ইন্দ্রিয়সচেতনতার মাধ্যমে দৃষ্টিহীনদের প্রতিবন্ধিতা দূর করা যায়।
"পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী" বলতে অন্ধবধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
অন্ধবধূ দৃষ্টিহীন। কিন্তু তার অনুভবশক্তি প্রবল। প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ সবকিছুই সে অনুভব করে। পায়ের তলায় নরম কোনোকিছু ঠেকলে সে ঠিকই বুঝতে পারে সেই বস্তুটা আসলে কী। 'অন্ধবন্ধু' কবিতায় দেখা যায়, পায়ের তলের নরম বস্তুটি যে বকুল ফুল সেটি সে খুব সহজেই বুঝতে পারে। আসলে আলোচ্য চরণটি দ্বারা অন্ধবধূর এই ইন্দ্রিয়সচেতনতাকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
জীবনে প্রতিবন্ধিতা নানা দিক থেকেই আসতে পারে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানুষকে স্বাভাবিক জগৎ থেকে পৃথক করে দেয়। অন্ধত্ব এক ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। যারা দৃষ্টিহীন তারা এই সুন্দর পৃথিবীকে দৃষ্টি দিয়ে না দেখলেও হৃদয় দিয়ে ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূ দৃষ্টিহীন। এটা নিয়ে সে আক্ষেপ করে। বাড়িতে সে একলা, স্বামী পরবাসী। সে অনুভব করে যে, পুকুরে ডুবে মরলে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচে যেত। উদ্দীপকের রূপাও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ইচ্ছে করলেও অন্যদের সাথে সে খেলাধুলা করতে পারে না। দৃষ্টিহীনতার কারণে প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্য থেকেও সে বঞ্চিত। তার জীবন কাটে একলা ঘরের কোণে। এভাবেই উদ্দীপকটিতে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর প্রতিবন্ধিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপার জীবন এবং 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর জীবন সমসূত্রে বাঁধা বলা পুরোপুরি যৌক্তিক নয়।
অন্ধত্ব কোনো অভিশাপের নামান্তর নয়। দৃষ্টিহীন যারা, তারা কেবল চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের মতো অনুভূতিপ্রবণ। তাই সমাজের অবহেলা তাদের আঘাত করে।
'অন্ধবধূ' কবিতায় বধূটি অন্ধ হলেও নৈরাশ্যবাদী নয়। চোখে দেখতে না পাওয়ার কারণে তার দুঃখবোধ আছে ঠিকই, তাই বলে জীবনের প্রতি মমত্ববোধহীন নয়। পায়ের নিচে নরম বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক মানে নতুন ঋতুর আগমন, পুকুরঘাটে শ্যাওলায় পা রেখে নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার কথা সমস্তই সে বোঝে। অন্যদিকে উদ্দীপকের রূপার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে ঘরের কোণে দিন কাটে। সুন্দর পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখতে না পাওয়ার ব্যথায় সে ব্যথিত।
রূপা এবং অন্ধবধূর জীবনে অন্ধত্বের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু অন্ধবধূ রূপার মতো নৈরাশ্যবাদী নয়। সে রূপার মতো ঘরের কোণে বসে থাকে না, বরং নিজের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করে। তাই রূপা ও অন্ধবধূর জীবন সমসূত্রে বাঁধা বলাটা পুরোপুরি যৌক্তিক নয়।
Related Question
View All'মধুমদির বাসে' কথাটির অর্থ মধুর গন্ধে মোহময় সুগন্ধে আচ্ছন্ন।
'কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে' পঙ্ক্তিটি দ্বারা প্রকৃতির বসন্ত ঋতুর শেষ হয়ে আসা এবং জ্যৈষ্ঠ আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
'অন্ধবধূ' কবিতায় কবি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অনুভবের অসাধারণ জগৎকে তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির বিচিত্র রঙের ধারণা ও অনুভবে সে সমৃদ্ধ। কোকিলের ডাকে ঋতু পরিবর্তনের বিষয়টি সে অনুভব করতে পারে। পায়ের তলায় নরম বস্তু যে ঝরা-বকুল সেটি বুঝতে তার অসুবিধা হয় না। সে জ্যৈষ্ঠ আসার দিন অনুমান করতে পারে। মূলত অন্ধ হলেও সে প্রকৃতির কাছে মনের দৃষ্টি মেলে বসে থাকে, আর সেই বসে থাকার মধ্য দিয়ে প্রকৃতির পরিবর্তন অনুভব করতে চায়।
উদ্দীপকের বক্তব্য 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর মৃত্যুর আশঙ্কার দিকটিকে আলোকপাত করেছে।
