মাদক গ্রহণের নেতিবাচক প্রভাবসমূহ নিম্নরূপ-
i. মাদকদ্রব্য মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
ii. মাদকদ্রব্য পারিবারিক ও সমাজ জীবনে নানারকম অনিষ্টকর প্রভাব ফেলে। মাদকদ্রব্য সেবনকারী পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে উগ্র আচরণ করে। এর ফলে পরিবারের শান্তি বিনষ্ট হয়।
iii. মাদকের ব্যবহার শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। মাদকদ্রব্য সেবন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষকে ধ্বংস করে এবং খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে।
iv. কিছু মাদক (যেমন: সিরিঞ্জের সাহায্যে মাদক গ্রহণ) এইচআইভি ও হেপাটাইটিস-বি এর সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
V. মাদক গ্রহণের ফলে এগুলোর ওপর সেবনকারীর শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়, যা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না।
vi. মাদক গ্রহণ করলে খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীর ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস ও ব্লাড প্রেসার ইত্যাদি জটিল রোগ হতে পারে।
vii. তামাক ও তামাকজাতীয় মাদকের ফলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত চলাচল কমে যায়, কখনো কখনো রক্ত চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, কখনোবা রক্তনালী ফেটে যায়।
viii. সর্বোপরি মাদক গ্রহণে আর্থিক ক্ষতি হয় এবং সমাজে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে অনেকের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। অনেকে লেখাপড়া ছেড়ে দেয় ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। যেসব দ্রব্য সেবন করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে ও নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে এবং এগুলোর প্রতি আসক্তি জন্মে, সেগুলোই হলো মাদকদ্রব্য।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -
১. মাদকদ্রব্য ও মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ জানতে পারব।
২. ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে মাদকের পরিণতি ব্যাখ্যা করতে পারব।
৩. ধূমপান ও মাদকের বিষয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম হব।
৪. ধূমপান ও মাদকের পরিণতি উপলব্ধি করে পরিশীলিত জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allযেসব দ্রব্য সেবন করলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং আসক্তি জন্মে সেগুলোই মাদকদ্রব্য। যেমন: হেরোইন, গাঁজা, সিগারেট, ভাং ইত্যাদি। মাদক সেবনের ফলে মাদকদ্রব্যের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতার সৃষ্টি হয়। যারা মাদক সেবন করে তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয় ও. বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
মাদক সেবনের ফলে মাদকের প্রতি প্রচন্ড শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি হওয়াকে মাদকাসক্তি বলে। মাদকদ্রব্যগুলো হলো- সিগারেট, বিড়ি, তামাক, মদ, গাঁজা, ভাং, হেরোইন ইত্যাদি। এসব দ্রব্য সেবনের ফলে আসক্তি সৃষ্টি হয়, জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। কখনো কখনো ওষুধ ও মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের মা-বাবা বা অন্য সদস্য যদি নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, সেই পরিবারের সন্তানেরা সহজেই মাদকাসক্ত হয়। মাদকাসক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমবয়সী, বন্ধু, সহপাঠী ও সঙ্গী-সাথীদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ছেলেমেয়েরা দিনের অধিকাংশ সময়ই স্কুলে সঙ্গী-সাথীদের সাথে কাটায়। সঙ্গী-সাথীদের কেউ মাদকে আসন্ত হলে, তাদের প্ররোচনায় বা কৌতূহলবশত মাদক সেবন করে ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
১. মাদকদ্রব্য মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
২. মাদকদ্রব্য পারিবারিক ও সমাজ জীবনে নানারকম যন্ত্রণাদায়ক প্রভাব ফেলে।
৩. মাদকদ্রব্য সেবনের ফলে এইচআইভি ও হেপাটাইটিস-বি এর সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৪. মাদক ক্রয়ে আর্থিক ক্ষতি হয়।
মাদক সেবনের ফলে মাদকের প্রতি প্রচন্ড শারীরিক ও মানসিক নির্ভরতা সৃষ্টি হওয়াকে মাদকাসক্তি বলে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে মাদক সেবন করে। পরিবারে বাবা-মা বা অন্য কোনো সদস্য যদি নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, তাহলে সেই পরিবারের সন্তানেরা সহজেই মাদকাসক্ত হয়। মাদকাসক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমবয়সী, বন্ধু, সহপাঠী ও সঙ্গী-সাথীদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কারণ ছেলেমেয়েরা দিনের অধিকাংশ সময়ই সঙ্গী-সাথীদের সাথে কাটায়। সঙ্গী-সাথীদের কেউ যদি মাদকে আসক্ত হয়, তার প্ররোচনায় কৌতূহলবশত-মাদক সেবন করে। সেও ধীরে ধীরে-মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!