'মানব-কল্যাণে বিজ্ঞান' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ রচনা করুন।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

মানব কল্যাণে বিজ্ঞান

ভূমিকা: বিজ্ঞান হলো মানুষের মেধা, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার সম্মিলিত প্রয়াস, যার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতিকে বুঝতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ যখন আগুন জ্বালাতে বা চাকা আবিষ্কার করতে শেখে, তখন থেকেই বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়। কালের পরিক্রমায় তা রূপ নেয় সভ্যতার মূল চালিকাশক্তিতে। বিজ্ঞানের স্পর্শে মানুষ আজ মহাকাশ জয় করেছে, রোগের প্রতিষেধক তৈরি করেছে, যোগাযোগ ও জ্ঞানের সীমা অতিক্রম করেছে। বলা যায়, বিজ্ঞান আজ মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা: আদিমযুগে নিতান্ত প্রয়াজেনের তাগিদে মানুষের অবচেতনে মনে বিজ্ঞানের সূত্রপাত ঘটেছিল। তখন থেকেই মানুষ মানবকল্যাণের লক্ষ্যে বিজ্ঞানের নিরন্তর গবেষণা চালিয়ে যেতে থাকে এবং সফল হয়। সেই থেকে বিজ্ঞানই মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান সম্পর্কে মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন:

Science is reality

Science is bonafide

Science is your constant friend

Science is always creative.

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান:  বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি মুহূর্তও ভাবা যায় না। আধুনিক জীবন বলতে আমরা বুঝি যে জীবন চিন্তা-চেতনায় প্রগতিশীল, নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন এবং নতুনকে গ্রহণ করতে বদ্ধপিরকর। তাইতো অন্ধকার গুহার পরিবর্তে আলাকেপিয়াসী হয়ে মানুষ বেছে নিয়েছে সুদৃশ্য নিকেতন। বিজ্ঞানের অবদান এ পরিবর্তে প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করা বা মাইক্রো ওভেনে রান্না করা খাদ্য খাচ্ছে লজ্জা নিবারণে তারে করেছে শাশ-পানি ব্যান্ডের পছন্দের পাশোক। মোটকথা বিজ্ঞানের স্পর্শে আজ আমাদের জীবন হয়েছে সহজ ও সুন্দর। বিজ্ঞানের যাত্রার প্রথম ধাপেই। দেখা যায় বিদ্যুতের বিস্ময়কর অবদান। তারপর এসেছে টেলিফোন, মুঠোফোন, টেলিভিশন, জেনারেটর, কাতল, প্যাপটপ, ক্যামেরা, লিফট ইত্যাদি। । আর এভাবেই অতীতের গ্লানি চিহ্ন মুছে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় আজ আমরা আধুনিক।

