বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অধিকার ও ক্ষমতা।
রাষ্ট্র এ ক্ষমতা দিয়ে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যে কাউকে যেকোনো নির্দেশ দিতে পারে। তাকে সে আদেশ পালনে বাধ্য করতে পারে। সার্বভৌমত্বের কারণে রাষ্ট্র অন্য কোনো দেশ বা শক্তির নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থাকে।
ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশের একটি শহর। যার নিজস্ব সরকার ও সার্বভৌমত্ব নেই। তাই মাসুম ঢাকার নাগরিক নয়।
উদ্দীপকে মাসুম নিজেকে ঢাকার নাগরিক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু কোনো জায়গার নাগরিক হতে হলে সেই জায়গাটিকে রাষ্ট্র হতে হবে। রাষ্ট্র হতে হলে জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব প্রয়োজন। এ চারটি উপাদানের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে একটি রাষ্ট্র। ঢাকা এমন একটি শহর যেখানে নির্দিষ্ট জনসমষ্টি ও ভূখণ্ড রয়েছে কিন্তু এই শহরের নিজস্ব সরকার ও সার্বভৌমত্ব নেই। তাহলে এটি রাষ্ট্র নয়।
সুতরাং ঢাকা রাষ্ট্র না হওয়ায় মাসুমও এর নাগরিক হবে না।
মাহবুব বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তার এ পরিচয়ই সঠিক।
রাষ্ট্র হলো এমন একটি সংগঠন যার একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র হতে হলে চারটি উপাদান অপরিহার্য। আর রাষ্ট্র না হলে তার নাগরিক হওয়া যায় না।
বাংলাদেশের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী, ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব বিদ্যমান রয়েছে বিধায় বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র এবং মাহবুব বাংলাদেশের নাগরিক।
বাংলাদেশে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে আমরা এ ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছি। সরকারের সকল নিয়মকানুন ও আদেশ-নিষেধ জনগণ মেনে চলে। সরকার দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে ও অন্যদেশের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রেখে দেশ শাসন করে। এ কারণেই অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা। তাই উপরিউক্ত উপাদানগুলোর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্র এবং মাহবুব সেই রাষ্ট্রের নাগরিক। সুতরাং মাহবুবের পরিচয়টি-ই সঠিক।
Related Question
View Allনাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করে।
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়াও ভিন্ন দেশের অনেক লোক বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তারা এদেশের সরকারের বা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয়।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
অনুমোদনসূত্রে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসায় বাণিজ্য ছাড়াও নানা কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ওই দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রের কাছে ওই ব্যক্তি আবেদন করেন। আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়িভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভের কিছু শর্ত আছে।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন কেননা, জাকির সাহেব ওই রাষ্ট্রের সম্পত্তি কিনেছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন, তিনি ওই রাষ্ট্রে চাকরিরত আছেন, তিনি ওই দেশের ভাষা জানেন, তিনি ভালো চরিত্রের অধিকারী ও তিনি উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হয়েছেন। অনুমোদন সূত্রে নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি উপরের শর্তগুলোর এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। আর এভাবেই জাকির সাহেব আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
উদ্দীপকে জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
অন্যদিকে স্বনন দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে। এ দুই নাগরিকতার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।
এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করে ওই রাষ্ট্রের অনুমোদন সাপেক্ষে নাগরিকত্ব লাভকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ বলে। আবার একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে।
উদ্দীপক অনুযায়ী জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। আর জাকির সাহেব আমেরিকায় থাকা অবস্থায় স্বনন জন্মলাভ করেছে। সেক্ষেত্রে স্বনন আমেরিকার নাগরিক। আবার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় স্বনন বাংলাদেশেরও নাগরিক। অর্থাৎ সে দ্বৈত-নাগরিকত্ব লাভ করেছে।
জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। স্বনন আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছে বিধায় সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিক। জাকির সাহেব প্রায় ২০ বছর যাবৎ আমেরিকাতে বসবাস করছেন বিধায় তিনি আমেরিকার নাগরিক। প্রাপ্তবয়স্ক হলে স্বনন ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবে। জাকির সাহেব নিয়মিত আয়কর দেন। দেশের আইনকানুন মেনে চলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি তহবিল পরিচালনা করেন। স্বননের নাগরিকত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন কিছুই করার প্রয়োজন নেই। তরে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের জাকির সাহেব ও তার সন্তান স্বননের
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের - মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়।
একই ব্যক্তি দুটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বিনাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ওই দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। এক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে, এটিই দ্বৈত-নাগরিকত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!