জীর্ণ বেড়ার ঘরে মানুষেরা নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকে।
বিত্ত-সুখের ভাবনাহীন মানুষেরা আত্মকেন্দ্রিক নয় এবং দুরাশার গ্লানিতে ভোগে না বলেই তারা সংশয়হীন।
অর্থবিত্তের সুখ প্রকৃত সুখ নয়। প্রকৃত সুখের জন্য জীবনকে দুর্ভাবনামুক্ত করতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজন অল্পে তুষ্ট থাকা এবং সোনা-রুপায় পাহাড় গড়ার মানসিকতা পরিহার করা। মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে অন্যের সঙ্গে ব্যবধান তৈরি করে। এতে মানুষের প্রকৃত সুখ নষ্ট হয়, সংশয় সন্দেহ তৈরি হয়। আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তা থেকে দূরে থাকে। তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। এ কারণেই তাদের জীবন ক্লিষ্ট নয়। দরিদ্র হলেও তারা বিত্তের পেছনে ছোটে না। তাই তারা সংশয়হীন।
মাদার তেরেসার মানসিকতা 'আশা' কবিতার মানবপ্রেম বা মানুষকে ভালোবাসতে পারার মাঝে জীবনের মহত্ত্ব নিহিত থাকার দিকটিকে তুলে ধরে।
আত্মস্বার্থমগ্ন হয়ে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা প্রকৃত মানুষের কাজ নয়। নিজের সুখ-সমৃদ্ধির জন্যই মানুষের এ পৃথিবীতে আগমন ঘটেনি। পরের কল্যাণের নিমিত্তেই মানবজীবন। আর সেই জীবনই সার্থক, যে জীবন মানবকল্যাণের সুমহান ব্রতে নিয়োজিত। তারা পৃথিবীর হিংস্রতা, হানাহানি ও বিদ্বেষের মধ্যেও মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন।
উদ্দীপকে মাদার তেরেসার মানবসেবার কথা বলা হয়েছে। মাদার তেরেসা ছিলেন একজন অসাধারণ মানবসেবী। যেখানে রোগ, শোক, দুঃখ-দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নির্মমতা সেখানে মাদার তেরেসা তাঁর সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জীবনে যত পুরস্কার পেয়েছেন তার সমস্ত অর্থই খরচ করেছেন মানবসেবার কাজে। তিনি দেশ, ধর্ম, জাতির পার্থক্য না করে সেবাকাজে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তিনি নিজেও দুনিয়ার মানুষের ভালোবাসার পাত্রী হয়ে উঠেছেন। 'আশা' কবিতায় মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ এবং মানুষকে ভালোবাসার যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তার সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। 'আশা' কবিতায় বলা হয়েছে কিছু মানুষ দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও একে অন্যকে ভালোবাসে, মিথ্যা অহংকার করে না। বিত্ত-বৈভব অর্জনের জন্য দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না। তারা প্রতিবেশীর আঁধার ঘরে আলো জ্বালায়।
"মাদার তেরেসার দর্শনই যেন 'আশা' কবিতার ভাববস্তু"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মহামানবদের জীবন আদর্শ এবং মহত্ত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করে। অসহায় মানুষের সেবা ও মুক্তির জন্য কাজ করাই মানুষের ধর্ম। এ ধরনের কাজের মাধ্যমেই মানুষ আত্মতৃপ্তি লাভ করে। এর মধ্য দিয়েই সমাজের কল্যাণ সাধিত হয়।
মাদার তেরেসা চিরস্মরণীয় একজন মানবসেবী। তাঁর সেবামূলক কাজ কোনো একটি দেশ বা সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বব্যাপী ছিল তাঁর মানবসেবার কার্যক্রম। তাঁর জন্মস্থান সুদূর আলবেনিয়ায় হলেও তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মানুষের দুঃখ- দুর্দশায় বিচলিত হয়েছিলেন। এ কারণে তিনি ভারতবর্ষে গরিব ও অসুস্থ মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি দুঃখী মানুষের কাছে এগিয়ে গেছেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টির সঙ্গে 'আশা' কবিতায় প্রতিফলিত মানবসেবার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসে। একে অন্যের পাশে ভাই পরিচয়ে দাঁড়ায়। কবিও মনুষ্যত্বের অধিকারী এসব মানুষের সান্নিধ্য পেতে চেয়েছেন।
'আশা' কবিতায় বিত্ত-বৈভব অর্জনের লোভ ত্যাগ করে মানুষকে ভালোবেসে মনুষ্যত্বসম্পন্ন মানুষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে অসহায় অনাহারী মানুষের দুর্ভাবনাহীন জীবনের সঙ্গে কবি নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চেয়ে তাদের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথাই ব্যক্ত করেছেন। উদ্দীপকের মাদার তেরেসাও মানবসেবা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। তিনি আজীবন মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। এসব দিক বিচারের তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!