'পার্থেনন মন্দির' গ্রিকদের স্থাপত্য।
গ্রিকদের বারোটি দেব-দেবী ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি পূজা ছাড়াও তারা বীর যোদ্ধাদের পূজা করতো। জিউস ছিলেন দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগরের দেবতা। এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারোজনের মধ্যে চারজনই ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
উদ্দীপকের বর্ণনা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ইঙ্গিতবহ।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের অববাহিকায়। ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল। তারা পরলোকে বিশ্বাস করত এবং ফারাওরা পরবর্তী জন্মেও রাজা হবেন তাদের এই বিশ্বাস ছিল। আর এ কারণেই মমি তৈরি শুরু হয়। তারা ফারাওদের দেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। মিশরীয় বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পদ্ধতিতে মৃতদেহ পচন থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। মমিগুলোকে রক্ষার জন্য মিশরীয়রা পিরামিড তৈরি করেছিল।
উদ্দীপকের বর্ণনায় এমন একটি প্রাচীন সভ্যতার কথা বলা হয়েছে যারা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি সাধন করেছিল। তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল মৃতদেহকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করার পদ্ধতি আবিষ্কার। যা উপরে আলোচিত মিশরীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মিল পাওয়া যায়।
ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও ছিল তাদের অভূতপূর্ব অবদান'- উক্তিটি যথার্থ।
প্রাচীন বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের মতো ভাস্কর্য শিল্পে অসাধারণ প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। প্রতিটি ভাস্কর্য (মানুষ অথবা জীবজন্তুর সবই) ধর্মীয় ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বস্তুত। মিশরীয় সভ্যতার প্রতিটি শিল্পই ছিল ধর্মীয় শিল্পকলা। তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে স্ফিংক্স। স্ফিংক্স হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহটা সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের মতো। মিশরীয়রা মনে করত, মৃত ব্যক্তি পুনরায় বেঁচে উঠবে। এ বিশ্বাস থেকে তারা মৃতদেহ মমি করে পিরামিডে সংরক্ষণ করত। তারা সাধারণত ফারাও এবং মন্ত্রীদের দেহ পিরামিডে সংরক্ষণ করত। এ পর্যন্ত মোট ১৩৮টি পিরামিড পাওয়া গেছে। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। মিশরীয় সভ্যতার মন্দিরগুলোতেও ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। এসব মন্দিরের মধ্যে ফিলা নগরীর 'আইসিসের মন্দির', নীলনদের পূর্ব তীরে অবস্থিত 'লুক্সোর মন্দির' উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে অতুলনীয় অবদান রেখেছিল।
Related Question
View Allলাতিন রাজা রোমিউলাস (Romulus) রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
পারস্পরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে রোমে তিনজনের শাসন টেকেনি।
রোমে অক্টেভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাসের একত্রিত শাসন ব্যবস্থা 'ত্রয়ী শাসন' বা তিনজনের শাসন বলে পরিচিত। তবে এ শাসন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ প্রত্যেকেরই আকাঙ্খা ছিল রোমের একচ্ছত্র অধিপতি বা সম্রাট হওয়ার। ফলে খুব শীঘ্রই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং রোম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল।
উৎপাদিত ফসলের প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে মিশরে গড়ে উঠেছিল কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এটি প্রচুর ফসল উৎপাদন এবং সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উপরে বর্ণিত উভয় অঞ্চলের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীব্যাপী সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষিনির্ভর অর্থনীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় প্রতিটি সভ্যতাই নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষির ওপর ভিত্তি করে বিকাশ লাভ করেছে। উদাহরণ হিসেবে মিশরীয় ও সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা যায়। মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের অববাহিকায়। প্রতিবছর নদী অববাহিকা অঞ্চলে বন্যার পানি সরে গেলে দুই তীরে পলি মাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। স্বাভাবিকভাবেই এ উর্বর জমিতে প্রচুর ফসল জন্মাতো। ফসলের এ প্রাচুর্য মিশরকে করেছিল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। আমরা জানি যে, অর্থনৈতিক শক্তিই সভ্যতার বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে। মিশরীয় সভ্যতার মতোই সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে একমত যে, সিন্ধু সভ্যতার অগ্রগতির পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল সিন্ধু নদ বিধৌত অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। এসব সভ্যতার মতো উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অঞ্চলটির সমৃদ্ধির পিছনে নদী বিধৌত অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সভ্যতার বিকাশে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্টোইকবাদী দর্শন রোমে প্রথম প্রচার করেন প্যানেটিয়াস।
প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে। তবে প্রথম দিকে এখানে ছিল রাজতন্ত্র। খ্রি. পূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন পেরিক্লিস। তিনি নাগরিকদের সব ধরনের রাজনৈতিক দাবি- দাওয়া মেনে নেন এবং এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!