সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রত্যয় হলো সমাজ।
ব্যক্তির আচরণের প্রতিষ্ঠিত রূপই প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠান এমন এক ধরনের যন্ত্র যার মাধ্যমে সমাজ তার কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন- বিবাহের মাধ্যমে। পরিবার গঠন করে মানুষ তার জৈবিক চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু এরূপ প্রতিষ্ঠান না থাকলে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটতো।
উদ্দীপকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন মানুষ সমাজে বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠে। এটি একটি আজীবন প্রক্রিয়া যা ব্যক্তির জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। এ প্রক্রিয়া ব্যক্তিকে গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সাথে মিলেমিশে থাকার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন ও নিমফক এর মতে "ব্যক্তি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলের আদর্শ মেনে চলতে শেখে তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে যেখানে একটি শিশুর উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে উক্ত প্রক্রিয়াটির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে যে, সমাজই শিশুকে সামাজিক করে তোলে। এ প্রক্রিয়াটি ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানবশিশু সমাজের একজন কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
একটি মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন তার মুখ্য সামাজিকীকরণ পরিবারেই সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় সে সমাজের মানুষের সাথে মিলেমিশে চলতে শেখে এবং শেখে কীভাবে সবার সাথে আচরণ করতে হয়। এছাড়া সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সমাজস্থ ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে উৎসাহ যোগায়।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশু সামাজিক শিক্ষা গ্রহণ করে। সমাজের বিভিন্ন প্রথা, রীতিনীতি, বিধি-নিষেধ, নিয়ম- কানুন প্রভৃতি সম্পর্কে সে এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করে। শিশুর সামাজিকীকরণে বিভিন্ন উপাদান প্রভাবক হিসেবে কাজ করে, যেমন-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সঙ্গীদল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, জ্ঞাতিগোষ্ঠী ইত্যাদি। এসব উপাদান বিভিন্নভাবে তাকে সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহযোগিতা করে।
উক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে একমাত্র সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
Related Question
View Allফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইমকে ক্রিয়াবাদের জনক বলা হয়।
শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'শাস' ধাতু থেকে। এর অর্থ হলো শাসন করা, শৃঙ্খলিত করা, নিয়ন্ত্রিত করা, শিক্ষা দেওয়া বা নির্দেশনা দেওয়া। অর্থাৎ বাংলা ভাষায় আমরা যে শিক্ষা কথাটা ব্যবহার করি, তা বিশেষভাবে শিক্ষা কৌশলকেই বোঝায়।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবার থেকে গঠিত মৌলিক ব্যক্তিত্ব সহযোগে শিশুরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে আসে। সেখানে নতুন পরিবেশে নানা নিয়ম-কানুনের মধ্যে নতুন সহপাঠী ও অন্যান্যদের সাথে খাপ-খাইয়ে চলতে হয়। শিশুর মূল্যবোধ সৃষ্টিতে পরিবারের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ইত্যাদি শিশুর মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক হয়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নানা প্রকারের হলে শিশুর ব্যক্তিত্বও নানাভাবে গড়ে ওঠে। যেমন- আমাদের দেশেও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ধরনও বিভিন্ন রকম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উদ্দীপকে অন্যতম সামাজিক সমস্যা 'নিরক্ষরতা' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজে নিরক্ষরতার মতো সমস্যা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তা হলো সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
সামাজিক গবেষণার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য বাছাই, তথ্য যাচাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ সামাজিক অনুসন্ধানের একটি পদ্ধতি যা বর্ণনা, বিবরণ, উদ্ঘাটন ও ব্যাখ্যামূলক বিভিন্ন সামাজিক তথ্য সরবরাহ করে। এছাড়া উন্নয়নমূলক সামাজিক কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, নিরক্ষরতার মতো সামাজিক সমস্যার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ICT-এর পূর্ণরূপ- Information and Communication Technology |
বিশ্বায়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে একীভূত করা হয়।
বিশ্বায়নের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর সকল দেশকে একটি ছাতার নিচে। সমবেত করা। মূলত তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বায়নের পথচলা। (১) তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ (২) আন্তর্জাতিক শ্রম বাজার এবং (৩) উৎপাদিত পণ্যের অবাধ প্রবাহ। সাধারণত সারাবিশ্বে এই তিনটি বিষয়ের অবাধ প্রচলন উপস্থিতি থাকলেই সেই প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!