প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ১৯১৪ সালে।
'লরেটো সিস্টার্স' হলো খ্রিষ্টান মিশনারি দল, যেখানে মানবসেবা করার জন্য মাদার তেরেসা যোগদান করেন।
মাদার তেরেসার বয়স যখন আঠারো, তখন তিনি এই মিশনারি দলে যোগ দেন। এই দল ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে কাজ করত। দার্জিলিংয়ে মাদার তেরেসা 'লরেটো সিস্টার্স'দের আশ্রমে নান হওয়ার জন্য তিন বছর প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় তিনি বাংলা ভাষাও রপ্ত করেন। মূলত 'লরেটো সিস্টার্স' থেকে তেরেসা মানুষকে সেবা করার জন্য তাঁর যে প্রত্যয় তা আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করেন।
উদ্দীপকের ব্রিটিশ নাগরিক লুসির মাঝে মাদার তেরেসার মানবসেবার দিকটি ফুটে উঠেছে।
পৃথিবীতে যারা নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য কাজ করেন তারাই সমাদৃত হন। এমন অনেক মানুষ পৃথিবীতে আছেন যারা হিংসা, হানাহানি, বিদ্বেষ ভুলে অসহায় মানুষের সেবা করে সারা জীবন কাটিয়ে দেন। তাদের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই পৃথিবী আজ এত সুন্দর।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্রিটিশ নাগরিক লুসি পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশে জনসেবা করেছেন। অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে বাংলাদেশে এসে মানুষের প্রতি বাড়িয়ে দেন সেবার হাত। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধাহতদের সেবা করেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে দেখা যায়, মাদার তেরেসাও নিজের জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা না করে মানুষের সেবা করেছেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে সারা জীবন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্রিটিশ নাগরিক লুসির মাঝে মাদার তেরেসার মানবসেবার দিকটি ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকটিতে 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের ভাবার্থ প্রতিফলিত হয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের মানবতাবাদী মনোভাব আমাদের মানবসেবায় অনুপ্রাণিত করে। তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে হিংসা, বিদ্বেষ, ভেদাভেদ ভুলে আমরা এগিয়ে যাই। কারণ সেই জীবনই সার্থক, যেটি মানবকল্যাণের সুমহান ব্রতে নিয়োজিত।
উদ্দীপকের মানবসেবী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি মানুষের প্রতি নিজের সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে জনসেবা করে আসছেন। মানবতাবাদী মনোভাব থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসাও মানুষের সেবায় নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে তিনি মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবীতে মানবতার বাণী প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। অসহায় মানুষকে সেবার মধ্য দিয়েই মাদার তেরেসা খুঁজে পেয়েছেন জীবনের সার্থকতা।
'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসা দুঃখী ও অসহায় মানুষের অলোবাসার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মানবসেবার মাঝেই নিজ জীবনের সার্থকতা সন্ধান করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধের ভাবার্থে মানবতার বিষয়টিই বড় হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকেও ব্রিটিশ নাগরিক লুসির মাঝে মানবতাবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেবা কাজের জন্য মাদার তেরেসার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সম্মাননা হলো নোবেল পুরষ্কার।
বাংলার মানুষের প্রতি মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল বলেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
বাংলার মানুষের জন্য মাদার তেরেসার বিশেষ দরদ ছিল। বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচন ও তাদের সেবায় কাজ করার জন্য তিনি মনে মনে তাগিদ অনুভব করছিলেন। তাই বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি বাঙালির জীবনকে শান্তিতে ভরিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। বাংলার মানুষের জন্য তাঁর এ বিশেষ দরদ থেকেই তিনি গাউন ছেড়ে বাঙালি নারীর পোশাক শাড়ি পরেছিলেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানোর কাজটিতে মাদার তেরেসা নোবেল পুরষ্কারের অর্থ ক্ষুধার্ত মানুষকে দেওয়ার ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে।
মানুষের মহত্ত্ব আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের অনুসরণে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রসর হই। সমাজে নিগৃহীত মানুষের প্রতি সবাই সাহায্যের হাত বাড়াই।
'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধে মাদার তেরেসার মহত্ত্বের কথা বলা হয়েছে। সেবা কাজের সম্মাননাস্বরূপ প্রাপ্ত পুরষ্কারের অর্থ তিনি দান করেছেন গরিব-দুঃখীদের সেবার জন্য। আর নোবেল পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে যে ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল সেটা বাতিল করে ক্ষুধার্ত মানুষকে সেই অর্থ দেওয়া হয়। উদ্দীপকের রহিমা খাতুন তার নিজের ঈদের কেনাকাটা থেকে টাকা বাঁচিয়ে সবচেয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাকে পুরষ্কার দেন। উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানো তাই মাদার তেরেসার ঘটনার প্রতিফলন মনে হয়।
"উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক কিন্তু তাদের লক্ষ্য অভিন্ন।"- কথাটি যথার্থ হয়েছে।
ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই মানুষের কাজের পরিধি আরও ব্যাপক ও 'বিস্তৃত হয়। মহৎ মানুষেরা কালে কালে দেশে দেশে এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুন প্রতিবেশী নিরক্ষর মহিলাদের অক্ষরজ্ঞান দিতে শুরু করেন। বেতন ছাড়াই তিনি এ কাজ করেন। এছাড়া ঈদের কেনাকাটা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাদের পুরষ্কার দেন। 'মাদার তেরেসা' প্রবন্ধের মাদার তেরেসা সেবার ব্রত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তাঁর সেবা কোনো দেশ বা সমাজে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পৃথিবীজুড়েই তাঁর সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও উভয়ের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। অতএব রলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মাদার তেরেসা কর্তৃক স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটির নাম 'নবজীবন আবাস'।
“ধর্মের ফারাক, দেশের ভিন্নতা, জাতির পার্থক্য মাদার তেরেসা কখনও বিবেচনায় নেননি।"- কারণ তিনি মানুষকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেছিলেন।
মাদার তেরেসা ছিলেন একজন অসাধারণ মানবসেবী। যেখানে রোগ, শোক, দুঃখ-দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের নির্মমতা সেখানে মাদার তেরেসা তাঁর সেবার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা, দেশ ও মানুষের মাঝে ছুটে গিয়েছেন তাদের বিপদ। তিনি দেশ, ধর্ম, জাতির পার্থক্য না করে সেবাকাজে মানুষকেই বড় করে দেখেছেন। মানুষকে ভালোবেসে তিনি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। তার কাছে জাত-ভেদ পার্থক্য ছিল না। তার কাছে মানুষের একমাত্র পরিচয় ছিল মানুষ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
