সৃজনশীলতা বলতে যেমন নতুন কিছু সৃষ্টি করা বোঝায় তেমনি কোনো কাজ নতুন উপায়ে করাকেও বোঝায়।
'আত্ম' অর্থ 'নিজ' এবং 'আত্মবিশ্বাস' অর্থ 'নিজের প্রতি বিশ্বাস'। যেকোনো কাজে সফলতার জন্য আত্মবিশ্বাস খুবই জরুরি। আত্মবিশ্বাসের বলে বলীয়ান হলে অনেক অসাধ্যও সাধন করা যায়। আর তাই যেকোনো কাজে সফল হতে হলে আত্মবিশ্বাসের কোনো বিকল্প নেই।
শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে একজন শিক্ষার্থীকে পছন্দ অনুযায়ী শাখা নির্বাচন করতে হয়।
যেকোনো মানুষেরই স্বপ্ন পূরণের জন্য ইচ্ছা থাকতে হয়। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোন পেশা গ্রহণ করতে চায় এবং তার জন্য কোন শাখায় তাকে পড়াশুনা করতে হবে সে বিষয়ে পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একজন শিক্ষার্থীকে শাখা নির্বাচনের জন্য শ্রেণি শিক্ষক শিক্ষার বিভিন্ন স্তর ও শাখার যে সম্পর্ক আলোচনা করবেন তা নিচে দেওয়া হলো-
একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরের ১ম শ্রেণি থেকে তার শিক্ষাজীবন শুরু করে। ৫ম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। ৮ম শ্রেণি শেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর শেষ করে মাধ্যমিক স্তরে অর্থাৎ ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। যেসব শিক্ষার্থী পেশা হিসেবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় তাদের অবশ্যই বিজ্ঞান শাখায় পড়াশোনা করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। আবার কেউ যদি পেশা হিসেবে প্রশাসনে যেতে চায় তাহলে তার মানবিক শাখায় পড়াশোনা করতে হবে। আর কেউ যদি ব্যবসায় করতে চায় অথবা ব্যাংকার, হিসাবরক্ষক হতে চায় তাহলে তার ব্যবসায় শাখায় পড়াশোনা করতে হবে। এভাবে ১০ম শ্রেণি শেষে মাধ্যমিক স্কুল সর্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে। দ্বাদশ শ্রেণি শেষে উচ্চ মাধ্যমিক সর্টিফিকেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। উচ্চ শিক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী তার
নিজের যোগ্যতা নয়; বরং শাখা নির্বাচনের সময় আগ্রহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত"- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
শাখা নির্বাচনে আগ্রহ ও যোগ্যতা উভয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যোগ্যতা না থাকলে আগ্রহ ধরে রাখা যেমনি দুঃসাধ্য তেমনি আগ্রহ থাকলে যোগ্যতা অর্জন করাও অসম্ভব নয়। তাই আমার মতে, নিজের যোগ্যতা নয়; বরং শাখা নির্বাচনের সময় আগ্রহকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যেকোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই শাখা নির্বাচনের জন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। এ বিষয়গুলো কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। যেমন-ধাপ-১: নিজেকে জানা: এক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের পছন্দ, আগ্রহ, অপছন্দ, সবল ও দুর্বল দিক, অর্জনসমূহ, মূল্যবোধ, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি বিষয়গুলো ভালোভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে।
Related Question
View Allজন্ম থেকে শুরু করে সচেতন অবস্থায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করে এবং তার জন্য যে সময় ব্যয় করে সেই সময়কেই শিক্ষাজীবন বলে।
শিক্ষার্থীর শাখা নির্বাচনের আগে ভবিষ্যতে যে পেশা গ্রহণ করতে চায় সেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
পেশার সাথে পড়ালেখার বিষয় জড়িত। যেমন, যদি কেউ ডাক্তার হতে চায় তাহলে তাকে বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করতে হবে। আর যদি কেউ ব্যাংকার অথবা বড় ব্যবসায়ী হতে চায় তাহলে তাকে ব্যবসায়শিক্ষা শাখায় পড়াশুনা করতে হবে। তাই শাখা নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই তার ভবিষ্যতের পেশা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
মিথুনের ভবিষ্যৎ পেশার কথা চিন্তা করলে তার জন্য ব্যবসায় শিক্ষা শাখা উপযুক্ত।
শিক্ষার্থীরা শাখা নির্বাচন করতে চাইলে তাকে তার ভবিষ্যৎ পেশা গ্রহণের বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। কারণ পেশার সাথে পড়ালেখা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উদ্দীপকে মিথুন একজন শিক্ষার্থী। সে পড়ালেখায় ভালো এবং তার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার পর দেখল যে, সে বিজ্ঞান বিষয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে। তার ইচ্ছা সে বড় হয়ে ব্যাংকার হবে। আর এই লক্ষ্য পূরণে তাকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সাথেই ব্যাংকিং বিষয়গুলো জড়িত যা ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন
মিথুন যদি বিজ্ঞান শাখা নির্বাচন করে তাহলে তার ব্যাংকার হওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধার তুলনায় অসুবিধাই বেশি হবে।
ব্যাংকার হতে হলে ব্যাংকিং বিষয়গুলো জানতে হয়। বিজ্ঞান শাখায় ব্যবসায় কিংবা ব্যাংকের কোনো বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয় না।
সাধারণত বিজ্ঞান শাখার বিষয়গুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, রসায়ন বিজ্ঞান ইত্যাদি। আর এসব বিষয়ে ব্যবসায় ও ব্যাংকিংসংক্রান্ত কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকে না। বিজ্ঞান শাখায় শুধু বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করা হয়। অপরদিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিষয়গুলো হচ্ছে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ, পরিসংখ্যান, ব্যাংকিং, ফিন্যান্স ও বিমা। এসব বিষয়ে ব্যবসায় ও ব্যাংকিং বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ব্যাংকের ম্যানেজার হওয়ার জন্য মিথুনকে হিসাব ও ব্যাংকিং বিষয়বস্তু জানতে হবে। কিন্তু যদি সে বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করে তাহলে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবে না। তাই ব্যাংকের ব্যাংকার হতে হলে মিথুনকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পড়াশুনা করাই অধিকতর সুবিধাজনক।
কপড়া-লেখা, হিসাব-নিকাশ, শোনা ও বলার দক্ষতাকেই মৌলিক দক্ষতা বলে।
কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে গুণাবলি মুখ্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে থাকে। কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি গুণাবলি নিচে উপস্থাপন করা হলো। যথা:
১. নিজের শেখা জ্ঞানকে প্রয়োগ করতে পারা।
২. অন্যের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারা।
৩. নতুন কিছু সৃষ্টি করার দক্ষতা।
৪. বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারা।
৫. নিজের আচরণ, আবেগ ইত্যাদির ওপর নিয়ন্ত্রণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
