মাশরাফি ও তার ৬ বন্ধু মিলে এমন একটি ব্যবসায় সংগঠন গঠন করার জন্য পরিকল্পনা করে যাতে জনগণ থেকেও মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই তারা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে একটি সনদ ইস্যু করেন। কিন্তু ব্যবসায় শুরু করার জন্য আরও দলিলপত্রসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করলে একজন শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি আইন মোতাবেক কোম্পানির পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে তাকে যোগ্যতাসূচক শেয়ার বলে।

উত্তরঃ

কোম্পানির বিধিমালা বা ধারাসমূহের বর্ণনার তালিকাকে তফসিল A বলে।

নির্দিষ্ট ধারা বা বিধিমালা অনুযায়ী কোম্পনি গঠিত ও পরিচালিত হয়। তফসিল A-তে ধারাসমূহের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও আলোচনা করা থাকে। এতে কোম্পানির পরিচালনাসংক্রান্ত সব নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ থাকে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের মাশরাফির ব্যবসায় সংগঠনের মালিকনাভিত্তিক ধরন হলো কোম্পানি সংগঠনের আওতাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।

যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ এবং সর্বোচ্চ স্মারকলিপিতে উল্লেখ শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ, শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের উদ্দেশ্যে বিক্রয়ের জন্য আহবান জানানো যায় তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে।

উদ্দীপকে মাশরাফি ও তার ৬ বন্ধু মিলে এমন একটি ব্যবসায় সংগঠন গঠন করার জন্য পরিকল্পনা করে যাতে জনগণ থেকেও মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব। মাশরাফির ব্যবসায় সংগঠনে সর্বনিম্ন ৭ জন সদস্য রয়েছে এবং তারা জনগণ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে যেগুলো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মাশরাফির ব্যবসায় সংগঠনের মালিকনাভিত্তিক ধরন হলো পারলিক লিমিটেড কোম্পানি।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মাশরাফিদের করণীয় হলো কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

নিবন্ধনপত্র সংগ্রহের পর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি তার কাজ শুরুর পূর্বে নিবন্ধক থেকে অনুমতি লাভের জন্য যে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে এ পর্যায়কেই কার্যারম্ভ পর্যায় বলে। কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহের জন্য পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ১৫০ ধারা অনুসারে কিছু বিধান পালন করতে হয়।

উদ্দীপকের মাশরাফিদের কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র আবশ্যক। কেননা কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র ব্যতীত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে পারে না। এ জন্যে তাদেরকে বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে। এ পর্যায়ে মাশরাফিদের বড় কাজ হলো প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা। এজন্য স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ ও পরিচালকগণের নিকট থেকে যোগ্যতাসূচক শেয়ারের অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে জনগণ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য বিবরণপত্র প্রস্তুত করতে হবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে বিবরণপত্র প্রচারের পূর্বে নিবন্ধক এবং প্রয়োজনে Stock Exchange Commission (SEC)-এর অনুমতি নিতে হবে। নিজেদের মধ্য থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে বিবরণপত্রের অনুরূপ বিকল্প বিবৃতি নিবন্ধকের নিকট জমাদানের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করতে হবে। অতঃপর কোম্পানি আইনের ১৫০ (১) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধকের নিকট নিম্নোক্ত দলিলাদি পেশ করতে হবে:

(ক) পরিচালকগণ তাদের প্রতিশ্রুত শেয়ার নগদে ক্রয় করেছেন এ মর্মে ঘোষণাপত্র;

(খ) সংঘবিধিতে উল্লেখ ন্যূনতম মূলধন সংগৃহীত হয়েছে এ মর্মে ঘোষণাপত্র এবং

(গ) বিবরণপত্র বা বিবরণপত্রের বিকল্প বিবৃতির কপি।

উক্ত দলিলাদি প্রাপ্ত হয়ে নিবন্ধক সন্তুষ্ট হলে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র (Cerificate of commencement) প্রদান করবে।

সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মাশরাফিদের করণীয় হলো কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

216

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারায় সূচনা লগ্নে ব্যবসায়ের পরিসর ছিল অল্প ও সংকীর্ণ, তাই এর সাংগঠনিক রূপ ছিল সহজ, ছোট। যেমন—একমালিকানা, অংশীদারি। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি হতে শুরু হয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হলে শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। পূর্বেকার কায়িকশ্রমের স্থান দখল করে নেয় যন্ত্রপাতি এবং শুরু হয় বৃহদায়তন উৎপাদনের পালা । এমতাবস্থায় ব্যবসায় সংগঠনের প্রাথমিক রূপ তথা একমালিকানা ব্যবসায় এবং অংশীদারি ব্যবসায়ের পক্ষে এদের কতিপয় সীমাবদ্ধতার কারণে বৃহদায়তন পণ্যদ্রব্যাদির উৎপাদন ও বণ্টন কার্য পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলাতে যেয়ে অধিক মূলধন, সীমাবদ্ধ দায়, দক্ষ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং চিরন্তন অস্তিত্বের সুবিধা নিয়ে যুগোপযোগী ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের উদ্ভব ঘটে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা জানতে পারব—

  • কোম্পানী সংগঠনের ধারণা।
  • কোম্পানী সংগঠনের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
  • কোম্পানী সংগঠনের প্রকারভেদ ।
  • পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর মধ্যে পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের গুরুত্ব।
  • কোম্পানী সংগঠনের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা।
  • কোম্পানী সংগঠনের গঠন প্রক্রিয়া ।
  1. পরিমেলবন্ধের ধারণা, বিষয়বস্তু ও নমুনা
  2. পরিমেলবন্ধের গুরুত্ব
  3. পরিমেল নিয়মাবলির ধারণা ও বিষয়বস্তু 
  4. পরিমেলবন্ধ ও পরিমেল নিয়মাবলির পার্থক্য
  5. বিবরণপত্রের বিষয়বস্তুসমূহ
  • কোম্পানী নিবন্ধনপত্রের ধারণা ও নমুনা ।
  • কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র ।
  • কোম্পানীর মূলধন সংগ্রহের উৎসসমূহ।
  • শেয়ার এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • ঋণপত্র এর ধারণা এবং প্রকারভেদ।
  • শেয়ার ও ঋণপত্রের পার্থক্য।
  • কোম্পানী সংগঠনের বিলোপ সাধন পদ্ধতি ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ।
  • বাংলাদেশে কোম্পানী সংগঠনের ভবিষ্যত সম্ভাবনার দিকগুলো ।
  • সাম্প্রতিককালের বিকাশমান ব্যবসায়গুলোর ধারণা।

সূত্র: ক্যামব্রিয়ান পাবলিকেশন্স

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews