জ্ঞানার্জনের উৎসগুলো হলো- প্রাধিকার, সংজ্ঞা, শ্রুতি, অনুমান ইত্যাদি।
একটি যুক্তিতে প্রথমে আশ্রয়বাক্য নির্ধারণ করা হয়, এরপর আশ্রয়বাক্যের ওপর নির্ভর করে একটি সিদ্ধান্ত টানা হয়। তবে নির্ধারিত আশ্রয়বাক্য থেকে আমরা ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত টানতে পারি না। আশ্রয়বাক্য নির্বাচিত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত অনেকটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে। কাজেই অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় অর্থাৎ এদের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত আবিষ্কারগুলোর ক্ষেত্রে অনুমানের স্পষ্ট প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। কারণ আমরা জানি অনুমান হলো, জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়ার মাধ্যম বা প্রক্রিয়া। সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে চিন্তন প্রক্রিয়া বা অনুমানের নিয়ম মেনে অগ্রসর হলে তবেই সত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব, সরাসরি তা সম্ভব নয়। তাই আমাদের কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অনুমানের সাহায্যে প্রাথমিক একটি সত্যকে ধরে নিতে হয়। যেমন- কৃত্রিম উপগ্রহ, রেডিও টেলিভিশন সব আবিষ্কারই শুরু হয়েছিল কিছু অনুমান দিয়ে। এগুলো মানুষ সরাসরি আবিষ্কার করতে পারেনি। প্রথমে অনুমানের মাধ্যমে মানুষ যে বিষয়টি আবিষ্কার করবে তার কাঠামো অনুমান করে। তারপর ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে যদি অনুমানের নিয়ম প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে সে প্রকৃত সত্যে পৌঁছতে পারে বা নতুন নতুন আবিষ্কার করতে পারে। তাই নতুন নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অনুমান যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি হলো, ঈশ্বরচিন্তা আদিম মানুষের অনুমানের ফসল। উক্ত বক্তব্যটি যথেষ্ট যুক্তিপ্রসূত। কারণ, আদিম যুগে মানুষের মাঝে কোনো প্রকার ঈশ্বরের ধারণা ছিল না। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতো। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এই প্রকৃতি মানুষের সাথে বিরুদ্ধাচরণ করতো বলে মানুষের মাঝে প্রথমে ধারণা আসে এই প্রকৃতি কোনোভাবে বশে আনা যায় কিনা। এর প্রেক্ষিতে মানুষ একসময় প্রকৃতিপূজা শুরু করে। কিন্তু প্রকৃতির প্রতি এই আনুগত্যের ধারণা ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে উন্নত হতে থাকে। আনুগত্য পালনের ধারণা উন্নত হয়ে একসময় মানুষের মাঝে ঈশ্বরচিন্তার আবির্ভাব হয়। বিভিন্ন ধর্মের প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ প্রথমে বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস করতো। এই বহু ঈশ্বরের ধারণা উন্নত হয়ে একসময় এক ঈশ্বরের ধারণা প্রতিষ্ঠা করে। এটা একদিনে সম্ভব হয়নি। ধীরে ধীরে হয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, ঈশ্বরচিন্তা ছিল আদিম মানুষের অনুমান। তাদের সেই অনুমান ধীরে ধীরে উন্নত হয়ে বর্তমানের অবস্থায় এসেছে। এজন্য ঈশ্বরচিন্তা | আদিম মানুষের অনুমানের ফসল এ কথার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে।
Related Question
View Allঅমাধ্যম অনুমান হলো যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়।
মাধ্যম অনুমান হলো পরোক্ষ অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'মাধ্যম অনুমান' বলে। মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। যেমন-
A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
A – রহিম হয় একজন মানুষ।
A - রহিম হয় মরণশীল।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্য আরোহ অনুমানমূলক। আরোহ অনুমান অনুযায়ী অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যেমন-
মতিন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মজিদ হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মাখন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
সকল ধনী ব্যক্তি দানশীল।
মিজান সাহেব বাস্তবে কিছু মানুষকে দেখেছে যে তারা ধনী এবং দানশীল। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সকল ধনী ব্যক্তি হয় দানশীল। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়েছে। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কিছু লোক এর দানশীল ও ধনীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরোহ অনুমান এর সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান। যার সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্য থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে যে যুক্তিটি দেওয়া আছে তা হলো-
সকল জ্ঞানী হয় ধনী।
সকল কবি হয় ধনী।
সকল কবি হয় জ্ঞানী।
এই যুক্তিটি একটি অবরোহমূলক যুক্তি। এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্য রয়েছে দুটি। আর আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এটি অবরোহ অনুমান। যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হতে হবে। উপরোক্ত অনুমানে সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্দীপকের উক্ত যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তবে যুক্তির আশ্রয় বাক্যগুলোর সত্যতা থেকে সিদ্ধান্তের সত্যতা যদি যাচাই করতে যাই তবে তা মিথ্যা। কারণ 'সকল জ্ঞানী হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগত মিথ্যা এবং 'সকল কবি হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সকল জ্ঞানী ধনী • নাও হতে পারে, আবার, সকল কবি ধনী নয়। তাই উভয় আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সুতরাং সিদ্ধান্তে তথ্য 'সকল কবি হয় জ্ঞানী' বস্তুগতভাবে মিথ্যা। আশ্রয়বাক্য বস্তুগত মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা।
উদ্দীপকের যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে সত্য মিথ্যার উপর যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ভর করে না। তাই এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়। আর উক্ত যুক্তির আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং, যুক্তিটি বৈধ।
যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় সেটিই হলো 'মাধ্যম অনুমান'।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় সেটিই হলো 'অবরোহ অনুমান'। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রহিম হয় একজন মানুষ।
রহিম হয় মরণশীল।
উপরের দৃষ্টান্তে সিদ্ধান্তটি দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!