বস্ত্র ছাপার মূল উপকরণ হলো রং।
বস্ত্রের আকর্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যে সকল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে বস্ত্র ছাপা অন্যতম। রুচি প্রকাশের জন্য বস্ত্রের ওপর স্থান বিশেষে বিভিন্ন রং প্রতিফলিত করার প্রণালিকে বস্ত্র ছাপা বলে। এ পদ্ধতিতে কাপড়ের ওপর বিভিন্ন রঙের নকশা তৈরি করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।
বস্ত্রকে আকর্ষণীয় করার অন্যতম উপায় হলো বস্ত্র রং করা। মাসুদ সাহেব তার দোকানের কিছু কাপড়ে রং করে তার আকর্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায়। কিন্তু বস্ত্র রং করার উপায় হলো সম্পূর্ণ বস্তুটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে, একই গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করা। আবার রং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মাত্রায় রং নিয়ে তার সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি বা কোনো দ্রবণ যোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ঘনত্বের দ্রবণে এবং মোটামুটি অনেক সময় ধরে বস্ত্রকে নিমজ্জিত রাখা হয়। কিন্তু মাসুদ সাহেব কাপড়গুলো বেশি ঘনত্বের দ্রবণে কম সময় রেখে দ্রুত তুলে ফেলেন। এতে করে কাপড়ের গুণগত মান কমে যায় এবং কাপড়গুলো তার আকর্ষণ ক্ষমতা হারায়। ফলে তা ক্রেতাদের কাছে দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠে নি। তাই কাপড়গুলোর বিক্রি না হওয়ার ফলে দোকানে অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে যায়।
মাসুদ সাহেব তার দোকানের কাপড়গুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর মধ্যে একটি হলো বস্ত্র রং করা ও অন্যটি বস্ত্র ছাপা। নিম্নে দুটি পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
প্রথমটিতে সম্পূর্ণ বস্ত্রটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে একই গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করে তোলা হয়। আবার রং করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মাত্রায় রং নিয়ে, তার সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি বা অন্য কোনো দ্রবণ যোগ করা হয়। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম ঘনত্বের দ্রবণে এবং মোটামুটি অনেক সময় ধরে বস্ত্রকে নিমজ্জিত রাখা হয়। প্রথমদিকে তাপমাত্রা কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়। যাতে বস্ত্রের সব জায়গায় সমানভাবে রং লাগে।
অপরদিকে বস্ত্র ছাপার ক্ষেত্রে বস্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এক বা একাধিক বর্ণের সমারোহ ঘটিয়ে বস্ত্রটিকে নকশা অনুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়। ছাপার বেলায় বেশি ঘনত্বের রঙের পেস্ট ব্যবহার করা হয়। যা বস্ত্রের উপরিভাগে শুধুমাত্র নকশাযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা হয়। এরপর দ্রুত শুকিয়ে তাপ বা বাষ্প ব্যবহার করে সেই রংকে বস্ত্রের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট জায়গায় অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাকি রং ধুয়ে বের করে ফেলা হয়। বস্ত্র ছাপা ও রং করার ক্ষেত্রে যেসব যন্ত্রপাতি থাকে তাতেও ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
Related Question
View Allকারখানায় প্রস্তুতকৃত বস্তুকে গ্রে ফেব্রিক বলে।
বস্ত্র রং করা ও ছাপার মধ্যে মূলগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। রং করা পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বস্তুটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে ও গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করে তোলা হয়। পক্ষান্তরে ছাপা পদ্ধতিতে বস্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এক বা একাধিক বর্ণের সমারোহ ঘটিয়ে বস্তুটিকে নকশানুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়। রংকরণের ক্ষেত্রে কম ঘনত্বের, আর ছাপার ক্ষেত্রে বেশি ঘনত্বের রং ব্যবহার করা হয়।
তরুর কাপড়গুলো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণ হলো সঠিক পদ্ধতিতে ব্লক না করা।
তরু প্রুসিয়ান রং দিয়ে কাপড়ে ব্লক প্রিন্ট করে। এ পদ্ধতিতে রং ভালোভাবে ব্লকে লাগিয়ে কাপড়ের উপর ছাপ দিলেই ছাপা হয়ে যায়। রঙের প্রস্তুত প্রণালি জানা থাকলে নিজের পছন্দমতো রং তৈরি করে ছাপ দেয়া যায়। তবে প্রিন্ট করার পর প্রুসিয়ান রঙের ক্ষেত্রে কাপড় স্টিম ও ধোলাই করতে হয়। স্টিমিং এর জন্য একটি হাঁড়িতে পানি ফুটাতে হয়। এরপর চট দিয়ে কাপড়টি ঢেকে হাঁড়ির উপর একটি চালনি বসিয়ে তার উপর কাপড়টি রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে স্টিমিং করা হয়।
তরু এ সকল পর্যায়গুলো অতিক্রম না করে শুধু রং করেই তার দোকানে কাপড়গুলো নিয়ে যাওয়ায় এগুলো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকে।
কাপড় ব্যবসায়ী তরু সচেতনতার অভাবে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। তাই তাকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তরু কাপড়ের ব্যবসা করলেও কোন কাপড় কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখেন না। ব্যবসায় সফলতার জন্য প্রয়োজন এ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান।
তরু প্রুসিয়ান রং দিয়ে ব্লক করা কাপড়গুলো স্টিম ও ধোলাই না করে সরাসরি দোকানে নিয়ে আসে। ফলে তার কাপড়গুলো অবিক্রিত অবস্থায় দোকানেই রয়ে যায়। তিনি যদি এ বিষয়ে সচেতন থাকতেন তবে কাপড়ে রং করার পর সেগুলো হাঁড়িতে পানি গরম করে চট দিয়ে ঢেকে হাঁড়ির উপর একটি চালনি বসিয়ে কাপড়টি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে স্টিমিং করতেন। তাহলে তার রং করা কাপড়গুলো ঠিক থাকত এবং দোকানে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকত না। তরু যদি ব্যবসার ক্ষেত্রে আরও একটু সচেতন হয় তবেই সে তার এসকল ভুল সংশোধন করতে এবং ব্যবসায় সফলতা অর্জন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
তাই বলা যায় ব্যবসায় সাফল্যের জন্য তরুকে আরো সচেতন হতে হবে- মন্তব্যটি যথার্থ।
কারখানায় প্রস্তুতকৃত বস্তুকে গ্রে ফেব্রিক বলে।
বস্ত্র রং করা ও ছাপার মধ্যে মূলগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। রং করা পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বস্তুটিকে ধারাবাহিকভাবে একই বর্ণে ও গাঢ়ত্বে সমভাবে রঞ্জিত করে তোলা হয়। পক্ষান্তরে ছাপা পদ্ধতিতে বস্ত্রের নির্দিষ্ট স্থানে এক বা একাধিক বর্ণের সমারোহ ঘটিয়ে বস্তুটিকে নকশানুযায়ী ফুটিয়ে তোলা হয়। রংকরণের ক্ষেত্রে কম ঘনত্বের, আর ছাপার ক্ষেত্রে বেশি ঘনত্বের রং ব্যবহার করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!