লোকজন জাত-ধর্ম নিয়ে গৌরব করে।
'যাওয়া কিংবা আসার বেলায়' বলতে লালন জন্ম বা মৃত্যুর সময়কে বুঝিয়েছেন।
মানুষের জীবনে জন্ম ও মৃত্যু অনিবার্য সত্য। প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। জন্ম বা মৃত্যুর সময় মানুষ কোনো জাতের চিহ্ন নিয়ে আসে না বা যায় না। আর এই বিষয়টি বোঝাতেই লালন 'যাওয়া কিংবা আসার বেলায়' কথাটি বলেছেন।
উদ্দীপকের সাথে 'মানবধর্ম' কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বাস করে। তাদের সবার পরিচয় মানুষ। কারণ জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ইত্যাদি মানুষের প্রকৃত পরিচয় নয়। মনুষ্যধর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ একই রকম রক্ত-মাংসে গড়া।
উদ্দীপকে মাদার তেরেসার সেবাধর্মের বর্ণনা করা হয়েছে। মানবতাবাদী এই মহীয়সী আর্তমানবতার সেবার মূর্ত প্রতীক। তিনি জাত-ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষের সেবা করেছেন। তাঁর কাছে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। উদ্দীপকের এই বিষয়গুলো 'মানবধর্ম' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি মানুষের জাত-ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর অন্তঃসারশূন্যতা বোঝাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যুর অভিন্ন ধারাটিকে নির্দেশ করেছেন। তাঁর কাছে তসবি-মালার কোনো ভেদ নেই। কারণ তিনি মানুষের জাত ও ধর্মভেদের ভিন্নতায় বিশ্বাস করেন না। উদ্দীপকের মাদার তেরেসাও ধর্মের ভিন্নতাকে গুরুত্ব দেননি। মানুষকে মানুষ হিসেবেই তিনি সেবা করেছেন।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতার মূল সুর এক- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় এবং উঁচু-নিচু শ্রেণির মধ্যে যে পার্থক্য ও বৈষম্য রয়েছে তা অর্থহীন। মানবতার চেতনায় উজ্জীবিত মানুষ কখনো জাত-ধর্ম বিচার করে না। তাঁর কাছে সব মানুষই সমান।
উদ্দীপকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এখানে মাদার তেরেসার মানবসেবার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর কাছে জাত-ধর্ম-বর্ণের ভেদ-বৈষম্য ছিল না। তিনি মনুষ্যধর্মকেই বড় করে দেখেছেন। তাঁর কাছে মানুষ বড়। আর্তমানবতার সেবায় তিনি মানুষকে জাত-ধর্ম দিয়ে বিচার করেননি। মানবতাবোধের এই চেতনাটি 'মানবধর্ম' কবিতার মূলভাবের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। এখানে মানবতাবাদী কবি লালন শাহ্ জাতের ভেদাভেদকে গুরুত্ব না দিয়ে মনুষ্যধর্মকে বড় করে দেখেছেন। তাঁর কাছে মানবধর্মই মানুষের বড় পরিচয়। তিনি মানুষকে জাত-ধর্মভেদে ভিন্নতা করেননি। উদ্দীপকের মাদার তেরেসাও মানুষের ধর্মভেদকে গুরুত্ব দেননি।
'মানবধর্ম' কবিতায় কবি লালন শাহ্ জাত-পরিচয় ভুলে সব মানুষকে সমান চোখে দেখেছেন। অসাম্প্রদায়িক মানবধর্মই তার কাছে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উদ্দীপকের মূলকথাও তাই, মনুষ্যধর্মের জয়গান করা। মাদার তেরেসা জাত-ধর্মের ভেদাভেদ না করে সব মানুষের প্রতি সমানভাবে সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'কূপজল' শব্দের অর্থ কুয়োর পানি।
জাতিগত পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয়। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
এই পৃথিবীতে নানা জাতি ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বাস করে। কিন্তু এসবের ভিত্তিতে মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা উচিত নয়।
মনুষ্যধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত মানুষের পরিচয়। এই পৃথিবীতে সবাই একই রক্ত-মাংসে গড়া। তাই জাতপাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে, এখানেই উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীতে মানুষের জাতিগত বা ধর্মীয় পরিচয় কোনো আসল পরিচয় নয়; তারা সবাই এক ও অভিন্ন মানবজাতি। সব মানুষ রক্ত-মাংসের তৈরি।
উদ্দীপকে পৃথিবীর সব মানুষকে এক জাতি হিসেবে দেখা হয়েছে। মানুষকে 'মানুষ জাতি' বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ একই চন্দ্র-সূর্যের তাপ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। বাইরে আলাদা হলেও ভেতরে সবার এক। সবার শরীরেই লাল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। 'মানবধর্ম' কবিতায় সাধক লালন শাহ্ও পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে কোনো ভিন্ন ভিন্ন জাত খুঁজে পান না। তিনি সব মানুষকে 'অভিন্ন এক জাতি' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এভাবে উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'মানবধর্ম' কবিতায় যে-ধর্মচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তা হলো মনুষ্যধর্ম।
মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। পৃথিবীর সব মানুষ অভিন্ন এক জাত। ধর্ম, বর্ণ, জাতি ভেদে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়, তা মিথ্যা। জগতে মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে মানুষ জাতির স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন, বাহ্যিক চেহারায় কিছু পার্থক্য থাকলেও শরীরে প্রবাহিত রক্তের রং সবারই এক, তা হলো লাল। এ বক্তব্যে অভিন্ন এক ধর্মের কথাই উঠে এসেছে। আর এ ধর্ম হলো মনুষ্যধর্ম। 'মানবধর্ম' কবিতায় কবি সব ধর্মকে পরিহার করে সেই মনুষ্যধর্ম চর্চার কথাই বলেছেন। কারণ মনুষ্যধর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
'মানবধর্ম' কবিতায় লালন ফকির মানুষের জাত-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। নিজে কোন ধর্মের বা জাতের এমন প্রশ্ন লালন সম্পর্কে আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু লালন বলেছেন জাতকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। মনুষ্যধর্মই মূলকথা। উদ্দীপকেও সেই ধর্মের কথা উঠে এসেছে। কারণ এই ধর্মই মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।
লালন শাহ্ মানবতাবাদী মরমি কবি।
মানুষের জাত সম্পর্কে অভিমত ব্যক্ত করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
মরমি সাধক লালন শাহ্'র মানবধর্মের প্রতি কর্মকাণ্ডে জগতের লোকের মনে প্রশ্ন জাগে। লালন শাহ্'র জাত কী? তিনি কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন জাতের, কোন গোত্রের লোক তা তারা জানতে চায়। কারণ লালন কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে কেবল মানবসত্তার ওপর গুরুত্ব দেন। লালনসাধনার গভীরে যেতে পারে না বলেই মানুষ লালন শাহ্'র কাছে জাত সম্পর্কে জানতে চায়। লালন বলেন, জগতে জাতের কোনো রূপ তার চোখে পড়েনি। তিনি কেবল মানুষ চেনেন, মানুষের তৈরি জাত-ধর্ম তাঁর কাছে অর্থহীন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!