Related Question
View Allলোকশিল্পীদের শিল্পকর্মের পাঁচটি উদাহরণ হলো-
১. শখের হাঁড়ি,
২. নকশিকাঁথা,
৩. পাটের শিকা,
৪. নকশি পিঠা,
৫. মাটি টিপে টিপে তৈরি হাতি।
কারুশিল্পীদের শিল্পকর্মের পাঁচটি উদাহরণ হলো-
১. ফুলদানি,
২. বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র,
৩. তাঁতের শাড়ি
৪. জামদানি শাড়ি,
৫. মাটির ভাস্কর্য।
চারু ও কারুশিল্পীরা উপার্জন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কাজ করে চলছেন এমন দশটি বিষয় ও সংস্থানের নাম নিচে দেওয়া হলো-
দশটি বিষয়ের নাম:
১. ছবি এঁকে
২. প্রদর্শনী করে;
৩. ভাস্কর্য শিল্প তৈরি করে;
৪. জামদানি শাড়ি;
৫. আদিবাসীদের তাঁতের শাড়ি;
৬. আসবাবপত্র তৈরিতে;
৭. সংগীতচর্চায় যন্ত্র তৈরিতে;
৮. নকশি কাঁথা;
৯. পাটের তৈরি শিকা ও
১০. মাটির তৈরি ফুলদানি।
দশটি সংস্থানের নাম:
১. বিজ্ঞাপনী সংস্থায়;
২. বই-পুস্তকের ছবি আঁকায়;
৩. খবরের কাগজে;
৪. সিনেমা শিল্পে;
৫. টেলিভিশনের সেট নির্মাণে;
৬. লোক শিল্পে;
৭. ঔষধ শিল্পে;
৮. বিভিন্ন কলকারখানায়;
৯. ইনটেরিয়র ডিজাইন ও
১০. স্থাপনা শিল্পে।
বাংলাদেশ শিল্পকলায় সমৃদ্ধ একটি দেশ। আধুনিককালে আমরা
যেমন অনেক মানসম্মত লোকশিল্পের দেখা পাই তেমনি প্রাচীন আমলেও বাংলা অঞ্চল ছিল মানসম্মত শিল্পকলায় সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্পকলা বলতে সাধারণত প্রাচীন জনপদ থেকে আবিষ্কৃত শিল্পকলাকে বোঝায়।
বাংলাদেশের তিনটি প্রাচীন জনপদ হলো রাজশাহীর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতি ও বগুড়ার মহাস্থানগড়। এসব অঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন টিকে থাকা এমন সব শিল্পকলার সন্ধান মিলেছে যা বাংলার প্রাচীন শিল্পকলা হিসেবে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহা ও তামার হাতিয়ার, হাড়ি-পাতিল, মূর্তি, পোড়া মাটির ভগ্নপাত্র, ফলকচিত্র, পাথরের মূর্তি, পাথরের ফলকচিত্র, শিলালিপি বা পাথরে উৎকীর্ণ লেখা ফরমান, খিলান, স্তন্ত, ভগ্নদশায় ভবন ও ঘরবাড়ির কাঠামো, সে সময়ে ব্যবহৃত ধাতব মুদ্রা ও অলংকার। এ সকল প্রাচীন শিল্পকলার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কষ্টিপাথর বা কালো পাথরের তৈরি মূর্তি। প্রাচীন জনপদ ছাড়াও অনেক পুরানো ইমারতে প্রাচীন স্থাপত্যকলার নির্দশন পাওয়া যায়। যেমন, রাজশাহীর 'ছোট সোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, পুঠিয়ার রাজবাড়ীর মন্দির, লালবাগ দুর্গ, বাগের হাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ, আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ প্রভৃতি। এ সকল স্থাপত্যের দেয়ালে প্রাচীন শিল্পকলার ব্যবহার রয়েছে।
আমরা জানি যে, যেসব দ্রব্য সাধারণত হালকা-পাতলা ও পচনশীল সেগুলো মাটির নিচে বেশিদিন টিকে থাকে না। সময়ের বিবর্তনে এক সময় ক্ষয়ে অথবা পচে মাটির সাথে মিশে যায়। যেমন, কাগজ, হালকা-ও অধিকতর পাতলা ধাতব পদার্থ, চামড়া জাতীয় দ্রব্য ইত্যাদি। এগুলো মাটির নিচে বেশিদিন স্থায়ী হয় না। আর বাংলার যে জনপদগুলো মাটির নিচ থেকে খননের মাধ্যমে আবিষ্কার করা হয়েছে সেগুলো ছিল হাজার বছরেরও আগের। ধ্বংস ও মাটির নিচে চাপা পড়া এ সব জনপদের যে জিনিসগুলো কঠিন ধাতব পদার্থ কিংবা পাথর দ্বারা তৈরি ছিল সেগুলোই শুধুমাত্র রক্ষা পেয়েছে। এ কারণে কষ্টি পাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক ও শিলালিপি প্রাচীন শিল্পকলার নিদর্শন হিসেবে এখনও টিকে আছে। অপচনশীল ও কঠিন পদার্থ হওয়ায় এগুলো কালের পরিক্রমায় পচে কিংবা ক্ষয়ে মাটির সাথে মিশে যায় নি। এছাড়াও সে সময়ের মুদ্রা, তামা ও লোহার হাতিয়ার, অলংকার এগুলোও রক্ষা পেয়েছে।
বর্তমানে এগুলো সংগ্রহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মাটির স্তূপ ও গড় অঞ্চল খনন করে বেশ কিছু জনপদের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলো হলো-১. রাজশাহী অঞ্চলের পাহাড়পুর, ২. কুমিল্লার ময়নামতি, ৩. বগুড়ার মহাস্থানগড়, ৪. নরসিংদী জেলার উয়ারী বটেশ্বর এবং ৫. সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জ জেলার নাটেশ্বর।
রাজশাহী অঞ্চলে পাহাড়পুর ও কুমিল্লার ময়নামতি উভয়ই প্রাচীন জনপদ। এ দুটি জনপদ ধ্বংস হয়ে গেছে। কারণ গত কয়েক হাজার বছর ধরে বাংলা অঞ্চল কখনো গোটা অঞ্চল কখনো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন রাজা ও শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের রেষারেষি ও যুদ্ধবিগ্রহ সব সময় লেগেই ছিল, পরাজিত অঞ্চলে লুট করা, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, ধ্বংস করে দেওয়া এসব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তাই কোনো কোনো অঞ্চল বিরান অর্থাৎ মানবশূন্য হয়ে যেত। দীর্ঘকাল বিরান থেকে এক সময় মাটি চাপা পড়ে যেত। ঝড়ঝঞ্ঝা ও ভূমিকম্পের কারণেও এরকম মাটি চাপা পড়ে যেত। এভাবেই রাজশাহী অনালের পাহাড়পুর ও কুমিল্লার ময়নামতি জনপদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।.
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!