লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০ সালে পেশ করা হয়।
দ্বিজাতিত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪০ সালের ২২ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের ২৭তম অধিবেশনে তিনি দ্বিজাতিতত্ত্ব ঘোষণা দেন। নেহেরু রিপোর্টের প্রেক্ষাপটে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু-মুসলিম দুটি আলাদা জাতি। উভয়ের ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পূর্ণ পৃথক। তাই মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন অপরিহার্য বলে প্রস্তাব দেন। এটিই ইতিহাসে বিখ্যাত দ্বিজাতিতত্ত্ব নামে খ্যাত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের সাথে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবানা করলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বিকাল ৩ ঘটিকায় লক্ষ জনতার সম্মুখে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ১৮ মিনিটের এ ভাষণে তিনি জাতীয় জীবনের সর্বদিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ ভাষণে তিনি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর ২৪ বছরের শাসন-শোষণ ও অত্যাচারের কথা উল্লেখ করেছেন। এ ভাষণে তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বৈষম্যের - কথা তুলে ধরেছেন। সর্বোপরি এ ভাষণে তিনি কৌশলে স্বাধীনতার - ডাক দেন।
আলোচনা শেষে বলা যায় শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকনের 'গেটিসবার্গ এড্রেস' এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইসন চার্চিলের দেওয়া 'We shall fight an the Beaches' ভাষণের ন্যায় ৭ মার্চের ভাষণও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের দেওয়া 'গেটিসবার্গ এড্রেসের' ন্যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ৭ মার্চের ভাষণও বাঙালির অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে দাশপ্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং দাসদের সকল নাগরিক অধিকার প্রদান করেন।
এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়ে রাষ্ট্রে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তদ্রুপ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির ন্যায্য অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ভাষণে তিনি বাঙালিদের ২৪ বছরের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি এ ভাষণে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান। তিনি বাঙালিদের শোষিত ও শাসিত হওয়ার চিত্র তুলে ধরেছে। শেখ মুজিবুর রহমান কৌশলে এ ভাষণে স্বাধীনতা ডাক দেন। তিনি ঘোষণা
দিয়েছিলেন- "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" তার এ ভাষণে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা।
স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, আব্রাহাম লিংকনের ভাষণের চেয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ছিল অধিক দিক নির্দেশনামূলক।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একটি রাজনৈতিক দল হলো জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন আদায়, সামরিক শাসনের অবসান ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ফলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে সামরিক শাসনের অবসান, পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্ত্বশাসন ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
কেননা এতে ক্ষমতার পালা বদলের আশা তৈরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিস্তিনের নির্বাচনের সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্বাচনে হামাসের কাছে পিএলও হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করে। এতে ফিলিস্তিনের দুই অংশ গাজা ও পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্দীপকের নির্বাচন ও ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা ফিলিস্তিনের অনুরুপ ঘটনা পাকিস্তানেও ঘটেছিল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতনের পর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই ঘোষণা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ২৮ মার্চ ইয়াহিয়া খান নির্বাচনসংক্রান্ত আইন কাঠামোর ধারাগুলো ঘোষণা করে বলেন ১৯৭০ সালের ১ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়ে ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ ও ৬২১ জন সদস্য নিয়ে এটি প্রাদেশিক পরিষদ হবে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ংকরী ঝড়ের কারণে ৯টি প্রাদেশিক পরিষদের ১৭টি আসনের নির্বাচন হয় ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি।
বঙ্গবন্ধু এ নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৭টি আসন লাভ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা করতে থাকে। যার প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
অতএব উদ্দীপকের নির্বাচন ও নির্বাচনে হেরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতির ঘটনার সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।'
উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থার মতো ছিল না। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত
উদ্দীপকে প্রেসিডেন্ট ইসমাইল হানিয়া ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জনালে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হামাসের অধীনে গাজা এবং পিএলও-এর অধীনে থাকে পশ্চিম তীর। যদি উভয়ই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অধীনেই থাকে। কিন্তু উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার মতো পাকিস্তানের অবস্থা ছিল না। কেননা। ফিলিস্তিন একই রাষ্ট্র থাকলেও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও এর প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলে একসময় পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আওয়ামী লীগ ৭০-এর নির্বাচনে জিতলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালে ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও ১ মার্চ তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেন। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত হয়। 'জয় বাংলা' "পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/তোমার আমার ঠিকানা" 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।' স্লোগানে সারাদেশ মুখরিত হয় এবং ২ মার্চ পুলিশের গুলিতে শত শত লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ঢাকার পল্টন ময়দানে আহূত জনসভা থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশ শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালির বুকের তাজা রক্ত মাড়িয়ে ১০ মার্চে সর্বদলীয় বৈঠক বর্জন করেন। তিনি ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে আন্দোলন। পাকিস্তান সরকার এ আন্দোলন দমনে ২৫ মার্চ গণহত্যায় চালায় ফলে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক নতুন দেশ।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন দেশ সৃষ্টির সাথে উদ্দীপকের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার ভিন্নতা রয়েছে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ জন আসামি ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দিক নির্দেশনা ও বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়।
৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ৭ মার্চের ভাষণে লক্ষকোটি জনতার, উপস্থিত অনুপস্থিত শ্রোতার মনে স্বাধীনতার বীজ বপিত হয়। তারা এ ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝুঁপিয়ে পড়ে এবং মুক্তির আশা লাভ করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে 'ডকুমেন্টরি হেরিটেজ' বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!