মাদার তেরেসা নোবেল শান্তি পুরস্কার (১৯৭৯), ভারতরত্ন (১৯৮০), প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম (১৯৮৫), বালজান পুরস্কার (১৯৭৮) লাভ করেন। মাদার তেরেসা ১৯৫০ সালে দুঃস্থ মানবতার সেবায় ভারতের কলকাতায় ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি' প্রতিষ্ঠা করেন। আর ১৯৫২ সালে এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে মুমূর্ষু রোগী, পক্ষাঘাতগ্রস্ত মাদকাসক্ত, উদ্বাস্তু ও শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় ও সেবা কেন্দ্র হিসেবে ‘নির্মল হৃদয়' গড়ে তোলেন ।
১৯৫০ সালে কলকাতায় মাদার তেরেসা মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কলকাতার ‘স্বর্গীয় টেরিজা’ (Blessed Teresa of Calcutta) নামে পরিচিত হন। ১৯৭০-এর দশকের মধ্যেই সমাজসেবী এবং অনাথ ও দুস্থজনের বন্ধু হিসেবে তার খ্যাতি সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর তিনি দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। প্রথমে ভারতে ও পরে সমগ্র বিশ্বে তার এই মিশনারি কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ম্যালকম ম্যাগাজিনের বই ও প্রামাণ্য তথ্যচিত্র ‘সামথিং বিউটিফুল ফর গড' তার সেবাকার্যের প্রচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল সেসময়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান বাঙালি কখনো ভুলবে না । তিনি দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে, অকাতরে প্রাণের মায়া ভুলে। একাত্তরের ডিসেম্বরে মাদার তেরেসা খুলনা ও ঢাকার কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসব ক্যাম্পে পাকসেনারা একটানা বাংলাদেশি নারীদের ওপর অত্যাচার করে আসছিল। এসব দেখে মুষড়ে পড়েন তিনি। ঢাকায় ফিরে খোলেন 'মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ' এর একটি শাখা। তখন বেশিরভাগ যুদ্ধশিশুকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো, ফেলে দেওয়া হতো ডাস্টবিনে। মাদার তেরেসা ওই সময় পরম মমতায় যুদ্ধ শিশুদের কোলে তুলে নেন, পাঠিয়ে দেন কলকাতা, ফ্রান্স ও সুইডেনে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!