১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর দুই জার্মানি একত্রিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি জার্মানিকে পূর্ব জার্মানি ও পশ্চিম জার্মানি নামে দুভাগে বিভক্ত করে নিজেদের অধীনে নিয়ে যায়। রাশিয়া পূর্ব জার্মানি এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম জার্মানি দখল করে নেয়। এসময় সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের আদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে রাশিয়া ১৯৬১ সালে বার্লিন শহরে ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি দেয়াল নির্মাণ করে। এ দেয়াল নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল যাতে পূর্ব জার্মানির লোকজন পালিয়ে পশ্চিম জার্মানিতে যেতে না পারে। তবে ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এ দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পর লেনিন ক্ষমতায় আসেন। তিনি পূর্ব ইউরোপীয় ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে ১৯২২ সালে Union of Soviet Socialist Republic বা USSR গঠন করেন। লেনিন ও স্ট্যালিনের শক্তিশালী শাসনের পর ব্রেজনেভ তার নতুন ডকট্রিন নিয়ে হাজির হন। ব্রেজনেভএর নীতি ছিল যদি কোনো সমাজতান্ত্রিক দেশে কমিউনিস্ট পার্টি হুমকির মুখে পতিত হয়। তবে সোভিয়েত কমিউিনিস্ট পার্টি উত্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে। ব্রেজনেভ তার এ নীতির সফল প্রয়োগ ঘটান চেকোস্লোভাকিয়ায়। ১৯৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত জার্মান-পোলিশ ও বুলগেরিয়ান বাহিনী একযোগে প্রবেশ করে সমাজতন্ত্র রক্ষা করে। এরপর ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানেও এর প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সীমাহীন দুর্নীতি ও বিলাসী জীবনযাপন এবং সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক দৈন্যদশা তাদেরকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এমন সময় ১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় আসেন। তিনি ব্রেজনেভের আগ্রাসী নীতি বাদ দিয়ে উদারনীতি গ্রহণ করেন। তিনি 'গ্লাসনস্ত' ও 'পেরেস্ত্রোইকা' নামক - সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেন। গর্বাচেভের এ সংস্কার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভক্ত দেশগুলোকে স্বাধীনতার পথ সুগম করে দেয়। ফলে ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। এগুলো হলো- আজারবাইজান, জর্জিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, মোলদাভিয়া, বেলারুশ, উজবেকিস্তান, তর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজস্তান।
পরিশেষে বলা যায়, মিখাইল গর্বাচেভের উদারনীতির সুযোগ গ্রহণ করে স্বাধীনতাকামী জাতিসমূহ নিজ অঞ্চলে স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার গঠন করে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে পুরো বিশ্ব ব্যবস্থাই পাল্টে গিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে প্রতিটি দেশের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন দেখা দেয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করে। যার কুফল রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করে। সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং দরিদ্রতা সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্বে দুই মেরু বিশিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবের অবসান ঘটে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐ অঞ্চলে তার মোতায়েনকৃত সৈন্য ও সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে মোতায়েন করে। পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতনের ফলে এসব রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা পশ্চিমা ইউরোপের সাথে মিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক এককেন্দ্রীয় বৈদেশিক নীতির উদ্ভব ঘটে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।
Related Question
View Allরাজাই হলো রাষ্ট্র" উক্তিটি চতুর্দশ লুইয়ের।
লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার এবং ৫. গ্র্যান্ড ক্রস।
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বার্লিন প্রাচীর মিল পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ঐতিহাসিক বার্লিন প্রাচীরের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম ও করিম দুই ভাই। বাবার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেয়। ঝামেলা শুরু হয় ভাইয়ের বিয়ের পর। একপর্যায়ে তারা আলাদা হয়ে যায় এবং তাদের বাড়ির মাঝখান দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে একত্রে বসবাস শুরু করে। অনুরূপ ঘটনা জার্মানির বার্লিন প্রাচীরকে নিয়ে ঘটেছিল। বার্লিন প্রাচীরকে সরকারিভাবে বলা হয় ফ্যাসিবাদবিরোধী দুর্গ। ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানির জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক সরকার এ প্রাচীর নির্মাণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বার্লিন প্রাচীর হয়ে ওঠে সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের বিভেদ চিহ্ন। ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটলে আবার পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানির একত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুই জার্মানির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হিসেবে পূর্ব জার্মান সরকার ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ঘোষণা করেন, GDR-এর সকল নাগরিক পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি ভ্রমণ করতে পারবে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জনতা বার্লিন প্রাচীরের কতকাংশ স্বউদ্যোগে ভেঙে ফেলে। ১৩ জুন ১৯৯০ সাল থেকে পূর্ব জার্মান সেনাবাহিনী বার্লিন প্রাচীর সরকারিভাবে ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর দুই জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয় এবং ১৯৯১ সালের শেষ নাগাদ এ প্রাচীর ভাঙার কাজও সমাপ্ত হয়।
সুতরা বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বার্লিন প্রাচীরের মিল হয়েছে।
এ উক্ত ঘটনা অর্থাৎ বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর হয় উক্তিটি যথার্থ।
উক্ত ঘটনা অর্থাৎ বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর হয় উক্তিটি যথার্থ।
১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানির জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক সরকার এ প্রাচীর নির্মাণ করে। ১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের পতন ঘটলে আবার পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি একত্রিত হওয়ার সিদ্ধান্ত * গ্রহণ করে। বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দুই জার্মানির একত্রীকরণ প্রক্রিয়া। দুই জার্মানির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ হিসেবে পূর্ব জার্মান সরকার ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর ঘোষণা করেন, GDR-এর সকল 'নাগরিক পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি ভ্রমণ করতে পারবে। এর ফলে দলে দলে লোক বার্লিন প্রাচীর টপকে পশ্চিম জার্মানিতে গমন করে। পশ্চিম জার্মানির জনগণ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জনতা বার্লিন প্রাচীরের কতকাংশ স্বউদ্যোগে ভেঙে ফেলে। ১৩ জুন ১৯৯০ থেকে পূর্ব জার্মান সেনাবাহিনী বার্লিন প্রাচীর সরকারিভাবে ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ১৯৯১ সালের শেষ নাগাদ এ প্রাচীর ভাঙার কাজও সমাপ্ত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীর উন্মুক্ত করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দু জার্মানির একত্রীকরণ প্রক্রিয়া।
নিকোলাই চসেঙ্কু রোমানিয়া শাসন করতেন।
হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটেছিল পর্যায়ক্রমিকভাবে। হাঙ্গেরির অর্থনৈতিক অধঃপতন কাটিয়ে উঠার কোনো প্রত্যাশিত সমাধান কাদার সরকার দিতে পারেনি। ফলে তার প্রতিপক্ষ ক্যারোলি দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু তারাও এ অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি সাধন করতে পারেনি। ১৮৮৯ সালে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় গোলটেবিল বৈঠকে ক্ষমতা, হস্তান্তর ও একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পদ্ধতি কী হবে তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়। কিছুদিন পূর্ব থেকেই নতুন শাসনতন্ত্র রচনার কাজ আইন মন্ত্রণালয়ে চলে আসছিল। অবশেষে ২৩ অক্টোবর অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট মার্টিয়াস জুরোস হাঙ্গেরিতে দীর্ঘদিন চলতে থাকা সমাজতন্ত্রের স্থলে শুধু 'প্রজাতন্ত্র' বলে সরকারিভাবে ঘোষণা করেন। এভাবেই হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!