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে উন্নতি এনেছে তা এককথায় অভূতপূর্ব। বিশেষ করে ইন্টারনেট এবং মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যে গতিতে উন্নয়ন করা হয়েছে তা আগে ছিল কল্পনাতীত। ইন্টারনেটকে বলা যায় বর্তমান যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন পৃথিবীর এক প্রান্ড থেকে অন্য প্রান্তে মুহূর্তেই তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। এ প্রক্রিয়ায়, যে দূরত্ব একসময় কয়েক মাসে অতিক্রম করা হত, তা এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই জয় করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার মানবজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর হয়েছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এখন মানুষ কেবলমাত্র কথা বলেই যোগাযোগ করছে না, বরং ভিডিও কল, ছবি এবং তথ্য শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারছে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে থাকলেও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে নিজের প্রিয়জনের সান্নিধ্য অনুভব করতে পারেন। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মাধ্যমে দূরের মানুষও কাছে চলে আসে। এছাড়াও ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং, ও নানাবিধ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন ব্যবসায়িক এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব এসেছে। আজকের যুগে, মানুষ আর নিজের কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না বরং তা অতি দ্রুততার সাথে সম্পাদন করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদান আমাদের কাজের গতি বাড়িয়েছে। বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নয় বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, বৈশ্বিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য সবই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য বিজ্ঞান নিরন্তর কাজ করে চলেছে, যা মানবজাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে:  বিজ্ঞানের অবদান বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ আশীর্বাদগুলোর একটি হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি। অতীতে যেসব রোগকে অজানা ও অনিরাময়যোগ্য মনে করা হতো, আজ সেসব রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। একসময় সামান্য সংক্রমণ বা জ্বরেই মানুষ মারা যেত, এখন ক্যান্সার, হার্টের রোগ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনও সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি এসব আধুনিক যন্ত্র মানবদেহের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সহজে শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, টিকা ও উন্নত শল্য চিকিৎসা লক্ষ লক্ষ জীবন রক্ষা করছে। স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞানের অবদান অমূল্য। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে সুস্থ, নিরাপদ ও দীর্ঘায়িত করেছে। আগামীতে আরও উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কারের মাধ্যমে এই খাতে বিজ্ঞানের অবদান অব্যাহত থাকবে এবং মানবকল্যাণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান: কৃষি খাতে বিজ্ঞানের অবদান অসামান্য। একসময় যেখানে খাদ্য উৎপাদন শুধুমাত্র প্রাকৃতিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে বর্তমানে বিজ্ঞান খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও উন্নত করে তুলেছে। বিজ্ঞান কৃষিকে নতুন স্তরে উন্নীত করেছে এবং মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, হাইব্রিড বীজ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, কৃষি যন্ত্রপাতি প্রভৃতি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে বিপ্লব এসেছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিনগত প্রকৌশল কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের মতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক ও বেশি ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করে বিজ্ঞানীরা কৃষিতে বিশাল পরিবর্তন এনেছেন। বর্তমানে ড্রিপ ইরিগেশন, স্প্রিংকলার ইরিগেশন, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এর মতো আধুনিক সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে পানির অপচয় কমিয়ে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া, বিজ্ঞানের উন্নত যন্ত্রপাতির ব্যবহার যেমন- ট্রাক্টর, থ্রেশার, হারভেস্টার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি সব মিলিয়ে, কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বড় ভূমিকা পালন করছে। কৃষিতে বিজ্ঞানের অবদানই আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে।

শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিজ্ঞান: শিল্প ও কলকারখানায় বিজ্ঞানের প্রয়োগ আধুনিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। অটোমেশন, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) প্রযুক্তিগুলোর ফলে শিল্প ও কারখানাগুলোতে বিপ্লব এসেছে। এসব প্রযুক্তি শ্রমিকদের কাজ সহজ করেছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, অটোমেশন এবং রোবোটিক্সের ব্যবহার শিল্পখাতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে অটোমেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে, যা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। করেছে। বিজ্ঞান শিল্প বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির চেহারাই বদলে দিয়েছে। ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। আজ অনলাইন বাণিজ্য, ডিজিটাল লেনদেন, অনলাইন ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে করেছে দ্রুত ও কার্যকর। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা (যেমন: ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞানের অবদান: বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত করেছে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ ও আকর্ষণীয় করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। এখন তথ্য প্রযুক্তি, অনলাইন শিক্ষা, এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। অনলাইন কোর্স ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যেমন- কুরসেরা, উডেমি, এবং ইডেক্স শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এখন তারা যেকোনো সময় এবং জায়গা থেকে শিখতে পারছে। স্মার্ট ক্লাসরুম ও ইন্টারেক্টিভ টেকনোলজি শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। ডাটা প্রজেক্টর, ইন্টারেক্টিভ বোর্ড এবং ভিডিও কনফারেন্সিং টুলস শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে উন্নত করছে। শি কেরা এখন অনলাইনে ক্লাস নিতে পারছেন এবং শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রশ্ন করতে ও আলোচনা করতে পারছেন। এছাড়া, বিজ্ঞানের সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে নতুন নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়া উদ্ভাবন হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন ওঅর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। সার্বিকভাবে, বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এটি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে।

মহাকাশ গবেষণায় বিজ্ঞান: মহাকাশ গবেষণা মানব কল্যাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিজ্ঞান মহাকাশ গবেষণায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এবং আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যোগাযোগ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। মহাকাশ গবেষণা পৃথিবীর সম্পদ ও জলবায়ু পর্যবে ণে সহায়ক। তবে, এই গবেষণায় বিপুল ব্যয় একটি চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানের এই অগ্রগতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে। মহাকাশ গবেষণা মানব কল্যাণে টেকসই উন্নয়ন ও বিশ্বের সংযোগ বাড়িয়েছে।

পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিজ্ঞান: মানব সভ্যতার বিকাশে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে ঘোড়ার গাড়ি থেকে শুরু করে মানুষ আজ চড়ে বসেছে বিমানে, মেট্রোরেলে ও রকেটে। গাড়ি, ট্রেন, বিমান ও জাহাজ মানুষকে দিয়েছে গতি ও সময়ের সাশ্রয়। হাইস্পিড রেল, ইলেকট্রিক বাস, জিপিএস, নেভিগেশন ও স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম পরিবহন ব্যবস্থাকে করেছে নিরাপদ ও দক্ষ। এখন মানুষ কয়েক ঘণ্টায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এটি বিজ্ঞানেরই সাফল্য।

পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান কেবল উন্নয়ন নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে। বিজ্ঞানের এক মহৎ অবদান হল পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন নতুন এবং পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন। পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও এর সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ দূষণ, বনভূমি উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় প্রভৃতির কারণে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো দূর করতে বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পরিবেশ সুরায় অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন নবীন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব জ্বালানি, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ, এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এমন কিছু পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তির উদাহরণ, যা পৃথিবীকে বাসযোগ্য এবং দূষণমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর গবেষণায় বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আবহাওয়া ও জলবায়ুর গবেষণায় বিপ ব ঘটিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা সমস্যার সমাধানে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রযুক্তি আজকাল অনেক উন্নত হয়েছে। উপগ্রহ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরাসহজেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের গবেষণা বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা জলবায়ুর পরিবর্তন এবং এর প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে গবেষণা করছেন। বিভিন্ন ধরনের মডেল ব্যবহার করে তারা জলবায়ুর পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস বিজ্ঞানের একটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভূমিকম্প, টর্নেডো, এবং সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এর ফলে মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা পেয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত সমস্যা যেমন- বন্যা, খরা এবং খাদ্য সংকটের প্রতিকারের জন্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্ভাবন করছেন। উদাহরণস্বরূপ, নতুন কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজ্ঞান আমাদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তি শক্তিশালী করছে। এটি আমাদের সঠিক তথ্য, পূর্বাভাস, এবং সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করছে।

উপসংহার: বিজ্ঞান মানবজীবনের অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এটি মানুষকে দিয়েছে জ্ঞান, শক্তি ও স্বাধীনতা। আজ আমরা যে উন্নত সভ্যতার গর্ব করি, তার প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। তবে বিজ্ঞান তখনই আশীর্বাদ, যখন তা মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞান সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এটি বিভিন্ন খাতে উন্নতি সাধন করতে এবং মানব জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি, এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম। তাই আমাদের শপথ হতে হবে বিজ্ঞান যেন ধ্বংস নয়, কল্যাণের হাতিয়ার হয়। "বিজ্ঞান মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হলেই তা প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞান।"

3.9k

লেখক তার নিজের কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো মননশীল ভাব কিংবা তথ্য বা তত্ত্ব উপযুক্ত ভাষার মাধ্যমে যুক্তি পরম্পরায় উপস্থাপনের মাধ্যমে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য রচনা করেন তাকে প্রবন্ধ রচনা বলে। এর সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যথা:

০১। ভূমিকা: ভূমিকা হচ্ছে প্রবন্ধের প্রারম্ভিক অংশ যেখানে লেখার মূল বিষয়গত ভাবের প্রতিফলন ঘটে। ভূমিকা যত আকর্ষণীয় হবে রচনাটিও পাঠকের কাছে ততো হৃদয়গ্রাহী হবে। ভূমিকাতে অপ্রাসঙ্গিক ও অনাবশ্যক বিষয়ের অবতারণা করা উচিত নয়।

০২। মূল অংশ: এ অংশে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য উপস্থাপিত হবে। পরিবেশনের আগে বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় সংকেত (Points) এ ভাগ করে নিতে হবে। সংকেতের বিস্তার কতখানি হবে তা ভাব প্রকাশের পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল। এর আয়তনগত কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই।

০৩। উপসংহার: এটি প্রবন্ধের সিদ্ধান্তমূলক বা সমাপ্তিসূচক অংশ। এখানে লেখক তার আলোচনার সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং তার নিজস্ব অভিমত বা আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.7k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.1k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.6k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.3k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Joy Roy
Joy Roy
8 months ago
2.2k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
2 years ago
4.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews