মৌলিক পদার্থের ইংরেজি বা ল্যাটিন নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে প্রতীক বলে।
সকল পদার্থ ক্ষুদ্রতম কণা দ্বারা গঠিত, যা অনেক পুরাতন মতবাদ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দার্শনিক ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ দেন। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন ডাল্টন ১৮০৩ সালে পরীক্ষালব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কে দেওয়া মতবাদকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আধুনিক রসায়নের ভিত্তি হচ্ছে এ পরমাণুবাদ। এ কারণে জন ডাল্টনকে আধুনিক পরমাণুবাদের জনক বলা হয়।
ছুরিটির গায়ে যে আবরণটি পড়েছে তাকে মরিচা বলা হয়। বায়ুতে অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প থাকে। বায়ুতে যে অক্সিজেন থাকে তা লোহার সংস্পর্শে এসে এক প্রকার লৌহ-অক্সাইড তৈরি করে। একে মরিচা বলে। ছুরিটিকে এক জায়গায় অনেকদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা ছিল। ছুরিটি লোহা দ্বারা তৈরি। লোহা একটি ধাতু। লোহা বা আয়রন ধাতুর সঙ্গে অক্সিজেন বিক্রিয়া করে লৌহ অক্সাইড তৈরি করে, যাকে মরিচা বলা হয়।
লোহা + অক্সিজেন + জলীয় বাষ্প লৌহ অক্সাইড বা মরিচা ছুরিটিতে এভাবেই মরিচা সৃষ্টি হয়েছে।
মামুনের ছুরিটির গায়ে মরিচা সৃষ্টিতে অক্সিজেন মুখ্য বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। এ গ্যাস মৌলিক গ্যাস তথা মৌলিক পদার্থ। অন্যদিকে ছুরিতে সৃষ্ট আবরণটি মরিচা হচ্ছে যৌগিক পদার্থ! নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য দেখানো হলো-
| মৌলিক পদার্থ (O) | যৌগিক পদার্থ [মরিচা (Fe2O3.3H2O)] |
| ১. অক্সিজেন (O) মৌলিক পদার্থ; কারণ এটি একটি মাত্র উপাদান দ্বারা তৈরি। | ১. মরিচা (Fe2O3.3H2O) যৌগিক পদার্থ; কারণ এটি একের অধিক ভিন্নধর্মী উপাদান (Fe, O, H) দ্বারা তৈরি। |
| ২. একে ভাঙলে বা রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে অক্সিজেন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না। | ২. একে ভাঙলে বা রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একাধিক মৌলিক পদার্থ (Fe, O, H) পাওয়া যায়। |
| ৩. এরূপ মৌলিক পদার্থের উদাহরণ: N, H, Cl, Br, Na, Mg ইত্যাদি। | ৩. এরূপ যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : NaCl, MgCl2, CO2, CaCO3 ইত্যাদি। |
Related Question
View Allকার্বন একটি মৌলিক পদার্থ। যেহেতু কার্বনকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে কার্বন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাই কার্বন একটি মৌলিক পদার্থ।
উদ্দীপকের ১ নং পদার্থটির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি খাবার লবণ নামেও পরিচিত। এর সংকেত: NaCl.
গঠন প্রক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি যৌগিক পদার্থ। এটি দুটি মৌলিক পদার্থ সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (CI) দ্বারা গঠিত। সংকেত থেকে দেখা যায় যে, সোডিয়াম ক্লোরাইড যৌগটি একটি Na ও একটি CI পরমাণু দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ NaCl কে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একটি সোডিয়াম ও একটি ক্লোরিন পরমাণু পাওয়া যাবে। আবার বলা যায় যে, একটি সোডিয়াম পরমাণু ও একটি ক্লোরিন পরমাণু মিলে একটি সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু গঠন করে। অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অণুতে মোট দুটি পরমাণু রয়েছে।

ছকের ২নং পদার্থটি (ফ্লোরিন) মৌলিক অণু। অর্থাৎ ফ্লোরিন মৌলিক পদার্থ। কারণ ফ্লোরিন কে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ফ্লোরিন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে ২টি ফ্লোরিন পরমাণু মিলে ফ্লোরিন অণু গঠিত হয়।

আবার ছকের ৩নং পদার্থটি ১টি C (কার্বন) ও ২টি O (অক্সিজেন) পরমাণু দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড)। উৎপন্ন এর ধর্ম C ও O পরমাণু থেকে ভিন্ন। আবার যৌগটিকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে দুটি অক্সিজেন পরমাণু এবং একটি কার্বন পরমাণু পাওয়া যায়। জানা আছে, যে পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক ভিন্নধর্মী মৌল পাওয়া যায় সেই পদার্থটি যৌগিক পদার্থ। তাই (কার্বন ডাইঅক্সাইড) একটি যৌগিক পদার্থ।
পরমাণু হলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মৌলিক কণিকা দ্বারা গঠিত অতি ক্ষুদ্র কণা।
O এবং O2 এর মধ্যে পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
| O2 | |
| ১. O হচ্ছে অক্সিজেনের একটি পরমাণু। | ১. O2 হচ্ছে অক্সিজেনের একটি অণু, যা দুটি পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। |
| ২. O সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। | ২. O2 সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
