মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচার করতো।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী। পাকিস্তানি বাহিনী চূড়ান্ত পরাজয়ের দু'দিন পূর্বে ১৪ ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তাদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
উদ্দীপকে হাত মিলানোর ঘটনার সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী গোষ্ঠী 'রাজাকার' এর মিল পাওয়া যায়।
২৫ মার্চ কালরাতের পরে সর্বাঙ্গীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি সরকার ও বর্বর সেনাবাহিনীর এদেশীয় কিছু দোসর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। তারা প্রকাশ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নানান তথ্য পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে পাচার করে দিত। ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারি করেন। শুরুতে আনসার, মুজাহিদদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। পরে পাকিস্তানপন্থী অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেয়। এই বাহিনী গঠনে জেনারেল নিয়াজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের সময় কিছু ইরাকি সাদ্দাম হোসেনের বিরোধিতা করে এবং মার্কিনীদের সাথে হাত মেলায়। এ সব বিশ্বাসঘাতকের সহায়তাকে পুঁজি করে মার্কিনীরা ইরাকে তাদের অভিযান জোরদার করে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে হাত মেলানো এ গোষ্ঠীর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী গোষ্ঠী রাজাকার বাহিনীর সাদৃশ্য রয়েছে।
স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী তথা রাজাকারের তৎপরতা ছাড়া পাকিস্তানি শাসকদের যুদ্ধকালীন দমন নীতি সহজ হতো না- মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তান সরকার তাদের স্বার্থে রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলেছিল। ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' জারি করেন। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হিসেবে এদেশীয় কিছু দালাল চক্র পাকিস্তানি বাহিনীকে অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। এমনকি সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী হত্যা, লুঠ, ধর্ষণ প্রভৃতি মানবতাবিরোধী অপরাধকর্ম সংঘটিত করেছে। তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের ঘাঁটি ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি, সম্পত্তির সন্ধান দিত। অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যায় এই সংগঠন দখলদার বাহিনীর বিশ্বস্ত সহচর ছিল।
উদ্দীপকে কিছু সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থান্বেষী ইরাকি মার্কিনীদের সাথে হাত মিলিয়ে স্বয়ং ইরাকের স্বার্থের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ সব বিশ্বাসঘাতকের সহায়তাকে পুঁজি করে মার্কিনীরা ইরাকে তাদের অভিযান জোরদার করে। অনুরূপভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতার ফলে পাকিস্তানি শাসকেরা তাদের দমন-পীড়ন, নির্যাতনে সফল হয়েছিল।
আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতা না পেলে পাকিস্তানি শাসকদের পক্ষে যুদ্ধকালীন দমন নীতি সহজ হতো না।
Related Question
View Allমুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ ও স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর হামলা করে। তারা এ দেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার চরিত্রে দয়া, সরলতা, উপস্থিত বুদ্ধি ও বাগ্মিতার সন্নিবেশ ঘটেছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি বাংলার মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এছাড়াও পশ্চিম পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে তিনি নিরীহ বাঙালিদের রক্ষা করেন। বীর বাঙালি তার নেতৃত্বে অস্ত্রধারণ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন দয়া, সরলতা, বাগ্মিতা ও মিষ্টি ব্যবহারের অধিকারী। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে গেছেন। তার এ বিষয়গুলোর সাথে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডের মিল দেখতে পাই।
উদ্দীপকের আব্রাহাম লিংকনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার বলিষ্ঠ ও আপোসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়া তিনি ১৯৬৬ সালের ছয়দফাভিত্তিক আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয় এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এর প্রথম প্রহরে তিনি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক এবং তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
'শিখা চিরন্তন' ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত।
১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!