মাদার তেরেসা আশৈশব স্বপ্ন দেখেন মানবসেবার। একসময় যোগ দেন খ্রিষ্টান মিশনারির সঙ্গে । মানুষকে আরও কাছে থেকে সেবা দেয়ার লক্ষ্যে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন মিশনারিজ অব চ্যারিটি। তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আরো অনেকেই এগিয়ে আসেন এ মহান কাজে। এক সময় এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন নোবেল পুরস্কার । সারাজীবনে তাঁর সবটুকু উপার্জনই বিলিয়ে দেন মানবের কল্যাণে। যে মানুষ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সাবলম্বী মানুষ। এজন্যই তাঁর চ্যারিটি গতানুগতিক কোন সেবা-সংস্থা নয় ।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানবকল্যাণ কথাটা সাধারণত দান, খয়রাত, সরাসরি সাহায্য করা এবং অভাবীর অভাব দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক"—উক্তিটি দ্বারা রাষ্ট্রের অপরিহার্যতা এবং এর গভীর তাৎপর্য বোঝানো হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, রাষ্ট্র কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা বা শাসনব্যবস্থা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট জনসমষ্টির সম্মিলিত ইচ্ছা, আবেগ, সংস্কৃতি এবং জীবনাচরণের এক প্রতিচ্ছবি।

এই উক্তিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সঙ্গে জাতির আত্মিক বন্ধন তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্র তার জনগণের সম্মিলিত অস্তিত্ব, তাদের অভিন্ন লক্ষ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা যৌথ চেতনারই মূর্ত প্রতীক। অর্থাৎ, জনগণ যেমন তাদের জীবন ও চেতনার মধ্য দিয়ে একটি জাতি গঠন করে, তেমনি সেই জাতির সকল বৈশিষ্ট্য ও আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়েই রাষ্ট্র গঠিত হয় এবং কার্যকর থাকে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকটি আবুল ফজলের 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সেই দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে গতানুগতিক দান-খয়রাত বা সাহায্য-সহযোগিতার পরিবর্তে মানুষকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে প্রকৃত মানব-কল্যাণ সাধনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রবন্ধটি মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা কেবল বস্তুগত সহায়তার ঊর্ধ্বে একটি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়।

উদ্দীপকে মাদার তেরেসার কর্মপ্রচেষ্টা এই ধারণারই প্রতিচ্ছবি। তিনি কেবল দুঃখী মানুষের সেবা করেননি, বরং 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন। তার চ্যারিটি গতানুগতিক সেবা-সংস্থা ছিল না; এর উদ্দেশ্য ছিল এমন মানুষ তৈরি করা, যারা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী হবে। প্রবন্ধে যেমন বলা হয়েছে, দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক যেন দাস-মালিকের মতো না হয়ে সহমর্মী মানুষের মতো হয়, মাদার তেরেসার উদ্যোগেও সেই ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

সুতরাং, উদ্দীপকে মাদার তেরেসার সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মূল সুর এবং 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। উভয়ক্ষেত্রেই মানব-কল্যাণকে কেবল দয়ার্দ্রতা বা করুণা থেকে উৎপন্ন সাময়িক সাহায্য হিসেবে দেখা হয়নি, বরং মানুষের আত্মিক ও সামাজিক মুক্তির পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই যে প্রকৃত মানব-কল্যাণ, এই দিকটিই উদ্দীপক ও প্রবন্ধের মধ্যে মূল সাদৃশ্য স্থাপন করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটি একটি গতানুগতিক সেবা সংস্থা ছিল না, কারণ এটি শুধু দারিদ্র্য বিমোচন বা তাৎক্ষণিক সাহায্য প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিত। এটি প্রচলিত ত্রাণ বিতরণ পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার ও সক্ষমতা বিকাশের দিকে লক্ষ্য স্থির করেছিল।

উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে যে, মাদার তেরেসা মানুষকে আরও কাছ থেকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন এবং মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সেবার মূল লক্ষ্য ছিল "যে মানুষ হবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সাবলম্বী মানুষ"। এই উক্তিটিই প্রমাণ করে যে, তাঁর চ্যারিটি শুধু দুস্থদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া বা আশ্রয় দেওয়ার মতো গতানুগতিক কার্যক্রমের বাইরে ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত সেবা তখনই সম্ভব যখন মানুষ তার নিজস্ব ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হয় এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।