মানুষ মরণশীল। প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। জগতের রূপ, রস, গন্ধ, বর্ণ ইত্যাদি দেখার মধ্যে যে আনন্দ, তা আর অন্য কিছুতেই নেই। যাদের দৃষ্টিশক্তি নেই, তারা মনের চোখ মেলে প্রকৃতিকে যতটুকু দেখে তা পূর্ণাঙ্গ নয়।
উদ্দীপকে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন অবসানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সেখানে গৃহবধূ সুদীপার মধ্য দিয়ে মৃত্যু যে আমাদের সবার দিকেই হাত বাড়াবে সেই সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে মৃত্যু সম্পর্কে সুদীপার অনুভবটি মূর্ত হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকের এই বিষয়টির সাথে 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূর মৃত্যুর অনুভবটি সম্পর্কযুক্ত। কিছুটা পার্থক্য থাকলেও তাদের মৃত্যুচিন্তাটি একই রকম। দিঘির ঘাটে শ্যাওলাপড়া সিঁড়িতে পা পিছলে ডুবে মারা যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অন্ধবধূ। প্রকৃতির নানা অনুভব থেকে তখন তার মুক্তি হবে বলে সে মনে করেছে। উদ্দীপকে সুন্দর পৃথিবী, ঝিঝি ডাকা সন্ধ্যা, জোছনাভরা রাত ছেড়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিদায় নেওয়ার বিষয়টি অন্ধবধূর মৃত্যু আশঙ্কার সাথে এক এবং অভিন্ন।
"উদ্দীপকের বক্তব্যে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষকে অবশ্যই এ সত্যের মুখোমুখি হতে হয়। জাগতিক নিয়মে মানুষ প্রকৃতির নানা কিছু থেকে ঋণ গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। তাদের সেই বেঁচে থাকায় আনন্দ আছে, স্বপ্ন আছে, স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার হতাশা আছে, কান্না আছে। এতকিছুর পরও মানুষ স্বপ্ন দেখে, ভালোবাসে, বেঁচে থাকে। যে অন্ধ, তার অনুভূতিতেও প্রকৃতির উপস্থিতি অম্লান হয়ে ধরা দেয়। মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারে বলেই এমনটি হয়।
উদ্দীপকে গৃহবধূ সুদীপা মৃত্যুকে অনুভব করছেন তার অনুভূতি দিয়ে। সুন্দর পৃথিবীর প্রকৃতির মোহ বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুর দেশে হারিয়ে যেতে হবে তাঁকে। তাঁর এ অনুভব তাঁর একার নয়। বৃহৎ অর্থে এ অনুভব সমস্ত মানুষের। তাঁর এ অনুভবটি ভিন্নভাবে আলোচ্য কবিতার অন্ধবধূর মৃত্যুর আশঙ্কার সাথে সম্পর্কিত। অন্ধবধূ জগৎসংসারের দ্বন্দ্ব চুকিয়ে দেওয়ার বিষয়ে, দিঘির ঘাটে শ্যাওলা জমা সিড়িতে পিছলে জলে ডুবে মরার বিষয়ে ভেবেছে। আর এ বিষয়টির সাথেই উদ্দীপকের ভাবের মিল পাওয়া যায়। তাছাড়া ঋতু পরিবর্তন, কোকিলের ডাক, জ্যৈষ্ঠ মাসে আমের বরণ, ঝরা-বকুল, শীতল জলের স্নিগ্ধতা, মায়ের স্নেহের পরশ ইত্যাদি উদ্দীপকে নেই।
'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূর অন্তর্দৃষ্টিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা প্রকৃতির সাথে আলোচ্য উদ্দীপকের মিল সামান্যই। 'অন্ধবধূ' কবিতার অন্ধবধূম্র প্রতি পরিবার-পরিজন ও সমাজের অবজ্ঞা এবং অন্ধবধূর একলা থাকা গৃহকোণে ফিরে যাওয়ার তাড়া অনুভব না করাও উদ্দীপকের গৃহবধূ সুদীপার মধ্যে নেই। এসব কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, উদ্দীপকের বক্তব্যে 'অন্ধবধূ' কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে।
"দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে" বলতে কবি অন্ধবধূর অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিতকরণ বা অনুভূতির তীক্ষ্ণতাকে বুঝিয়েছেন।
সমাজের দৃষ্টিহীনেরা নিজেদের অসহায় ভাবে। তারা সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ। ইন্দ্রিয়সচেতনতা তাদের এই প্রতিবন্ধিতা দূর করতে পারে। কারণ তারা অনুভবঋদ্ধ মানুষ। 'অন্ধবধূ' কবিতায় দেখা যায়, অন্ধবধূ অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত করে পায়ের নিচে নরম বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতুর আগমন, শ্যাওলায় পা রেখে নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার বিষয়গুলো বুঝতে পারে। দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগার বিষয়টি অনুমান করে অন্ধবধূ ঋতু পরিবর্তনের অনুমান করার পাশাপাশি পা পিছলে পড়ে যাওয়ার শঙ্কার বিষয়টিও অনুভব করেছে, যা তার অনুভূতির তীক্ষ্ণতার প্রমাণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!