মানচিত্রে 'B' চিহ্নিত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরটি ছিল। কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে ১১ নম্বর সেক্টর গঠিত হয়েছিল।
সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। এই সেক্টরে প্রায় ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছেন। এই সেক্টরের আটটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে- মাইনকারচর (স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ); মহেন্দ্রগঞ্জ (লেফটেন্যান্ট মিজান); পুরখাসিয়া (লেফটেন্যান্ট হাশেম); ঢালু (লেফটেন্যান্ট তাহের আহমদ এবং পরে লেফটেন্যান্ট কামাল); বংরা (মতিউর রহমান); শিববাড়ি (ই.পি.আর কয়েকজন জুনিয়র অফিসার); বাগমারা (ই.পি. আর-এর কয়েকজন জুনিয়র অফিসার) এবং মহেশখোলা (জনেক ই.পি.আর সদস্য)। এই সেক্টরে ব্যাপক গেরিলা অপারেশন পরিচালিত হয়। নিয়মিত বাহিনী সীমান্ত এলাকায় মুক্ত অঞ্চল দখল করে রাখে। সুবেদার আফতার যুদ্ধের ৯ মাস ধরে রাহুমনিতে মুক্ত এলাকা দখলে রাখেন। এই সেক্টরে মহিলারাও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন।
তাছাড়া টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী তার জেলায় ১৬,০০০ গেরিলা যোদ্ধা সংগঠিত করেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
