মানবজীবনে তথা একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
সালাত মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। ইমান মজবুত হয়, আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। মানুষকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে অভ্যস্ত করে তোলে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মনোযোগসহ সালাত আদায় করে, কিয়ামতের দিন ঐ সালাত তার জন্য নুর হবে। (তাবারানি) সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একস্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। সুখে-দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। এমনকি নামাযের সারিতে দাঁড়াতে গিয়ে উঁচু-নীচু কোনো ভেদাভেদ থাকে না। ফলে সালাত আদায়কারীদের মধ্যে সাম্য সৃষ্টি হয়'। সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ পারস্পরিক সকল মতপার্থক্য ভুলে একসাথে কাজ করার শিক্ষা পায়।
সালাত আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব, শৃঙ্খলাবোধ, নেতার অনুসরণ, নিয়মতান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সালাত মানবজীবনে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ বয়ে আনে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত যথাযথভাবে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা।
Related Question
View Allআল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (স.) প্রদর্শিত পন্থায় জীবন পরিচালিত করাই ইবাদত।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। এর অর্থ ভ্রমণকারী। কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে শরিয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে। এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কমপক্ষে পনের দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযোজ্য হবে।
জমির উদ্দিনের মনোভাবে ইসলামের ফরজ ইবাদত পালনে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রকাশ পায়।
আমরা জানি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। আর এর অস্বীকারকারী কাফির। অবহেলা করে কেউ এ সালাত আদায় না করলে সে ফাসিক হয়ে যাবে।
জমির উদ্দিন সারাদিন মাঠে কাজ করেন। নামাযের সময় হলে খেতের পাশে কাপড় বিছিয়ে নামায আদায় করেন। জুমার দিনে মসজিদে না গিয়ে যোহর সালাত আদায় করেন। এক্ষেত্রে তিনি কাজের অজুহাত দাঁড় করান। সুতরাং জমির উদ্দিনের কাজকে আমরা ফিসক হিসেবে গণ্য করতে পারি। কারণ তিনি জুমার সালাত অস্বীকার করেননি। বরং কাজের ক্ষতি হবার কথা বলে নামাযে অবহেলা করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জহির উদ্দিনের বক্তব্যটি হলো, "জুমার নামায আদায় করার জন্য শরিয়তের কিছু বিধান রয়েছে।" জুমার নামায বিষয়ে জহির উদ্দিনের এ বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। জুমার ওয়াক্তে প্রথমে মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল ওযু ও দুখুলুল মসজিদ দুই দুই রাকাআত করে নফল সালাত আদায় করতে হয়। ফরজের আগে চার রাকাআত কাবল্লাল জুমা ও পরে চার রাকাআত বা'দাল জুমা আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। জুমার সালাতের জন্য দুটি আযান দেওয়া হয়। প্রথম আযান মসজিদের বাইরে মিনারে, দ্বিতীয়টি মসজিদের ভিতরে ইমাম সাহেব খুতবা দিতে মিম্বরে বসলে দেওয়া হয়। জুমার দুই রাকাআত ফরজের পূর্বে ইমাম সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন। মুসল্লিদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা, অনর্থক কিছু করা নিষেধ। খুতবা শেষে ইমামের সাথে দুই রাকাআত ফরজ সালাত অন্যান্য ফরজ সালাতের ন্যায় আদায় করতে হয়। জুমার ফরজের জন্য জামাআত শর্ত। জামাআত ছাড়া জুমার সালাত হয় না।
সুতরাং বলা যায়, পাঠ্যবইয়ের আলোকে জহির উদ্দিনের উল্লিখিত বক্তব্য যথার্থ।
যে ব্যক্তি এক বা একাধিক রাকাআত শেষ হওয়ার পর ইমামের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করে তাকে মাসবুক বলে।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। মুসাফিরের আভিধানিক অর্থ ভ্রমণকারী এবং শরিয়তের ভাষায় কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে এবং ১৫ দিনের কম অবস্থান করলে তাকে মুসাফির বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!