মা-বাবার প্রতি কর্তব্য
সূচনা: পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আমাদের সবচেয়ে আপনজন আমাদের মা-বাবা। মা-বাবার সঙ্গেই আমাদের রক্তের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরাই আমাদের সর্বোচ্চ শুভাকাঙ্ক্ষী। তাঁরা আমাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাঁরা আমাদের লালনপালন করেন। সুখে-দুঃখে তাঁদের কাছেই আমাদের পরম নির্ভরতা। তাই আমরা তাঁদের ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তাঁদের কাছে আমাদের ঋণ অপরিশোধ্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, পিতামাতার হাতে সন্তানের স্বার্থদ্বার রচিত হয়।
জীবনে মা-বাবার স্থান: আমাদের জীবনে মা-বাবা স্থান সবার উপরে। মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন। তাঁর গর্ভেই গড়ে ওঠে সন্তানের দেহ। জন্মের পর সন্তান থাকে একান্ত অসহায়। তখন মায়ের কোলই সন্তানের পরম আশ্রয়। জন্মের পর মাতৃদুগ্ধ পান করেই সন্তান পরমায়ু লাভ করে। মা পরম আদরে সন্তানকে লালন করেন। তিনি নিজে না খেয়ে তাকে খাওয়ান। বাবার ভূমিকাও সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা সন্তানের আহারসামগ্রী ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জিনিসপত্র জোগান, কখনো কখনো মা-বাবা দুজনই এসব জোগান। সন্তান চোখের আড়ালে গেলে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। সন্তানের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা থাকেন সদা সচেষ্ট। সন্তানকে মানুষ করার জন্য মা-বাবার চেষ্টা ও ত্যাগের সীমা থাকে না। অসুখে-বিসুখে তাঁরা সন্তানের নিরলস সেবা করেন। তাই আমাদের জীবনে পিতামাতার আসন অনেক মর্যাদার, অপরিসীম শ্রদ্ধার।
সন্তানের প্রতি মা-বাবার অনুভূতি: সন্তানের সুখই মা-বাবার সুখ, সন্তানের দুঃখই মা-বাবার দুঃখ। সন্তানের গৌরবে মা-বাবা হন সবচেয়ে সুখী, সবচেয়ে আনন্দিত। অন্যদিকে, সন্তানের দুষ্কর্মে ও অপযশে সবচেয়ে মর্মাহত হন মা-বাবাই। তাই সন্তানের জীবনে মা-বাবার মতো সুহৃদ ও হিতৈষী আর নেই। আজকাল সন্তান যখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সুন্দরভাবে 'নিজের জীবন গঠন করে তখন মা-বাবার সুখের সীমা থাকে না। আবার সন্তান যখন বিপদগ্রস্ত হয়, তখন মা-বাবার চোখে ঘুম আসে না। সর্বশক্তিমানের কাছে হাত তুলে তাঁরা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। এমনকি সন্তান স্বাবলম্বী হয়ে নিজ পরিবার গঠন করলেও মা-বাবা সন্তানের চিন্তায় সবসময় ব্যাকুল থাকেন। সন্তানের প্রতি মা-বাবার অনুভূতি এতখানিই গভীর ও গাঢ়।
মা-বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য: মা-বাবার প্রতি আমাদের কর্তব্য অনেক। মা-বাবার চেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী এ জগতে আর কেউ নেই। আমাদের প্রথম কর্তব্য মা-বাবার অনুগত হওয়া। তাঁদের আদেশ-উপদেশ মেনে চলা। মা-বাবা অনেক সময় আমাদের শাসন করেন। সেটা করেন আমাদের কল্যাণের কথা ভেবে। তাই মা-বাবার শাসনে ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত নয়। মা-বাবার প্রতি আমাদের আচরণ হবে মধুর। তাঁরা দুঃখ বা কষ্ট পান এমন কোনো কাজ করা, এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়। মা-বাবার সেবা করাও আমাদের অন্যতম কর্তব্য। তাঁরা অসুস্থ হলে তাঁদের সেবা-যত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। বার্ধক্যে তাঁরা যখন দুর্বল ও হীনশক্তি হয়ে পড়েন, তখন হাসিমুখে তাঁদের সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য।
সন্তান যদি সমাজে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করে তবে মা-বাবার বুক আনন্দে ভরে ওঠে। সন্তান চরিত্রবান ও জ্ঞানীগুণী হলে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়। তাঁরা সুখী হন। সেজন্যে সবার উচিত শিক্ষায়, কর্মে ও আচরণে সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠা। যেসব কাজ করলে মা-বাবার দুঃখ পান সেগুলো পরিহার করা সন্তানের কর্তব্য।
উপসংহার: প্রত্যেক মা-বাবাই সন্তানের কল্যাণ চান, মঙ্গল চান। এ সত্যটি অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না। সংসারে এমন অনেকে আছে, যাদের মা-বাবা নেই, তারা মা-বাবার স্নেহ-সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হয়, কষ্ট পায়। আমরা তাদের চেয়ে অনেক সুখী। মা-বাবার সন্তুষ্টি বিধান করার উপরই আমাদের কল্যাণ নির্ভর করে। মা-বাবাকে কোনোভাবেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের উপযুক্ত সম্মান দেখাতে হবে। তাঁদের সুখী করতে পারলে আমরাও সুখী হব। বিধাতাও আমাদের প্রতি সদয় হবেন।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!