প্রচলিত অনেক সেবা সংস্থা কেবল সাময়িক প্রয়োজন মেটায়, যা ব্যক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদে পরনির্ভরশীল করে তুলতে পারে। কিন্তু মাদার তেরেসার চ্যারিটি এই ধারার বিপরীতে গিয়ে মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। তিনি চেয়েছিলেন, তাঁর সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যেন সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে। এজন্যই তিনি তাঁর সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং তারা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে।

সুতরাং, মাদার তেরেসার চ্যারিটি শুধু বস্তুগত সাহায্য নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, আত্মমর্যাদা ও স্বাবলম্বনের বার্তা বহন করত। এই গভীর এবং দূরদর্শী চিন্তাভাবনাই তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটিকে অন্যান্য গতানুগতিক সেবা সংস্থা থেকে স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী করে তুলেছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
139

মানব-কল্যাণ— এ শিরোনাম আমার দেওয়া নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানব-কল্যাণ
কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে । একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও আমরা মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি । মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে এতে যে ক্ষুণ্ণ করা হয় তা সাধারণত উপলব্ধি করা হয় না ।
ইসলামের নবি বলেছেন, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। নিচের হাত মানে যে মানুষ হাত পেতে গ্রহণ করে, ওপরের হাত মানে দাতা- যে হাত তুলে ওপর থেকে অনুগ্রহ বর্ষণ করে। দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা তার সর্ব অবয়বে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তার বীভৎস দৃশ্য কার না নজরে পড়েছে? মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। এ কথা
ব্যক্তির বেলায় যেমন সত্য, তেমনি দেশ আর রাষ্ট্রের বেলায় বরং অধিকতর সত্য। কারণ, রাষ্ট্র জাতির যৌথ
জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসন চালানোই নয়, জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব । যে রাষ্ট্র হাতপাতা আর চাটুকারিতাকে দেয় প্রশ্রয়, সে রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না ।
তাই মানব-কল্যাণ অর্থে আমি দয়া বা করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাতকে মনে করি না। মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না। মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত। একদিন এক ব্যক্তি ইসলামের নবির কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল । নবি তাকে একখানা কুড়াল কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এটি দিয়ে তুমি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা রোজগার করো গে। এভাবে তিনি লোকটিতে শুধু স্বাবলম্বনের পথ দেখাননি, সে সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মর্যাদাবান হওয়ার, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের উপায়ও ।
মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং মানবিক-বৃত্তির বিকাশের পথেই বেড়ে উঠতে হবে আর তার যথাযথ ক্ষেত্র রচনাই মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান। সে সোপান রচনাই সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট পরিবার— সে পরিবারকেও পালন করতে হয় এ দায়িত্ব। কারণ, মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা সেখান থেকেই। ধীরে ধীরে ব্যাপকতর পরিধিতে যখন মানুষের বিচরণ হয় শুরু, তখন সে পরিধিতে যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে— তা শিক্ষা কিংবা জীবিকা সংক্রান্ত যা হোক না তখন সে দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়। তবে তা অনেকখানি নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র গড়ে তোলার ওপর।
মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না । প্রতিটি মানুষ যেমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি তার কল্যাণও সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত। উপলব্ধি ছাড়া মানব-কল্যাণ স্রেফ দান-খয়রাত আর কাঙালি ভোজনের মতো মানব-মর্যাদার অবমাননাকর এক পদ্ধতি না হয়ে যায় না, যা আমাদের দেশ আর সমাজে হয়েছে। এসবকে বাহবা দেওয়ার এবং এসব করে বাহবা কুড়োবার লোকেরও অভাব নেই দেশে ।
আসল কথা, মানুষের মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল এ ধরনের মানব-কল্যাণ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হতে পারে না। এ হেন মানব-কল্যাণের কুৎসিত ছবি দেখার জন্য দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের আশে-পাশে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলেই তা দেখা যায় ।
