আবর্তন হলো অমাধ্যম অনুমান।
যে অবরোহ অনুমানে একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় তাকে 'অমাধ্যম অনুমান' বলে। অর্থাৎ এ ধরনের অনুমান পদ্ধতিতে দ্বিতীয় কোনো আশ্রয়বাক্যকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয় না বলেই এর নাম হয়েছে 'অমাধ্যম অনুমান'।
উদাহরণস্বরূপ: সব মানুষ হয় প্রাণী। (আশ্রয়বাক্য)
কিছু প্রাণী হয় মানুষ। (সিদ্ধান্ত)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি পাঠ্যক্রমের 'সহানুমান' বিষয়টির সাথে সংগতিপূর্ণ। যে অবরোহ মাধ্যম অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটো আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্তটা অনুমিত হয় তাকে সহানুমান বলে।
সহানুমানের সিদ্ধান্তটি সর্বদা দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনুমিত হয়। যে কোনো একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় না। আর সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কখনো ব্যাপক হয় না। এই জন্য একে 'অবরোহ অনুমান' বলা হয়। সহানুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবে সত্য হবে যদি আশ্রয়বাক্যগুলো বাস্তবে সত্য হয়। সহানুমানে একটি সাধারণ পদ থাকে যা আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, কিন্তু সিদ্ধান্তে এটি থাকে না। উদ্দীপক অনুযায়ী বলা যায় যে, প্রকৃত সৎ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় না। আর যারা মৃত্যুকে ভয় পায়, তারা সত্যিকারের সৎ মানুষ নয়। যেমন-
প্রকৃত সৎ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় না,
করিম মৃত্যুকে ভয় পায়,
করিম প্রকৃত সৎ মানুষ নয়।
উপর্যুক্ত দৃষ্টান্ত অনুযায়ী বলা যায় যে, সহানুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য ও একটি সিদ্ধান্ত থাকে। সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক এবং আশ্রয়বাক্য থেকে 'অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকটি সহানুমানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি আমাদের যুক্তিবিদ্যার সহানুমান সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে। যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি পরস্পর সংযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় তাকে সহানুমান বলে। সহানুমানের আশ্রয় বাক্যদুটিতে একটি মধ্যপদ থাকে যা আশ্রয়বাক্য দুটিকে সম্পর্কযুক্ত করে এবং এখান থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। কিন্তু মধ্যপদ সিদ্ধান্তে থাকে না। উদ্দীপকের ব্যাখ্যানুযায়ী সহানুমানের তিনটি বাক্য থাকে, যার একটা-হলো সিদ্ধান্ত এবং দুটো আশ্রয়বাক্য। এ বাক্য তিনটাকে সহানুমানের ক্ষেত্রে অবশ্যই যুক্তিবাক্যের আকারে প্রকাশ করতে হবে। তা ছাড়া এদের মধ্যে আশ্রয়বাক্য সংখ্যা, বাক্যের মাঝে সম্পর্কযুক্ততা, অনিবার্যতা, ব্যাপকতা, সত্যতা বিষয়াবলির উল্লেখ থাকবে। সকল মানুষ মরণশীল। মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাই প্রকৃত সৎ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায় না। আর যারা মৃত্যুকে ভয় পায়, তারা সত্যিকারের সৎ মানুষ নয়। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা যে ধারণা লাভ করি তা হলো, সহানুমানের সিদ্ধান্ত কখনো আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হতে পারে না। উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত যুক্তভাবে গৃহীত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে টানা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি কোনো আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হয়নি।
Related Question
View Allযে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে বিধিসঙ্গতভাবে কোনো আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্যের স্থলে তার বিধেয়কে এবং বিধেয়ের স্থলে তার উদ্দেশ্যকে গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত করা হয় তাই হলো আবর্তন।
সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থে ব্যবহৃত পদ ব্যাপ্য পদ হয়। মূলত পদের ব্যাপ্যতা হলো পদের প্রসারতা। একটি পদ কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার পর সে পরিমাণ ব্যক্ত্যর্থ নির্দেশ করে তার দ্বারা সে 'পদের ব্যাপ্যতা' নির্ণয় করা হয়। কোনো পদ যখন তার সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ গ্রহণ করে কোনো যুক্তিবাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে 'পদের ব্যাপ্যতা' বলে। যেমন- 'সকল দার্শনিক হন জ্ঞান, এখানে দার্শনিকের সামগ্রিক ব্যক্ত্যর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। এজন্য দার্শনিকের দার্শনিক পদটি ব্যাপ্য পদ।
উদ্দীপকের ৩নং বক্সে O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন নির্দেশিত হয়েছে। O-যুক্তিবাক্য হলো বিশেষ নঞর্থক। যে যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদের আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে যে বিধেয় পদ অস্বীকার করে তাকে বিশেষ নঞর্থক বা O-যুক্তিবাক্য বলে। উদ্দীপকে দেওয়া আছে যে-
কিছু A নয় B
কিছু B নয় A
মূলত O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়। যেহেতু O-যুক্তি বাক্যটি একটি নঞর্থক বচন, সে কারণে তার আবর্তিতকেও হতে হবে নঞর্থক। অর্থাৎ আবর্তিতকে E বা O হতে হবে। কিন্তু ০-এর আবর্তিত E বা O হতে পারে না, E বা O- হলে আবর্তনের ৪র্থ নিয়ম লঙ্ঘন হয়। অর্থাৎ আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। উপরের উদাহরণে O-আবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য হিসেবে পদটি পূর্ণব্যাপ্ত হয়নি, অথচ সিদ্ধান্তে -বাক্যের বিধেয় হিসাবে পূর্ণব্যাপ্ত হয়ে আছে। কারণ পদের ব্যাপ্ততার নিয়ম অনুসারে বিশেষ বাক্যের উদ্দেশ্য পদ আংশিক ব্যাপ্য হলেও O-বাক্যের বিধেয় পদ যথাসময় পূর্ণব্যাপ্য হয়। সুতরাং ৩নং বক্সের যুক্তিবাক্য O-যুক্তি বাক্যের আবর্তন হয়েছে। অথচ O-যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে ২নং বক্সের মতো ১নং বক্সের আবর্তন করলে অনুপপত্তি হতে পারে। ২নং বক্সের যুক্তিবাক্যটি একটি E-যুক্তিবাক্য বা সার্বিক নঞর্থক যুক্তিবাক্য এবং ১নং বক্সের যুক্তিবাক্যটির সম্পূর্ণরূপ হবে।
A- সকল A হয় B
A- সকল B হয় A
উক্ত যুক্তিবাক্যটি A-যুক্তিবাক্য হবে বা সার্বিক সদর্থক। A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি। উপর্যুক্ত যুক্তিটি আবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদ আবর্তিতে এসে ব্যাপ্য হতে পারবে না। আলোচ্য যুক্তিটিতে B পদটি আবর্তনীয় A বাক্যের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অব্যাপ্য হয়েছে এবং আবর্তিত A-বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যাপ্য হয়েছে। এটি আবর্তনের নিয়ম বিরোধী। আবর্তন-এর নিয়ম অনুযায়ী A-বাক্য আবর্তন করলে আমরা 1 বাক্য পাই। অর্থাৎ A-বাক্যের আবর্তন হচ্ছে অসরল আবর্তন। কিন্তু আলোচ্য দৃষ্টান্তে A-বাক্যের সরল আবর্তন করায় পদের ব্যাপ্যতা সংক্রান্ত অনিয়ম দেখা দিয়েছে। সুতরাং যুক্তিটি ত্রুটিপূর্ণ। এটি একটি অবৈধ আবর্তন। এতে A-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। E-বাক্যের সরল আবর্তনজনিত অনুপপত্তি ঘটে না। কারণ E- কে আবর্তন করলে E পাওয়া যায়। সুতরাং ২নং বক্সে অনুপপত্তি না ঘটলেও ১নং-এ অনুপপত্তি ঘটেছে।
সংস্থান চার প্রকার। যথা- ১. প্রথম সংস্থান, ২. দ্বিতীয় সংস্থান, ৩. তৃতীয় সংস্থান এবং ৪. চতুর্থ সংস্থান।
সহানুমানের যে পদ আশ্রয় বাক্যে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না সেটিই হলো মধ্যপদ। মধ্যপদের ভূমিকা সহানুমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
সকল ছাত্র হয় মানুষ।
সকল ছাত্র হয় মরণশীল।
এখানে 'মানুষ' পদটি মধ্যপদ। আর এটি আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে সেতু হিসাবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!