মাসুদ সাহেব বাজার থেকে ফিরে বিরক্তির সুরে তার সহকর্মীকে বলতে লাগলেন, আর বলবেন না ভাই, গত বছর সবজি ও মাছ প্রতি কেজি ১০ ও ২০০ টাকায় কিনেছি। কিন্তু এবার অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এই দেখুন না, সবজি ও মাছ প্রতি কেজি কিনলাম ২০ টাকা ও ৩০০ টাকা দরে।

Updated: 3 months ago
উত্তরঃ

যে সূচকে কতিপয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যয় পরিমাপ করা হয়, তা-ই হলো ভোক্তার দাম সূচক।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

বর্তমান বছরের ব্যয়ের সাথে ভিত্তি বছরের ব্যয়ের তুলনা করে ভোক্তার দাম সূচক তৈরি করা হয়। ভিত্তি বছরের দামস্তরকে ১০০ ধরে সাধারণত ভোক্তার দাম সূচক যে হারে বৃদ্ধি পায়, সে হারকে মুদ্রাস্ফীতির হার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে
দাম সূচক (CPI) নিম্নরূপে হিসাব করা হয়-

ভোক্তার দাম সূচক (CPI)  =PnQn POQO×100

এখানে,Pn= বর্তমান সময়ের দাম,

PO= দ্রব্যের পরিমাণ,
QO= ভিত্তি বছরের দাম।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মাসুদ সাহেব সবজি ও মাছের দামে পার্থক্য দেখতে পান। গত বছর সবজি ও মাছ প্রতি কেজি যথাক্রমে ১০ ও ২০০ টাকা ছিল। বর্তমানে সেগুলোর দাম প্রতি কেজি যথাক্রমে ২০ ও ৩০০ টাকা হয়েছে। এখানে সবজি ও মাছের দামে যে পরিমাণ পার্থক্য লক্ষণীয়, তা ভোক্তার দাম সূচকে দেখানো হলো-

ভোগ্যদ্রব্যের নামভিত্তি বছরবর্তমান বছর
পরিমাণদামব্যয়দামব্যয়
সবজি১ কেজি১০১০২০২০
মাছ১ কেজি২০০২০০৩০০৩০০
মোট ব্যয়

PO QO

= ২১০

Pn QO

= ৩২০

ভোক্তার দাম সূচক (CPI)= = PnQO PO QO×

=×    

=× .

সুতরাং দামস্তরের বৃদ্ধি হয়েছে (১৫২.৩৮ – ১০০) = ৫২.৩৮%।
অতএব এ ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫২.৩৮% বলা হয়ে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সবজি ও মাছের দামে গত বছর এবং এ বছরের যে পার্থক্য হয়েছে, তা দামস্তর বৃদ্ধি তথা মুদ্রাস্ফীতির জন্য। বিভিন্ন কারণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

⇨ মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো অর্থের যোগান বৃদ্ধি, যার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু দ্রব্যের যোগান বৃদ্ধি না পেলে দামস্তর বৃদ্ধি পায়, ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়।

⇨ আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কল্যাণমূলক ধারণা প্রবর্তনের ফলে প্রতিটি দেশকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকারি ব্যয় যে হারে বৃদ্ধি পায়, সেই অনুপাতে উৎপাদন না বাড়লে দামস্তর বেড়ে যায়।

⇨ দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। সরকারের আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হলে ঘাটতি ব্যয়ের সৃষ্টি হয়। মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ উৎপাদন হ্রাস পাওয়া। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে দেশের মোট উৎপাদন হ্রাস পেলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

⇨ শ্রমিক সংঘ আন্দোলন, দর-কষাকষি, সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সক্ষম হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, ফলে দামস্তর বৃদ্ধি পায় ও মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয়।

⇨ সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর পরিবর্তন হয়ে বেতন বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে অর্থের যোগান বাড়ে ও মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয়।

⇨ যুদ্ধ-ব্যয় মেটাতে সরকার নতুন মুদ্রার প্রচলন করে অর্থের যোগান বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, অনাবৃষ্টি, খরা ইত্যাদি উৎপাদনকে মারাত্মক ব্যাহত করে, ফলে দামস্তর বৃদ্ধি পায় ও মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত কারণে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে থাকে যা উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়নি।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
37
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