বর্তমানে মানব-কল্যাণ অর্থে আমরা যা বুঝি তার প্রধানতম অন্তরায় রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা— যা মানুষকে মেলায় না, করে বিভক্ত। বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না । করা যায় একমাত্র সমতা আর সহযোগ-সহযোগিতার পথে।
সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি। বিদ্যাপতি চীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাইতো মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক উক্তি : “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।
এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিম্নলিখিত উক্তিটিও স্মরণীয় : “Relationship is the fundamental truth of the world of appearance.” কবি এ উক্তিটি করেছিলেন তাঁর হিবার্ট বক্তৃতামালায়। অন্তর-জগতের বাইরে যে জগৎকে আমরা অহরহ দেখতে পাই তার মৌলিক সত্য পারস্পরিক সংযোগ-সহযোগিতা, কবি যাকে Relationship বলেছেন। সে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়।
মানব-কল্যাণ অলৌকিক কিছু নয়— এ এক জাগতিক মানবধর্ম। তাই এর সাথে মানব-মর্যাদার তথা Human dignity-র সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আজ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলে কী দেখতে পাই? দেখতে পাই দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে রিলিফ, রিহেবিলিটেশন ইত্যাদি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। রেডক্রস ইত্যাদি সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধিই কি প্রমাণ করে না মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ মানব-অপমানে পরিণত হয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদার স্বীকৃতি আর প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত না হয়ে পারে না ।
কালের বিবর্তনে আমরা এখন আর tribe বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব নই— বৃহত্তর মানবতার অংশ। তাই Go of humanity-কে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিংবা খতিভাবে দেখা বা নেওয়া যায় না। তেমনি নেওয়া যায় না তার কল্যাণকর্মকেও খণ্ডিত করে। দেখতে মানুষও অন্য একটা প্রাণী মাত্র, কিন্তু ভেতরে মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যে সম্ভাবনার স্ফুরণ-স্ফুটনের সুযোগ দেওয়া, ক্ষেত্র রচনা আর তাতে সাহায্য করাই শ্রেষ্ঠতম মানব-কল্যাণ। সেটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথে হতে পারে না। হালে যে দর্শনকে অস্তিত্ববাদ নামে অভিহিত করা হয়, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Existentialism তারও মূল কথা ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দান ।
বল প্রয়োগ কিংবা সামরিক শাসন দিয়ে মানুষকে তাঁবেদার কিংবা চাটুকার বানাতে পারা যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করা যায় না মানব-মর্যাদার আসনে। সব কর্মের সাথে শুধু যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে তা নয়, তার সামাজিক পরিণতি তথা Social consequence-ও অবিচ্ছিন্ন। যেহেতু সব মানুষই সমাজের অঙ্গ, তাই সব রকম কল্যাণ-কর্মেরও রয়েছে সামাজিক পরিণতি। এ সত্যটা অনেক সময় ভুলে থাকা হয়। বিশেষত যখন দৃষ্টি থাকে ঊর্ধ্ব দিকে তথা পরলোকের পানে ।
স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। সব ধর্ম আর ধর্ম-প্রবর্তকেরা বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের ভালো করো, মানুষের কল্যাণ করো, সুখ-শান্তি দান করো মানুষকে । এমনকি সর্বজীবে হিতের কথাও বলা হয়েছে। অতএব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। নতুন পদ্ধতিতে— যা হবে বৈজ্ঞানিক, র‍্যাশনাল ও সুবুদ্ধি-নিয়ন্ত্রিত। সমস্যা যত বড় আর যত ব্যাপকই হোক না তার মোকাবেলা করতে হবে সাহস আর বুদ্ধিমত্তার সাথে। এড়িয়ে গিয়ে কিংবা জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায় না।
আমাদের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব। একমাত্র মুক্ত বিচারবুদ্ধির সাহায্যেই বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারকে ধ্বংসের পরিবর্তে সৃজনশীল মানবিক কর্মে করা যায় নিয়োগ। তা করা হলেই মানব-কল্যাণ হয়ে উঠবে মানব-মর্যাদার সহায়ক।
[সংক্ষেপিত]
 

Related Question

View All
141
উত্তরঃ

আপনার উক্তিটি সঠিক, "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।" কথাটি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন।

বিস্তারিত:

  • উপরের হাত এবং নিচের হাত এই উক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে সাহায্যকারী এবং সহায়তাপ্রাপ্তকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে। এখানে "উপরের হাত" বোঝায় সাহায্য প্রদানকারী এবং "নিচের হাত" বোঝায় সাহায্য গ্রহণকারী।
  • নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দান এবং সহায়তার গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। যারা সাহায্য করে তাদের মর্যাদা বেশি এবং তাদের সাহায্যের মানে বড় বলে উল্লেখ করেছেন।

এই উক্তিটি মানবিকতা ও দানের গুরুত্বকে নির্দেশ করে এবং সমাজে সাহায্য এবং সহানুভূতির মূল্য বৃদ্ধি করে।

130
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews