নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট 'অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে সংস্থাপিত হয় তাই ইমপ্ল্যান্টেশন।
বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বহিঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরিত বস্তু নির্দিষ্ট নালিপথে পরিবাহিত হয়, কিন্তু অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরিত বস্তু সরাসরি রক্ত বা লসিকা দ্বারা পরিবাহিত হয়। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে স্বল্প মাত্রায় হরমোন ক্ষরিত হয়ে দেহের দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বহিঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম, মিউকাস ইত্যাদির কার্যকারিতা 'ক্ষণস্থায়ী ও তাৎক্ষণিক।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রোটিন অণুটি হলো অ্যান্টিবডি। B লিম্ফোসাইট প্লাজমা কোষে রিভক্ত হয় এবং প্লাজমা কোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। নিচে অ্যান্টিবডির গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-

সকল ধরনের অ্যান্টিবডির একটি সাধারণ গঠন থাকে। এটি চারটি পলিপেপটাইড শিকল নিয়ে গঠিত। এদের দুটি শিকল দৈর্ঘ্যে ছোট এবং দুটি বড়। ছোট ও বড় আকৃতির শিকলদের যথাক্রমে হালকা ও ভারী শিকল বলা হয়। প্রতিটি শিকলের দুটি নির্দিষ্ট অংশ আছে। একটি অংশ
স্থায়ী ও অপরিবর্তনশীল, এদের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অপর তাংশটি অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল, এদের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ছোট ও হালকা পলিপেপটাইড প্রায় 220টি অ্যামিনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে বড় ও ভারীগুলোতে থাকে 440টি। চারটি পলিপেপটাইড শিকল পরস্পর ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা পাশাপাশি যুক্ত হয়ে ' আকৃতির অ্যান্টিবডি বা ইমিউনোগ্লোবিন সৃষ্টি করে। Y আকৃতির অ্যান্টিবডি অণুর দীর্ঘ দণ্ডাকৃতির অংশটি কেবল ভারী পলিপেপটাইড শিকলের স্থায়ী অংশ দ্বারা গঠিত, যাকে Fc অঞ্চল বলে। অপরদিকে ৭ এর প্রসারিত দুই বাহু উভয় ধরনের পলিপেপটাইড শিকল দ্বারা গঠিত হয় 'যাকে Fab অঞ্চল বলে। অ্যান্টিবডির Y যে অংশ দ্বারা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হয় তাকে প্যারাটপ বলে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানব কর্ণ যা একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। মানব কর্ণের শ্রবণে ভূমিকা নিম্নরূপ-বহিঃকর্ণ বা পিনায় সংগৃহীত শব্দ তরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। এই কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে, মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়। শব্দের বিভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করার জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ বিশেষ স্থান রয়েছে। যেমন-শব্দের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করে ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা সংলগ্ন অংশ, মধ্যম মাত্রা গ্রহণ করে মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণ করে শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।
এভাবেই মানব কর্ণের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমিকভাবে শ্রবণে সহায়তা করে।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!