ইউরোক্রোম হলো মূত্রের এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ।
দেহাভ্যন্তরে কোষকলায় বিদ্যমান পানি ও বিভিন্ন লবণের ভারসাম্য রক্ষা করার বিশেষ পদ্ধতিকে অসমোরেগুলেশন বা পানির সমতা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। রেচন প্রক্রিয়ায় বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে দেহে পানির সমতা রক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের উল্লিখিত অঙ্গটি হলো বৃদ্ধ, আর বৃক্কের কার্যকরী একক নেফ্রন। নিচে নেফ্রনের গঠন বর্ণনা করা হলো-
প্রতিটি নেফ্রন একটি রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান অঙ্গ এবং রেনাল টিউব্যুল নিয়ে গঠিত। প্রতিটি রেনাল করপাসল আবার গ্লোমেরুলাস এবং বোম্যান্স ক্যাপসুল এ দু'টি অংশে বিভক্ত। বোম্যান্স ক্যাপসুল গ্লোমেরুলাসকে বেষ্টন করে থাকে। বোম্যান্স ক্যাপসুল দ্বিস্তরবিশিষ্ট পেয়ালার মতো প্রসারিত একটি অংশ। গ্লোমেরুলাস একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি। বোম্যান্স ক্যাপসুলের অঙ্কীয় দেশ থেকে সংগ্রাহী নালি পর্যন্ত বিস্তৃত চওড়া নালিটি হলো রেনাল টিউব্যুল। প্রতিটি রেনাল টিউব্যুল ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা- গোড়াদেশীয় প্যাঁচানো নালিকা, হেনলির লুপ এবং প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা।
উদ্দীপকে ডাক্তারের শেষ উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বৃক্কে পাথর সৃষ্টি হলে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ রোগে শরীর ফুলে যায়, প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া করে। প্রস্রাবের সাথে অনেক সময় রক্ত যায়, কখনও বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। রোগের তীব্রতায় কোমরের পিছনে ব্যথা দেখা দেয়। শুধু তাই নয় অনেক সময় কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এ রোগে এমন বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। সাধারণত শারীরিক ওজন অনেক বেড়ে গেলে, বৃক্ক কোনো রোগে আক্রান্ত হলে, কম পানি পান করলে, অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ যেমন- মাংস, ডিম খেলে বৃক্কে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কিন্তু সচেতন থেকে অর্থাৎ শারীরিক ওজন ঠিক রেখে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ অর্থাৎ মাংস ও ডিম না খেয়ে এমনকি এ রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এ রোগের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
Related Question
View Allবৃক্কের ভেতরের গাঢ় কালচে রঙের অংশই হলো মেডুলা।
নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর একগুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি অঙ্গই হলো গ্লোমেরুলাস। রেনাল ধমনি থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট আর্টারিওল ক্যাপসুলের ভেতর ঢুকে প্রায় ৫০টি কৈশিক নালিকা তৈরি করে। এগুলো আবার বিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকার সৃষ্টি করে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিসুত তরল উৎপন্ন করে।
চিত্র-A হলো মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ রেচন অঙ্গ-'বৃদ্ধ'। রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো বাইরে নিষ্কাশিত হয়। বিপাক ক্রিয়ায় আমাদের দেহে যে সকল বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয় তা হলো- ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, লবণ, ক্রিয়েটিনিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামাইনো এসিড ইত্যাদি। এগুলো রক্তের সাথে মিশে থাকে। বৃক্কের কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন। নেফ্রনের বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভেতর থাকে এক গুচ্ছ কৈশিক জালিকা দিয়ে তৈরি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গ্লোমেরুলাস। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে। বিপাক ক্রিয়ায় সৃষ্ট বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থসহ রক্ত যখন গ্লোমেরুলাসে আসে তখন রক্ত থেকে সক্রিয় ছাঁকন পদ্ধতিতে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থগুলো বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে প্রবেশ করে। ফলে রক্ত পরিশোধিত হয়। বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো পরবর্তীতে মূত্রের সঙ্গে বাইরে বের হয়ে আসে। যেহেতু চিত্র-৭ এর অর্থাৎ বৃক্কের গ্লোমেরুলাস মূলত ছাঁকন পদ্ধতিতে রক্ত থেকে বর্জ্য বা দূষিত পদার্থগুলোকে অপসারণ করে তাই একে (চিত্র-A) ছাঁকনির সাথে তুলনা করা হয়।
চিত্র-A হলো বৃক্ক। অঙ্গটি অর্থাৎ বৃক্ক বিকল হলে একমাত্র প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওযা সম্ভব। যখন কোনো ব্যক্তির বৃক্ক বিকল হয়ে পড়ে তখন কোন সুস্থ ব্যক্তির বৃদ্ধ তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন একে বৃক্ক সংযোজন বলে। বৃক্ক সংযোজন দুভাবে করা যায়, কোনো নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ একজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করে এটি করা যায়। তবে নিকট আত্মীয় বলতে বাবা, মা, ভাই, বোন, মামা, খালাকে বোঝায়। আবার মৃত ব্যক্তির বৃক্ক নিয়ে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। মৃত ব্যক্তি বলতে 'ব্রেন ডেথ' বোঝায়। তাছাড়া মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মরনোত্তর বৃক্কদানের মাধ্যমে একজন বৃক্ক বিকল বা অকেজো রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে। সমগ্র পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বৃত্ত অকেজো রোগী বৃক্ক সংযোজনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন যাপন করছে। বৃক্ক প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে টিস্যু ম্যাচ করে নেওয়া আবশ্যক। পিতামাতা, ভাইবোন ও নিকট আত্মীয়ের বৃক্কের টিস্যু ম্যাচ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, একারণে পিতা মাতা, ভাইবোন বা নিকট আত্মীয়ের বৃদ্ধ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিকল বৃক্কের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ঝুঁকির হার অনেক কম থাকে।
বৃক্ক সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধিত করার নামই হলো ডায়ালাইসিস।
মূত্রের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯০ ভাগই পানি। এছাড়া মূত্রের অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক পদার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
