবতে শেখানো।
'ভালো কথা। বুদ্ধির কাজ করেছিস।' – এই উক্তিটির মাধ্যমে লেখক মূলত একজন চরিত্রের বিচক্ষণতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং সমস্যার কৌশলপূর্ণ সমাধান করার ক্ষমতাকে স্বীকৃতি ও প্রশংসা করেছেন।
প্রদত্ত প্রেক্ষাপটে, লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চরিত্রটি এমন একটি কাজ করেছে যা প্রচলিত বা সাধারণ ভাবনা থেকে আলাদা এবং যার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার ছাপ রয়েছে। এটি কেবল একটি সমস্যার সমাধানই নয়, বরং সেটি এমনভাবে করা হয়েছে যা কার্যকর এবং প্রশংসার দাবি রাখে। লেখক এই উক্তির মাধ্যমে চরিত্রের এই বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের প্রতি নিজের অনুমোদন ও প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।
কবির জসীমউদ্দীন রচিত 'ময়নামতীর চর' কবিতার চরের মানুষের জীবন অত্যন্ত সংগ্রামমুখর ও প্রতিকূলতায় ভরা। তাদের জীবন-যাপন প্রকৃতির দয়ার ওপর নির্ভরশীল এবং প্রকৃতির রুক্ষতা ও ভাঙাগড়ার সঙ্গে অবিরাম যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়।
চরের মানুষেরা সাধারণত কৃষি ও মৎস্য শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রতি বছর নদীভাঙন, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা কেড়ে নেয়, ফলে তাদের বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়।
এই প্রতিকূলতার মাঝেও তারা সহজ-সরল জীবনযাপন করে। পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তারা নিজেদের সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অসাধারণ প্রাণশক্তি ও সহনশীলতা তাদের মধ্যে দেখা যায়, যা তাদের জীবনযাত্রার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
উপসর্গ এবং প্রত্যয় উভয়ই বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ গঠনে সাহায্যকারী পদাংশ, কিন্তু এদের কার্যকারিতা ও অবস্থানে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
অবস্থানগত পার্থক্য:
- উপসর্গ: সর্বদা মূল শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে অথবা মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়। যেমন: 'প্র' (উপসর্গ) + 'হার' = 'প্রহার'।
- প্রত্যয়: সর্বদা মূল শব্দ বা ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে এবং শব্দের প্রকৃতি পরিবর্তন করে। যেমন: 'চল্' (ধাতু) + 'অন' (প্রত্যয়) = 'চলন'।
অর্থগত পার্থক্য:
- উপসর্গ: সাধারণত শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, কখনও বিপরীত অর্থ দেয়, কখনওবা অর্থকে জোরদার করে। এদের স্বাধীন কোনো অর্থ নেই, কিন্তু শব্দের সাথে যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন ঘটায়।
- প্রত্যয়: নতুন শব্দ তৈরি করে এবং অনেক সময় শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণী পরিবর্তন করে (যেমন: বিশেষ্য থেকে বিশেষণ বা ক্রিয়া থেকে বিশেষ্য)। এদেরও স্বাধীন কোনো অর্থ নেই।
সংখ্যাগত পার্থক্য:
- উপসর্গ: বাংলা ভাষায় দেশি, বিদেশি ও সংস্কৃত মিলিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক উপসর্গ রয়েছে (যেমন, বাংলা উপসর্গ ২১টি, সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি)।
- প্রত্যয়: প্রত্যয়ের সংখ্যা অনেক বেশি এবং এদের প্রকারভেদও ব্যাপক (যেমন, কৃত প্রত্যয়, তদ্ধিত প্রত্যয়)।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!