রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে তা-ই সরকারি ব্যয়।
প্রত্যক্ষ কর কোনো ব্যক্তির উপর ধার্য করা হলে করের বোঝা ঐ ব্যক্তিকেই বহন করতে হয়।
করদাতা যদি আয় ও সম্পত্তির সঠিক হিসাব প্রদান করে তাহলে তাকে বেশি কর দিতে হয়, আর মিথ্যা হিসাব দিয়ে আয় ও সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো হলে করের পরিমাণ কম দিতে হয়। তাই সাধারণত দেখা যায়, প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ লোক তার আয় ও সম্পদের পরিমাণ কম দেখায়। কাজেই বলা যায়, প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
উদ্দীপকের আলোকে সরকারের আয়ের উৎসগুলোর কর ও অ-কর রাজস্ব নিচে চিহ্নিত করা হলো-
কর রাজস্ব :
⇨ আয়কর আয়কর হলো সরকারের কর রাজস্বের প্রধান উৎস; কোনো ব্যক্তির আয়ের উপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আয়কর বলে।
⇨সম্পদ কর: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির উপর যে কর আরোপ করা হয় তা-ই সম্পদ কর। সম্পদ করও সরকারের কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত।
⇨মুনাফা কর: কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মুনাফার উপর যে কর ধার্য করা হয় তা-ই মূলত মুনাফা কর।
⇨VAT: বর্তমানে সরকারের জনপ্রিয় কর রাজস্ব হলো VAT। পণ্য বিক্রয়ের উপর যে কর ধার্য করা হয় তা-ই মূল্য সংযোজন কর বা VAT।
⇨ আবগারি শুল্ক: দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের উপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আবগারি শুল্ক বলে।
অ-কর রাজস্ব :
⇨ফি: অ-কর রাজস্ব সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস। বিভিন্ন ধরনের রেজিস্ট্রেশন ফি, কোর্ট ফি এ উৎসের অন্তর্ভুক্ত।
⇨ রেলওয়ে সরকার রেলওয়ের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করে আয় করে থাকে।
⇨তার ও টেলিফোন সরকার তার ও টেলিফোন থেকে বেশ অর্থ আয় করে যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত।
⇨ লাইসেন্স ফি: সরকার মোটরযান লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ক্যাবল টিভি লাইসেন্স প্রদান করে আয় করে থাকে।
⇨ উত্তরাধিকার: সরকার উত্তরাধিকার সনদ প্রদানের মাধ্যমে আয় করে থাকে।
⇨ ডাক: ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র ও পণ্য আদান-প্রদান করে সরকার আয় করে।
⇨ রাষ্ট্রীয় কারখানা: সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কারখানায় পণ্য উৎপাদন করে আয় করে থাকে।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কর ও অ-কর রাজস্বসমূহ সরকারি আয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস দুটির তুলনাপূর্বক, যেটি অধিকতর কার্যকর তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇒ অভ্যন্তরীণ ঋণের সুবিধা ও অসুবিধা: সরকারি ঋণের দুটি উৎসের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও নিরাপদ হলো অভ্যন্তরীণ উৎস। সরকার যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও সংকট মোচনে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দ্রুত ও সহজেই ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে শর্তের কোনো বাড়াবাড়ি থাকে না, সরকার ইচ্ছামতো ঋণের অর্থ ব্যয় করতে পারে। আবার অভ্যন্তরীণ ঋণের অসুবিধাও কম নয়। সরকার বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করলে বেসরকারি খাতে ঋণের যোগান কমে যায়। ফলে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে পাশাপাশি কর্মসংস্থানের অভাব ও বেকারত্ব দেখা দেয়।
⇒ বৈদেশিক ঋণের সুবিধা ও অসুবিধা : ঋণের বৈদেশিক উৎসের সুবিধার দিক হলো, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ ঋণ পাওয়া যায়। এছাড়াও ধনী দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। সুবিধার পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের অসুবিধা ব্যাপক। বৈদেশিক ঋণ কঠিন শর্তযুক্ত থাকে। এছাড়াও বৈদেশিক ঋণ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আবার অনেক ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি ডেকে আনে। আবার বৈদেশিক ঋণের সুদের পরিমাণও বেশি হয়ে থাকে।
উপরের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের তুলনামূলক বিচারে অভ্যন্তরীণ ঋণ অধিক কার্যকর।
Related Question
View Allজাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় বলা হয়।
সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এবং জাতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে আয় সংগ্রহ করে। যেমন- আয়কর, মুনাফা কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, প্রশাসনিক রাজস্ব, জরিমানা ও বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স ফি, ঋণ, দান/অনুদান ইত্যাদি থেকে সরকার আয় করে থাকে। সরকারের এসব খাত থেকে আয় করাকে বলা হয় সরকারি আয়। সরকারের এই আয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি ব্যয়। তাই উল্লেখিত উৎস থেকে সরকার আয় করে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক ও প্রতিরক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উপায়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যে অর্থ আদায় করে, তাকে সরকারি আয় বা রাজস্ব বলে।
সরকারি আয় সরকারি কোষাগারে জমা থাকে এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে এর হিসাব রাখে। সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো কর। সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর হিসেবে যে অর্থ আদায় করে, তাকেই কর আয় বলে। এই কর আয় আবার দুই ধরনের; যথা- প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর। যে ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হয় তার বোঝা যদি তাকে বহন করতে হয়, তবে সেই করকে প্রত্যক্ষ কর বলে। যেমন-আয়কর, সম্পদ কর, ভূমি কর, মৃত্যু কর ইত্যাদি। আবার কোনো ব্যক্তির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তার ভার বা বোঝা সে যদি অন্য কারও উপর চাপাতে পারে, তবে তাকে পরোক্ষ কর বলা হয়। যেমন- বিক্রয় কর, পণ্যকর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়া করবহির্ভূত আয় রয়েছে, যা থেকে রাষ্ট্র/সরকার আয় করে থাকে। সরকার কর ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যে রাজস্ব বা অর্থ পায়, তাকে করবহির্ভূত আয় বলে। এ ধরনের আয় সরকারের বাধ্যতামূলক পাওনা নয়। বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে সরকার জনগণের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। যেমন- ফি, বাণিজ্যিক আয়, সরকারি সম্পত্তির আয়, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি ঋণ, সুদ, দান ও অনুদান ইত্যাদি। বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে রাষ্ট্রীয় আয় এসব উৎস থেকে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ সরকার প্রশাসন পরিচালনা, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন প্রভৃতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
এ ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) কর রাজস্ব, (খ) করবহির্ভূত রাজস্ব। সরকারের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো কর রাজস্ব। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকারের আয়কর আইন অনুযায়ী যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে, তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা হয়। বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় মূল্য সংযোজন কর (VAT) ১৯৯২ সালে প্রচলন করা হয়। দেশের মধ্যে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের উপর এ কর ধার্য করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যাদির উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত চা, চিনি, তামাক, সিগারেট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এছাড়া সম্পূরক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেজিস্ট্রেশন, যানবাহন শুদ্ধ, অন্যান্য কর ও শুল্ক কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে তার উপর সুদ বাবদ প্রচুর আয় করে থাকে। সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে টোল ও লেভি সংগ্রহ করে, বনভূমি থেকে, ডাক বিভাগ থেকে, রেলওয়ে থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করে, যা করবহির্ভূত রাজস্ব বলে পরিচিত।
উল্লেখিত উৎসসমূহ থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।
হ্যাঁ, সমাজে ভালোভাবে চলতে হলে অবশ্যই ব্যয় অপরিহার্য।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় নির্বাহ করে, তাকে সরকারি ব্যয় বলে। দেশের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশের সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত বিবেচনায় রেখে বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ রাখে; পরে আবার তা ব্যয়ও করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!