বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভারত।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৫ মার্চ গভীর রাত হতে সমগ্র দেশে গণহত্যার ফলে শুরু হয় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় অস্থায়ী সরকারের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নামানুসারে এ সরকারের নাম হয় মুজিবনগর সরকার।
উদ্দীপকে আমার পঠিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণের ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
উদ্দীপকের ঘটনায় মার্কিন ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারিতে গেটিসবার্গে একটি বিখ্যাত ভাষণ প্রদান করেছিলেন। যে ভাষণে দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছিরেন ক্রীতদাসদের স্বাধীনতার কথা। এই একই স্বাধীনতার কথা ঘোষিত হয়েছিল আমার পঠিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণে। সমুদ্র সমান ভালবাসা দিয়ে যিনি বাংলাকে তথা বাঙালি জাতিকে গৌরবময় জীবনের সন্ধান দিয়েছিলেন, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পুরুষ, কালজয়ী মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান। ৭ মার্চ উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি রেসকোর্স ময়দানে। রেসকোর্সে সেদিন জনসমুদ্রের জোয়ার। বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, বাংলার এত মানুষ আজ স্বাধীনতাহীন, এত বাঙালি আজ ওদের বিরুদ্ধে লড়তে চায়! বঙ্গবন্ধুর মনোবল সেদিন সমুদ্রের মতো বিশাল হয়েছিল। সেদিন দৃপ্তকণ্ঠে তিনি শুনিয়েছিলেন মুক্তির অমোঘ বাণী, দিয়েছিলেন স্বাধীনতার অকৃত্রিম নির্দেশনা। যে ভাষণ দিয়েছিলে বাঙালিকে মাথা উঁচু করে। দাঁড়ানোর সাহস। যে ভাষণ দিয়েছিল স্বাধীনতার অঘ্যমালা। যেমনটি হয়েছিল উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতা আব্রাহম লিংকনের বিখ্যাত ভাষণের ফলে।
সুতরাং একথা বলতে বাধা নেই যে, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের সাদৃশ্য রয়েছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের ভাষণের ন্যায় আমার পঠিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণও ইতিহাসে এক কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এ মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণের তাৎপর্য বিশ্লেষণ জরুরি।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালির জাতীয় জীবনে এক কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। কেননা, এটি ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এ ভাষণ লক্ষ কোটি উপস্থিত-অনুপস্থিত শ্রোতার মনে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল।
এটি যুগ ও কালোত্তীর্ণ ভাষণ যার প্রায় প্রতিটি শব্দ বা বাক্য একটি করে ইতিহাস। ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে এ ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ভাষণের মাত্র কয়েকটি শব্দ বাঙালিকে দুর্বার করে তুলেছিল। তা হলো- "সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।" ৭ মার্চ ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত বাঙালি জাতির জন্য পাকিস্তানি' ঔপনিবেশিক শাসন- শোষণের শৃঙ্খলা ছিন্ন করে জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত সংগ্রামের ঘোষণা। নিউজ উইক ম্যাগাজিনের ভাষায় 'রাজনীতির কবি' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে দক্ষ কৌশলীর মতো তার সুনিপুণ উচ্চারণে স্বাধীনতার কথা এমনভাবে তুলে ধরলেন যাতে ঘোষণার কিছু বাকিও থাকল না। বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ ছিল বস্তুত স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতির ঘোষণা। অথচ তিনি এমন কৌশলীভাবে বললেন যেন তা বাঙালিদের বুঝতে বাকি থাকল না, আর পাকিস্তান কিছুই বুঝল না। যাই হোক তার এ ভাষণের প্রেক্ষিতেই বাঙালি তার ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে এবং ২৬ মার্চ তাঁর স্বাধীনতার ডাক শুনে যার যা কিছু ছিল, সে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। যা নিঃসন্দেহে একটি কালজয়ী অর্জন ছিল। সুতরাং উদ্দীপকের ভাষণের ন্যায় আমার পঠিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণও একটি কালজয়ী অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একটি রাজনৈতিক দল হলো জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন আদায়, সামরিক শাসনের অবসান ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ফলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে সামরিক শাসনের অবসান, পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্ত্বশাসন ও ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
কেননা এতে ক্ষমতার পালা বদলের আশা তৈরি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিস্তিনের নির্বাচনের সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্বাচনে হামাসের কাছে পিএলও হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করে। এতে ফিলিস্তিনের দুই অংশ গাজা ও পশ্চিম তীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্দীপকের নির্বাচন ও ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা ছাড়ার অস্বীকৃতির ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা ফিলিস্তিনের অনুরুপ ঘটনা পাকিস্তানেও ঘটেছিল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতনের পর ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে ২৬ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে দেশবাসীকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচিতদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দেন। ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই ঘোষণা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ২৮ মার্চ ইয়াহিয়া খান নির্বাচনসংক্রান্ত আইন কাঠামোর ধারাগুলো ঘোষণা করে বলেন ১৯৭০ সালের ১ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়ে ৩১৩ আসনের জাতীয় পরিষদ ও ৬২১ জন সদস্য নিয়ে এটি প্রাদেশিক পরিষদ হবে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ংকরী ঝড়ের কারণে ৯টি প্রাদেশিক পরিষদের ১৭টি আসনের নির্বাচন হয় ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি।
বঙ্গবন্ধু এ নির্বাচনে এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের মোট ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭টি মহিলা আসনসহ ১৬৭টি আসন লাভ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা করতে থাকে। যার প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
অতএব উদ্দীপকের নির্বাচন ও নির্বাচনে হেরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতির ঘটনার সাথে পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।'
উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা পাকিস্তানের অবস্থার মতো ছিল না। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত
উদ্দীপকে প্রেসিডেন্ট ইসমাইল হানিয়া ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জনালে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হামাসের অধীনে গাজা এবং পিএলও-এর অধীনে থাকে পশ্চিম তীর। যদি উভয়ই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অধীনেই থাকে। কিন্তু উদ্দীপকের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার মতো পাকিস্তানের অবস্থা ছিল না। কেননা। ফিলিস্তিন একই রাষ্ট্র থাকলেও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও এর প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলে একসময় পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। আওয়ামী লীগ ৭০-এর নির্বাচনে জিতলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালে ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও ১ মার্চ তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের ডাক দেন। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিণত হয়। 'জয় বাংলা' "পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/তোমার আমার ঠিকানা" 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।' স্লোগানে সারাদেশ মুখরিত হয় এবং ২ মার্চ পুলিশের গুলিতে শত শত লোক হতাহত হয়। পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ঢাকার পল্টন ময়দানে আহূত জনসভা থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশ শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালির বুকের তাজা রক্ত মাড়িয়ে ১০ মার্চে সর্বদলীয় বৈঠক বর্জন করেন। তিনি ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে আন্দোলন। পাকিস্তান সরকার এ আন্দোলন দমনে ২৫ মার্চ গণহত্যায় চালায় ফলে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক নতুন দেশ।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন দেশ সৃষ্টির সাথে উদ্দীপকের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নির্বাচন পরবর্তী অবস্থার ভিন্নতা রয়েছে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ৩৫ জন আসামি ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দিক নির্দেশনা ও বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয়।
৭ মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ৭ মার্চের ভাষণে লক্ষকোটি জনতার, উপস্থিত অনুপস্থিত শ্রোতার মনে স্বাধীনতার বীজ বপিত হয়। তারা এ ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝুঁপিয়ে পড়ে এবং মুক্তির আশা লাভ করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে 'ডকুমেন্টরি হেরিটেজ' বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!