মামুনের গবেষণার বিষয় ছিল হোগলা বন্দরের মানুষের বর্তমান পেশা ও আয় এবং একশত বছর পূর্বের ঐ এলাকায় মানুষের পেশা ও আয়ের মধ্যকার তুলনা করা। এ গবেষণার জন্য সে প্রথমে ঐ এলাকার সমাজ কাঠামো সংক্রান্ত গ্রন্থ, পত্র-পত্রিকা, সরকারি দলিল-দস্তাবেজ ইত্যাদি প্রদত্ত তথ্য থেকে গত একশত বছর পূর্বের ঐ এলাকার মানুষের পেশার ধরন ও আয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে বর্তমান ও অতীত অবস্থার তুলনা করার মধ্য দিয়ে তার গবেষণা কাজটি সম্পন্ন করে। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম স্তর হলো সমস্যা নির্ণয়।

উত্তরঃ

পদ্ধতি হলো কোনো কাজ কীভাবে করতে হবে তার পন্থা আর কৌশল হলো ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করতে যে উপায় অবলম্বন করতে হবে সেটা।

কোনো কাজ সূচারুভাবে সম্পন্ন করতে হলে যে পথ অবলম্বন করতে হয় তাই হলো পদ্ধতি। পদ্ধতি বলে দেয় কাজটি কীভাবে করতে হবে। অন্যদিকে পদ্ধতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপায় হলো কৌশল। একই পদ্ধতিতে একাধিক কৌশল ব্যবহৃত হতে পারে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে মামুন তার গবেষণায় প্রথম ও প্রধান যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করে তা হলো ঐতিহাসিক পদ্ধতি।

ঐতিহাসিক পদ্ধতি হলো অতীতকালের সামাজিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে বর্তমান সমাজ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান লাভ করার পন্থা। এই পদ্ধতির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ঘটনা, সামাজিক প্রক্রিয়া এবং প্রাচীন সভ্যতার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়। অতীত বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সমাজের সমকালীন সামাজিক জীবনের গতি-প্রকৃতি, উৎপত্তি, বৈশিষ্ট পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। এ পদ্ধতিতে তথ্যের মূল উৎস হলো- লিখিত ইতিহাস, দলিল দস্তাবেজ, জীবনী ও আত্মজীবনী, ব্যক্তিগত রোজনামচা ও চিঠিপত্র।

উদ্দীপকে মামুন তার গবেষণার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন করে বিগত একশত বছরের পত্র-পত্রিকা ও দলিল দস্তাবেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে সে উক্ত এলাকার মানুষের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। অতএব তার গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতিটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক পদ্ধতি।

উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে একাধিক পদ্ধতির ব্যবহার যুক্তিযুক্ত। এতে ফলাফল নির্ভুল হয়।

সমাজবিজ্ঞান সামগ্রিক সমাজকে নিয়ে আলোচনা করে। সামাজিক সমস্যার ভিন্নতার কারণে সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সমাজ পরিবর্তনশীল এবং বিভিন্ন দেশের সমাজকাঠামোর মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। সমাজকাঠামোর এ বিভিন্নতাই বিভিন্ন অধ্যয়ন পদ্ধতি উদ্ভবের জন্য দায়ী। সমাজ ও সামাজিক উপাদানসমূহ বিশেষভাবে জটিল প্রকৃতির। এসব সামাজিক বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এককভাবে কোনো পদ্ধতিই যথেষ্ঠ প্রতিপন্ন হয় না। এ কারণে সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক বিষয়াদি অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অনেকসময় একাধিক পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন। একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করে গবেষণা পরিচালনা করলে উক্ত গবেষণার মান বৃদ্ধি পায় এবং অধিক গ্রহণযোগ্য হয়।

উদ্দীপকে মামুন তার গবেষণায় একাধিক পদ্ধতির ব্যবহার করে। প্রথমে সে ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত এলাকার মানুষের পেশা ও আয় সম্পর্কে গবেষণা করে তথ্য সংগ্রহ করে। এ পর্যায়ে তার গবেষণার ফলাফল গ্রহণযোগ্য ঠিকই কিন্তু যখন সে এর সাথে তুলনামূলক পদ্ধতি যুক্ত করে গবেষণা সম্পন্ন করে তখন তার গবেষণার সিদ্ধান্ত নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে আলাদাভাবে একই বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল একই হলে উক্ত সিদ্ধান্ত সমাজবিজ্ঞানে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় একাধিক পদ্ধতির অবলম্বন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত।

361
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।

গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।

1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।

আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।

386
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।

481
উত্তরঃ

যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।

যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।

320
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews