দর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই উপযোজন।
যে প্রতিরক্ষা জন্মগত না হয়ে দেহে কোনো রোগ জীবাণুর প্রবেশের ফলে বা অন্য কোনো কারণে সৃষ্টি হয় তাকে অর্জিত প্রতিরক্ষা বলে। প্রাণিদেহে পূর্ববর্তী সংক্রমণ অথবা বাইরের কোনো উৎস থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি সরাসরি দেহে প্রবেশ করিয়ে অর্জিত প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় জীবাণুর দেহে প্রাপ্ত বিশেষ অ্যান্টিজেন ও মানবদেহের লিম্ফোসাইট কোষ জড়িত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো মানুষের দর্শন অঙ্গ চোখ। এর প্রাচীরের তিনটি অংশ হলো, স্ক্লেরা, কোরয়েড এবং রেটিনা। নিম্নে এদের গঠন বর্ণনা করা হলো-
মানুষের চোখের অক্ষিগোলকের বাইরের সাদা, অস্বচ্ছ ও তত্ত্বময় স্তরকে স্কেরা বলে। স্ক্লেরা কর্ণিয়া ও. কনজাংক্টিভা ধারণ করে। স্ক্লেরার নিচে অবস্থিত রক্তবাহিকাসমৃদ্ধ ও মেলানিন রঞ্জকে রঞ্জিত স্তরকে কোরয়েড বলে। কোরয়েড থেকেই আইরিশ, সিলিয়ারি বডি, সাসপেন্সরি লিগামেন্ট, অ্যাকুয়াস হিউমার তৈরি হয়। কোরয়েডের নিচে অবস্থিত আলোক সংবেদী অংশকে রেটিনা বলে। এতে দুই ধরনের, আলোক সংবেদী কোষ থাকে। যথা- রড ও কোন কোষ। রড কোষ রোডপসিন এবং কোন কোষ আয়োডপসিন নামক প্রোটিনযুক্ত। কোনকোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে ও রঙিন' বস্তু দর্শনের এবং ছবির সঠিক বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী। রডকোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
'রেটিনায় বস্তুর প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। রেটিনার সাথে অপটিক স্নায়ুর সংযোগ থাকে। এই স্নায়ু বস্তুর প্রতিবিম্ব মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দর্শনেন্দ্রীয়ের সর্বভিতরের স্তরটি হলো রেটিনা। এটি কোরয়েডের নিচে অবস্থিত একমাত্র আলো-সংবেদী অংশ। এতে দুই ধরনের আলোক সংবেদী কোষ বিদ্যমান। এগুলো হলো রড কোষ ও কোন কোষ। রডকোষ লম্বাটে ও রোডপসিন নামক প্রোটিনযুক্ত। কোন কোষগুলো কোণাকৃতির ও আয়োডপসিন নামক প্রোটিনযুক্ত। চোখে রডকোষ ও কোন কোষের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় বার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ এবং সত্তর লক্ষ। কোন কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে দর্শনের জন্য, রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য এবং ছবির সঠিক বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী। রড কোষগুলো 'অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শন উপযোগী। কোন কোষগুলো তিন ধরনের আছে বলে মনে করা হয়। প্রথম ধরনের কোন কোষ লাল রং, দ্বিতীয় ধরনের কোন কোষ সবুজ রং এবং তৃতীয় ধরনের কোন কোষ নীল রঙের জন্য ব্যবহৃত। তিন ধরনের কোষের সবই সমানভাবে উদ্দীপ্ত হলে সাদা রং সৃষ্টি হয়।
Related Question
View Allদর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই উপযোজন।
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত মানবদেহের সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা অনেক। এসব হরমোন দেহের অন্যান্য অনেক হরমোন নিঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি মানব অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস। নিচে ইউট্রিকুলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ইউট্রিকুলাসের সাথে দুটি উল্লম্ব ও একটি আনুভূমিকভাবে অবস্থিত মোট তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। নালিগুলো পরস্পর সমকোণে অবস্থিত। প্রত্যেকটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলায় আবৃত। মানুষের অন্তঃকর্ণ অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ -এ পরিবেষ্টিত যা পেরিলিম্ফপূর্ণ থাকে। আর এর অভ্যন্তরে থাকে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পদার্থ।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো মানব কর্ণ যা একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নিচে শ্রবণে মানব কর্ণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
বহিঃকর্ণ বা পিনায় সংগৃহীত শব্দ তরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। এই কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার, পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়। শব্দের বিভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করার জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ বিশেষ স্থান রয়েছে। যেমন- শব্দের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করে ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা সংলগ্ন অংশ, মধ্যম মাত্রা গ্রহণ করে মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণ করে শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।
এভাবেই মানব কর্ণের অন্তর্গঠনের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমিকভাবে শ্রবণে ভূমিকা পালন করে।
অক্ষিগোলকের যে বিন্দুতে অ্যাক্সনগুলো মিলিত হয়ে অপটিক স্নায়ু গঠন করে, সেই আলোক অসংবেদী বিন্দুই হলো অন্ধবিন্দু।
দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন হয় তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দুচোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে, লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে এবং পিউপিলের সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে। চোখের আইরিশ, সিলিয়ারী পেশি, সাসপেনসরি লিগামেন্ট ও লেন্স সক্রিয়ভাবে উপযোজনে অংশগ্রহণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!