একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা এবং ইবাদতের একমাত্র হকদার বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস ও স্বীকার করাই তাওহিদ।
ইমানের মূলকথা হলো আল্লাহর একত্বের বা তাওহিদের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস। ইসলামের সকল বিধান এবং সকল শিক্ষাই তাওহিদে বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ কারণেই মাসুদ তাওহিদে বিশ্বাস করে।
উদ্দীপকে মাসুদ আলিকে তাওহিদে বিশ্বাসের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য যুক্তি দিয়ে বুঝায় যে, এ বিশাল সৃষ্টি জগতের একজন সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক অবশ্যই আছেন।
যুগে যুগে মানুষ যখনই তাওহিদের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা শুরু করেছে তখনই তারা বিপথগামী হয়েছে। আর তাদের হিদায়েতের জন্য আল্লাহ পাক অসংখ্য নবি-রাসুলগণকে তাওহিদের দাওয়াতসহ প্রেরণ করেছেন। আর তাওহিদের প্রতি বিশ্বাসই মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।
আলি তাওহিদে বিশ্বাস করে না। সে প্রকৃতিকেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রক মনে করে। আলির সহপাঠী মাসুদ তাকে তাওহিদে বিশ্বাসের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সে তাকে বোঝায়, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। পৃথিবীর সবকিছুরই যেমন একজন কারিগর বা স্রষ্টা থাকেন, তেমনি এ বিশাল সৃষ্টির এক মহাপরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। তিনি হলেন আল্লাহ।
নিখিল বিশ্বের সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র, আল্লাহ- উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য।
কত সুন্দর আমাদের পৃথিবী। আমাদের মাথার উপর বিশাল আকাশ। পৃথিবী ও আকাশের মাঝে রয়েছে চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র। আছে ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ। সৃষ্টির সূচনা থেকে এগুলো একটি নির্ধারিত নিয়মে পরিচালিত হয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে নেই কোনো সংঘাত এবং সংঘর্ষ। পৃথিবীতে আছে নদীনালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত। এগুলো একটি নিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দিন-রাতের আবর্তন, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, কোনোকিছুতেই কোনো প্রকার অনিয়ম নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এ বিশাল সৃষ্টির এক মহাশক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। একের অধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে এরূপ নিয়মশৃঙ্খলা থাকত না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে, আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেত।" (সূরা আম্বিয়া: ২২) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "তাঁর (আল্লাহর) সাথে কোনো ইলাহ নেই। যদি তা থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টিকে নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত।" (সূরা মু'মিনূন: ৯১) উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, তাওহিদে অবিশ্বাসী আলিকে বোঝানোর জন্য মাসুদ বলে যে, এ বিশাল সৃষ্টিজগতের পিছনে একজন শক্তিশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। একের অধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে এরূপ নিয়মশৃঙ্খলা থাকত না। অতএব, বিশ্ব নিখিলের সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা।
উক্ত আয়াতেও প্রমাণিত হয়, নিখিল বিশ্বের সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি মহান, এক, অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। সুতরাং উল্লিখিত উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।
Related Question
View Allতাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা।
আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে দুনিয়ার ভালো কাজের জন্য জান্নাত লাভ করবে এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম পাবে। আখিরাতে অবিশ্বাস করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। আর এজন্যই মুত্তাকি আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
নামাযের প্রতি রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো একটির অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। যেমন- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করা কুফর। নামায যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদত সেহেতু এটি অস্বীকার করা কুফরি।
উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, সমাজপতি রাজা মিয়া তার প্রকল্পে কর্মরত জনাব ফরিদ উদ্দিনকে নামায পড়তে নিষেধ করে বলেন, নামায আবার কিসের জন্য, কাজ কর তাহলেই সুখ পাবে। এজন্য রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আখিরাতে বিশ্বাস ফরিদ উদ্দিনকে নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে সে আখিরাতে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তাঁর আবাসস্থল হবে চিরশান্তির জান্নাত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ইমান আনবে না এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ করবে সে আখিরাতে শাস্তি ভোগ করবে। সর্বোপরি আখিরাতে বিশ্বাস করলে মানবজীবন সুন্দর হয়। মানুষ উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সবধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
ফরিদ উদ্দিন বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হলো আমল করার স্থান। আখিরাত হলো ফলভোগের স্থান। আখিরাতে মানুষ কোনো আমল করতে পারবে না। বরং দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ আমল করেছে সেরূপ ফল ভোগ করবে।
সুতরাং বলা যায়, যে মূল বিশ্বাসের ফলে ফরিদ উদ্দিন নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল, সেটি হলো আখিরাতে বিশ্বাস।
আসমাউল হুসনা' অর্থ সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামসমূহকেই 'আসমাউল হুসনা' বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালা অতুলনীয়। তাঁর সত্তা যেমন অনাদি ও অনন্ত, তাঁর গুণাবলিও তেমনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালার এসব গুণ নানা শব্দে নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়। এসব গুণের প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, দয়াবান, ক্ষমাশীল, শান্তিদাতা ও পরাক্রমশালী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান; তিনিই মালিক। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং বলা হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!