দামস্তর বৃদ্ধির মাত্রা বা হার অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
79
উত্তরঃ

সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের চেয়ে বেশি হলে দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটে। দামস্তরের এ ধরনের বৃদ্ধিকে চাহিদা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে। সাধারণত দ্রব্যবাজারে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। চাহিদা বৃদ্ধিজনিত। মুদ্রাস্ফীতি মূল্য বাড়ার প্রত্যাশা দ্বারা প্রভাবিত হয়। এ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমুখী মুদ্রা এবং ফিসক্যাল নীতি অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
95
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ।
সাধারণভাবে দেখা যায় যে, উন্নয়নশীল দেশে সম্পদের স্বল্পতা, মূলধনের অভাব, প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থের যোগান দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে
মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশেও ঠিক একই অবস্থা বর্তমান।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর থেকে এ দেশে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৩৫%। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শেষে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৬.৪১%। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সার্বিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৯২%-এ দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতির পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মজুদ ও চোরাচালানের খুব বেশি প্রভাব রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি সহনীয় রাখার জন্য সরকার রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
72
উত্তরঃ

যেকোনো দেশে মুদ্রাস্ফীতি সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশেও একই অবস্থা বিরাজমান। নিচে উক্ত বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো-

মুদ্রাস্ফীতি পূর্ণ নিয়োগপূর্ব অবস্থায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে মুনাফার প্রত্যাশা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়। কিন্তু পূর্ণ নিয়োগ-পরবর্তী অবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন ব্যাহত করে। মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদনের মতো কর্মসংস্থানেও একই ধরনের প্রভাব ফেলে। যখন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, তখন কর্মসংস্থান বা নিয়োগ বেশি থাকে, আবার উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান বা নিয়োগ কমে যায়।
মুদ্রাস্ফীতি আয় ও সম্পদ বণ্টনের উপর কখনও ইতিবাচক, আবার কখনও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। আয় ও সম্পদের পূর্ণ বণ্টনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে কেউ লাভবান, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুদ্রাস্ফীতি দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটানোর ফলে রপ্তানির পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়। মুদ্রাস্ফীতির সময় কর, মুনাফা ইত্যাদি বৃদ্ধি পায় বলে সরকারি আয় বেড়ে যায়, আবার দামস্তর বৃদ্ধির কারণে সরকারি ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। মুদ্রাস্ফীতি সামাজিক শ্রেণি বিভাজনের সৃষ্টি করে, ফলে সমাজে ধনবৈষম্য, অর্থাৎ ধনী-দরিদ্র বিরোধ ও অসন্তোষ বিরাজ করে। কলকারখানার শ্রমিক-মালিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। সার্বিকভাবে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়ে সমাজজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। মুদ্রাস্ফীতি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে বলে রাজনৈতিক পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।
সবশেষে বলা যায়, স্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য সমস্যা না হলেও ক্রমাগত দামস্তরের বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে অর্থনীতিতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
77
উত্তরঃ

যে সূচকে কতিপয় দ্রব্য ও সেবা ক্রয়ের ব্যয় পরিমাপ করা হয়, তা-ই হলো ভোক্তার দাম সূচক।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
108
উত্তরঃ

বর্তমান বছরের ব্যয়ের সাথে ভিত্তি বছরের ব্যয়ের তুলনা করে ভোক্তার দাম সূচক তৈরি করা হয়। ভিত্তি বছরের দামস্তরকে ১০০ ধরে সাধারণত ভোক্তার দাম সূচক যে হারে বৃদ্ধি পায়, সে হারকে মুদ্রাস্ফীতির হার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে
দাম সূচক (CPI) নিম্নরূপে হিসাব করা হয়-

ভোক্তার দাম সূচক (CPI)  =PnQn POQO×100

এখানে,Pn= বর্তমান সময়ের দাম,

PO= দ্রব্যের পরিমাণ,
QO= ভিত্তি বছরের দাম।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
88
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews