একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানব মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার।
২য় ও ৯ম করোটিক স্নায়ু হলো যথাক্রমে অপটিক ও গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল। অপটিক স্নায়ু দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং প্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল স্নায়ু স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের দর্শন অজা চোখ। এর প্রাচীরের তিনটি অংশ হলো- স্ক্লেরা, কোরয়েড এবং রেটিনা। নিম্নে এদের গঠন বর্ণনা করা হলো-
মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের বাইরের সাদা, অস্বচ্ছ ও তন্ত্রময় স্তরকে স্ক্লেরা বলে। স্ক্লেরা কর্ণিয়া ও কনজাংটিভা ধারণ করে। স্ক্লেরার নিচে অবস্থিত রক্তবাহিকাসমৃদ্ধ ও মেলানিন রঞ্জকে রঞ্জিত স্তরকে কোরয়েড বলে। কোরয়েড থেকেই আইরিশ, সিলিয়ারি বডি, সাসপেন্সরি লিগামেন্ট, অ্যাকুয়াস হিউমার তৈরি হয়। কোরয়েডের নিচে অবস্থিত আলোক সংবেদী অংশকে রেটিনা বলে। এতে দুই ধরনের আলোক সংবেদী কোষ থাকে। যথা- রড ও কোন কোষ। রড কোষ রোডপসিন এবং কোন কোষ আয়োডপসিন নামক প্রোটিনযুক্ত। কোনকোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে ও রঙিন বস্তু দর্শনের এবং ছবির সঠিক বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী। রডকোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। রেটিনার সাথে অপটিক স্নায়ুর সংযোগ থাকে। এই স্নায়ু বস্তুর প্রতিবিম্ব মস্তিষ্কে প্রেরণ করে
মানুষের দর্শনেন্দ্রিয় অক্তাটি হলো চোখ। চোখের সর্ব ভিতরের স্তরটির নাম রেটিনা। রেটিনায় দুই ধরনের আলোক সংবেদী কোষ যথা-কোনকোষ ও রডকোষ বিদ্যমান। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
রডকোষগুলো লম্বা, সরু এবং এতে রডোপসিন নামক আলোকসংবেদী রঞ্জক পদার্থ ও ভিটামিন A থাকে। অনুজ্জ্বল বা স্বল্প আলোতে রডকোষগুলো দর্শনে সহায়তা করে। অপরদিকে, কোনকোষগুলো রডকোষ অপেক্ষা কিছুটা খাটো এবং প্রশস্ত। কোষগুলো কোণাকার এবং আয়োডপসিন নামক রঞ্জক পদার্থ উপস্থিত থাকে। কোনকোষগুলো উজ্জ্বল আলো ও রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য এবং ছবির সঠিক বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী। কোনকোষ তিন ধরনের এবং এরা ভিন্ন ধরনের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা বর্ণের প্রতি সংবেদনশীল। ছোট, মধ্যম এবং দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট কোনকোষগুলো যথাক্রমে নীল, সবুজ এবং লাল বা হলুদ বর্ণ অনুধাবন করতে পারে। এছাড়া রড ও কোনকোষ সমূহের. প্রান্তীয় সাইন্যাপটিক্যাল অংশ স্ফীত হয়ে বাল্ব গঠন করে যা দ্বিমেরু নিউরনের সাথে সিন্যাপস গঠন করে। কোনো বস্তু হতে আগত আলো রেটিনাতে প্রতিফলিত হলে রড ও কোনকোষ উদ্দীপিত হয়। আলোর প্রকারভেদ অনুসারে রডকোষ বস্তুটির সাদাকালো এবং কোনকোষ বস্তুর রঙিন প্রতিবিম্ব তৈরি করে। আলোক সংবেদী কোষের এই অনুভূতি অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরিত হয়। সেখানে প্রতিবিম্বের তথ্য বিশ্লেষণ হয় এবং আমরা বস্তুটিকে সোজা দেখতে পাই।
Related Question
View Allদর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই উপযোজন।
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত মানবদেহের সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা অনেক। এসব হরমোন দেহের অন্যান্য অনেক হরমোন নিঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি মানব অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস। নিচে ইউট্রিকুলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ইউট্রিকুলাসের সাথে দুটি উল্লম্ব ও একটি আনুভূমিকভাবে অবস্থিত মোট তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। নালিগুলো পরস্পর সমকোণে অবস্থিত। প্রত্যেকটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলায় আবৃত। মানুষের অন্তঃকর্ণ অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ -এ পরিবেষ্টিত যা পেরিলিম্ফপূর্ণ থাকে। আর এর অভ্যন্তরে থাকে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পদার্থ।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো মানব কর্ণ যা একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নিচে শ্রবণে মানব কর্ণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
বহিঃকর্ণ বা পিনায় সংগৃহীত শব্দ তরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। এই কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার, পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়। শব্দের বিভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করার জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ বিশেষ স্থান রয়েছে। যেমন- শব্দের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করে ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা সংলগ্ন অংশ, মধ্যম মাত্রা গ্রহণ করে মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণ করে শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।
এভাবেই মানব কর্ণের অন্তর্গঠনের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমিকভাবে শ্রবণে ভূমিকা পালন করে।
অক্ষিগোলকের যে বিন্দুতে অ্যাক্সনগুলো মিলিত হয়ে অপটিক স্নায়ু গঠন করে, সেই আলোক অসংবেদী বিন্দুই হলো অন্ধবিন্দু।
দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন হয় তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দুচোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে, লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে এবং পিউপিলের সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে। চোখের আইরিশ, সিলিয়ারী পেশি, সাসপেনসরি লিগামেন্ট ও লেন্স সক্রিয়ভাবে উপযোজনে অংশগ্রহণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!