সুষুম্নাকান্ডের শীর্ষে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটিকার মধ্যে অবস্থান করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
কোষদেহের চারদিক থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাগুলোকে ডেনড্রন বলে। এগুলো বেশি লম্বা হয় না। ডেনড্রন থেকে সৃষ্ট শাখাগুলোকে ডেনড্রাইট বলে। এদের দ্বারা স্নায়ুতাড়না নিউরনের দেহের দিকে পরিবাহিত হয়।
উদ্দীপকে 'A' অংশ হলো ত্বক বা চামড়া। যা দিয়ে আমাদের দেহ আবৃত থাকে। ত্বক স্পর্শ করলেই আমরা কেন বুঝি তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
মানবদেহ অসংখ্য নিউরনের মাধ্যমে গঠিত। নিউরনের দুটি অংশ অ্যাক্সন এবং ডেনড্রন। একাধিক নিউরনের অ্যাক্সন ও ডেনড্রন পর্যায়ক্রমে মিলিত হয়ে সিন্যাপস গঠন করে এবং উদ্দীপনা যেমন-তাপ, স্পর্শ, চাপ ইত্যাদি অনুভূতি সংবেদী নিউরনের মাধ্যমে দেহের বাহির হতে উদ্দীপনা পরিবহন করে মেরুরজ্জুর সহায়তায় মস্তিষ্কে পৌঁছে এবং মস্তিষ্ক বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করে থাকে। এ সময় আজ্ঞাবাহী নিউরনের মাধ্যমে উদ্দীপনা মস্তিষ্ক অর্থাৎ দেহের ভেতর হতে উদ্দীপনা দেহের বাহিরে চলে আসে। এ কারণেই ত্বক স্পর্শ করলেই স্পর্শ অনুভূতি সরাসরি মস্তিষ্কে যায় এবং মস্তিষ্ক তৎক্ষণাৎ স্পর্শানুভূতির জানান দেয় ফলশ্রুতিতে আমরা বুঝতে পারি।
উদ্দীপকে B অঙ্গটি হলো বৃত্ত। মানবদেহে B এর অর্থাৎ বৃত্তের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
বৃদ্ধকে মূত্র তৈরির কারখানা বলা হয়। দেহের পিছনের দিকে মেরুদন্ডের দুপাশে দুইটি বৃদ্ধ থাকে। এ বৃত্ত ছাঁকনির মতো কাজ করে। যকৃৎ আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড ভেঙ্গে 'ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। এসব পদার্থ দেহের জন্য ক্ষতিকর। বৃত্ত রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নেয়। এ ক্ষতিকর পদার্থ পানির সাথে মিশে হালকা হলুদ বর্ণের মূত্র তৈরি করে এবং ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্রথলিতে জমা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর মূত্রের বেগ অনুভূত হলে মূত্রথলির পেশি সংকোচন ও প্রসারণের ফলে দেহ থেকে মূত্র নির্গত হয়। অর্থাৎ দেহ থেকে বৃত্তের মাধ্যমে ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহের বাইরে মুক্ত হয়। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের দেহ থাকে সুস্থ স্বাভাবিক।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা হতে আমরা বলতে পারি যে, দেহকে দূষিত বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ থেকে মুক্ত রাখতে বৃত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allমস্তিষ্কের প্রধান অংশের নাম হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে। উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এ জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল হতে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশ দ্বারা যথাক্রমে ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সনকে নির্দেশ করা হয়েছে। উল্লেখিত A ও B আমাদের দেহে উদ্দীপনা তৈরিতে যে ভূমিকা পালন করে তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
চিত্রে প্রদর্শিত নিউরন বা স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। একটি নিউরনের প্রধানত তিনটি অংশ। যথা- দেহ কোষ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত। এভাবে অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ুতন্ত্র। পরস্পর দুটি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন (B) এবং পরেরটার ডেনড্রাইট (A) এর মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়। প্রথম নিউরনের অ্যাক্সন (B) গৃহীত উদ্দীপনা মূলত সিন্যাপসের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় নিউরনের ডেনড্রাইট (A) তে প্রেরণ করে। এভাবে সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে উদ্দীপনা প্রেরণ করা হয় যা ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীয় মায়ুতন্ত্রে পৌছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট আমাদের দেহে উদ্দীপনা তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত কোষটি হলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ। একটি সাধারণ কোষ থেকে এ কোষটির গঠন ভিন্নতর। নিচে এর সপক্ষে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো-
১. দেহকোষ সাধারণত গোলাকার, সর্পিলাকার, চ্যান্টা প্রভৃতি আকৃতির হতে পারে। কিন্তু স্নায়ুকোষ লম্বাটে অনেকটা সুতার মতো।
২. দেহকোষে সাধারণত সাইটোপ্লাজম প্লাজমামেমব্রেন দ্বারা আবৃত কিন্তু স্নায়ুকোষে সাইটোপ্লাজম দীর্ঘ তন্তু গঠন করে।
৩. দেহ কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু থাকে। কিন্তু স্নায়ু কোষের সাইটোপ্লাজমে কোনো অঙ্গাণু থাকে না।
৪. দেহকোষ বিভাজিত হয় কিন্তু স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না।
৫. স্নায়ুকোষ প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা- কোষদেহ ও প্রলম্বিত অংশ। কিন্তু সাধারণ কোষকে এ ধরনের কোনো অংশে ভাগ করা যায় না।
বিজ্ঞান
৬. সাধারণ কোষে কোনো ডেনড্রাইট উপস্থিত না থাকলেও স্নায়ুকোষে কোষদেহের বাইরে চারদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সূতার ন্যায় ডেনড্রাইট থাকে। উপরের বর্ণিত যুক্তিগুলোর আলোকে স্পষ্টভাবেই বলা যায় স্নায়ুকোষের গঠন প্রকৃতি সাধারণ কোষ থেকে ভিন্ন।
যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ জীব কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।
নাইট্রোজেনযুক্ত তরল পরিত্যাগকারী অঙ্গ হচ্ছে বৃদ্ধ। অর্থাৎ বৃক্কের মাধ্যমে দেহের নাইট্রোজেনযুক্ত তরল, দূষিত পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। মূত্রের মাধ্যমেই দেহের শতকরা আশি ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত, বর্জ্য পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। তাই নাইট্রোজেনযুক্ত তরল পরিত্যাগকারী অল্প অর্থাৎ বৃদ্ধকে প্রধান রেচন অঙ্গ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!